সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: বন্যার জলে ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা রাজ্য সরকারের দেওয়া শস্য বিমার টাকা পেতে শুরু করেছেন ইতিমধ্যেই। মূলত বন্যার জলে ধান ও ভুট্টা এই দুইটি শস্যের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ পাচ্ছেন চাষিরা। নবদ্বীপ ব্লকে ৬৪১২ জন চাষির আবেদন জমা পড়লেও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে ৪৫৪৪ জন চাষিকে ক্ষতিপূরণ দিচ্ছেন সরকারি আধিকারিকরা। স্যাটেলাইট পিকচার, রিমোট সেন্সিংয়ের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের চিহ্নিত করে তাঁদের এই ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে।
Advertisement
উল্লেখ্য, নবদ্বীপ ব্লকের আটটির মধ্যে ভাগীরথী তীরবর্তী চারটি পঞ্চায়েতের চাষিরা, যাঁদের জমিতে ভাগীরথীর জল ঢুকে ধান ও ভুট্টার ক্ষতি হয়েছে, তাঁরাই এই ক্ষতিপূরণ পাচ্ছেন। নবদ্বীপ ব্লকে আটটি পঞ্চায়েত এলাকায় প্রায় চোদ্দ হাজার বিঘা ধান ও চার হাজার বিঘায় ভুট্টার চাষ হয়। কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ব্লকের মায়াপুর-বামুনপুকুর ১ ও ২, ফকিরডাঙা- ঘোলাপাড়া, মহিশুরা এই সমস্ত পঞ্চায়েতে খরিফ ধান ও ভুট্টার ক্ষতি হয়েছে। অতিবর্ষণ ও ভাগীরথীর জল বেড়ে যাওয়ায় নদী তীরবর্তী কৃষিজমিতে জল ঢুকে ধান ও ভুট্টার এই ক্ষতি হয়। অতি বর্ষণ ও ভাগীরথীর জল বেড়ে যাওয়ায় নদী তীরবর্তী এই চারটি পঞ্চায়েতের কমবেশি সাত হাজার সাতশো বিঘা ধান ও ভুট্টার ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে খরিফ ধানের ক্ষতি হয়েছে পাঁচ হাজার পাঁচশো বিঘা আর বাইশশো বিঘার ভুট্টার ক্ষতি হয়েছে। বাংলার শস্য বিমার যাঁরা আবেদন করেছিলেন তাঁদের মধ্যে থেকে ক্ষতিপূরণ প্রাপ্তের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। ধান এবং ভুট্টা এই দুটি ফসলই বিমার আওতার মধ্যে রয়েছে। গাইডলাইন অনুযায়ী ধান ও ভুট্টা বাদে অন্য কোনও সব্জির ক্ষেত্রে বাংলার শস্য বিমার টাকা পাওয়া যাবে না। খরিফ মরসুমে বন্যার জলে ক্ষতিগ্রস্তরা এই ব্লকে ২ কোটি ২০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ পাবেন। নবদ্বীপ ব্লকের ভাগীরথী তীরবর্তী চারটি পঞ্চায়েত এলাকায় প্রধানত তিনটি কারণে জমিগুলি চিহ্নিত করা গিয়েছে। প্রথমত, ভাগীরথীর জলে জমির ফসল প্লাবিত হতে হবে। দ্বিতীয় অবশ্যই বাংলার শস্য বিমার ফর্ম পূরণ করতে হবে এবং তৃতীয়ত, জমিতে ধান ও ভুট্টা থাকতে হবে।



