Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

শিশির বসুর বাড়ি ‘হেরিটেজ’,  ‘ব্লু-প্লাক’ বসাবে কলকাতা পুরসভা

শিশির বসুর বাড়ি ‘হেরিটেজ’,  ‘ব্লু-প্লাক’ বসাবে কলকাতা পুরসভা
  • ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ভাইপো শিশির বসুর বাড়ি হেরিটেজ হিসেবে ঘোষণা করা হল। শরৎ বোস রোডের এই  বাড়িটিকে হেরিটেজ তকমা দিল কলকাতা পুরসভা। 
Advertisement
বাড়িটির অন্দরমহলজুড়ে ঐতিহাসিক নিদর্শন ছড়িয়ে আছে। একাধিক ছবি, আজাদ হিন্দ বাহিনীর বিবিধ তথ্য ইত্যাদি রয়েছে। এই অমূল্য ভাণ্ডার থাকার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে হেরিটেজ তকমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বাড়ির মালিকপক্ষের সম্পত্তিতে এ কাজ হয়েছে। কলকাতা পুরসভা জানিয়েছে, খুব শীঘ্রই ‘ব্লু-প্লাক’ বসানো হবে।
৯০ শরৎ বোস রোড। এখানে থাকতেন নেতাজির ভাইপো ও শরৎ বসুর পুত্র শিশির বসু। তিনি ছিলেন খ্যাতনামা চিকিৎসক। তাঁর সঙ্গে বিবাহ হয়েছিল কৃষ্ণা বসুর। পরবর্তীকালে কৃষ্ণাদেবী তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। শিশির এবং কৃষ্ণার পুত্র সুগত বসুও পরে মায়ের জয়ী হওয়া কেন্দ্র থেকে সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। বর্তমানে সুগত বসু এই বাড়িতেই বসবাস করেন। পুরসভার পরিবেশ এবং হেরিটেজ বিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে, সুগত বসুর পক্ষ থেকে বাড়ি হেরিটেজ করার আবেদন জানানো হয়েছিল। তিনি সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছিলেন। পুরসভার হেরিটেজ বিভাগের এক আধিকারিক বলেছেন, কোনও বাড়ি বা সম্পত্তি, বিশেষ করে তা যখন ব্যক্তিগত মালিকানাধীন, তখন হেরিটেজ ঘোষণা করতে সমস্ত দিক বিবেচনা করে পদক্ষেপ নিতে হয়। কারণ নানা রকমের আইনি জটিলতা থাকে। এক্ষেত্রে সেটা হয়নি। কারণ বাড়ির মালিকপক্ষ নিজেরাই আগ্রহী ছিলেন। কিন্তু চাইলেই হেরিটেজ তকমা দেওয়া যায় না। কিছু শর্ত থাকে। আমরা ওই বাড়ি পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। বাড়িটির কনস্ট্রাকশনাল বা কাঠামোগত কোনও ভ্যালু কিংবা ঐতিহাসিক গুরুত্ব নেই। কিন্তু বাড়ির ভিতর বহু ঐতিহাসিক জিনিস রয়েছে। নানা নথিপত্র এবং ছবি সুন্দরভাবে সংরক্ষণ করে রাখা। সেই বিষয়গুলির উপর গুরুত্ব আরোপ করে হেরিটেজ তকমা দেওয়া হয়েছে। আজাদ হিন্দ বাহিনীর অনেকেই এই বাড়িতে নিয়মিত আসতেন এবং সময় কাটিয়েছেন। হেরিটেজ ঘোষণা প্রসঙ্গে সুগত বসু সংবাদমাধ্যমে জানান, নেতাজির সঙ্গে টানা সাবমেরিনে থাকা আবিদ হুসেন এখানে এসেছেন। এছাড়া জেনারেল ফুজিবারা, জেনারেল ইসোডার মতো সেনা অফিসাররাও এই বাড়িতে থেকেছেন। এর পাশাপাশি প্রেম সায়গল, লক্ষ্মী সায়গলের মতো আজাদ হিন্দ বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত অনেকেই বিভিন্ন সময় এসেছেন। তাঁদের স্মৃতিচিহ্ন ও ছবি এই বাড়িতে রয়েছে। ১৯৭৬ সালে আবিদ হুসেনের বক্তব্য মা একটানা রেকর্ড করেছিলেন। নেতাজিকে নিয়ে মায়ের যে বই রয়েছে, তার উপাদান সেই রেকর্ড থেকেই নেওয়া। হেরিটেজের জন্য পুরসভা ও রাজ্য সরকারের উদ্যোগকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন সুগতবাবু। 
এলগিন রোডে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর বাড়ি এবং তাঁর ভাই শরৎ বসুর বাড়ি বহু যুগ আগেই হেরিটেজ তকমা পেয়ে গিয়েছিল। এবার শিশির বসুর বাড়িও শহরের ঐতিহ্যবাহী বাড়ির তালিকায় ঢুকে পড়ল। বিভাগীয় সূত্রে খবর, বাড়িটিকে গ্রেড-‘টু’ বা ‘বি’ তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ বাড়ির মূল স্ট্রাকচার বা পরিকাঠামো অক্ষুন্ন রেখে সংস্কার কিংবা নির্মাণ করা যেতে পারে। 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ