Bartaman Logo
৬ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / সম্পাদকীয়

শ্রীমা সারদা

শ্রীমা সারদা ১৯১০ সালে কোঠার গ্রামে পদার্পণ করেন। তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ও প্রভাব জানুন। বিস্তারিত পড়ুন।

শ্রীমা সারদা
  • ৬ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

শ্রীমা সারদা ১৯১০ খ্রিস্টাব্দের ৫ ডিসেম্বর (১৩১৭ বঙ্গাব্দের ১৮ অগ্রহায়ণ) ভদ্রক জেলার অন্তর্গত কোঠার গ্রামে পদার্পণ করেন এবং ১৯১১ খ্রিস্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত প্রায় ছেষট্টি দিন নিরবচ্ছিন্নভাবে তথায় অবস্থান করেন। তাহা ব্যতীত শ্রীমা সারদা ১৮৮৮ খ্রিস্টাব্দের ৫ নভেম্বর, ১৯০৪-১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে এবং ১৯১১ খ্রিস্টাব্দের এপ্রিল মাস নাগাদ পুরীধামে গমন করেন।

Advertisement

শ্রীমা কোঠারে যাইবার সময় রাত্রির শেষ প্রহরে ভদ্রক রেলস্টেশনে অবতরণ করিয়া বসু-পরিবারের জমিদারির কাছারি বাড়িতে বিশ্রাম করেন। পরদিন প্রভাতে পালকি সহযোগে তাঁহাদের বসতবাটী কোঠার গ্রামের উদ্দেশে যাত্রা করিয়াছিলেন। ভদ্রক রেলস্টেশন হইতে কোঠার গ্রামের দূরত্ব কুড়ি কিলোমিটার। বর্তমানে সেই কাছারি বাড়ি বিলুপ্ত হইয়াছে।
১৩১১ বঙ্গাব্দে শ্রীমা পুরীধামে হরিবল্লভ বসু কর্তৃক নির্মিত শশী নিকেতনের দ্বিতলে ও ক্ষেত্রবাসী যাত্রী নিবাসে কিছুকাল পর্যায়ক্রমে 
অবস্থান করেন। ক্ষেত্রবাসী যাত্রীনিবাসে থাকাকালীন পায়ের একটি ফোঁড়ার যন্ত্রণায় শ্রীমাকে কষ্টভোগ করিতে হয়। স্বামী প্রেমানন্দের পরামর্শে স্থানীয় একজন ডাক্তার শ্রীমাকে প্রণাম করিবার অছিলায় ফোঁড়ায় অস্ত্রোপচার করিলে শ্রীমা সুস্থ হন।
শশী নিকেতনে শ্রীমা ব্যতীত স্বামী ব্রহ্মানন্দ, স্বামী প্রেমানন্দ, স্বামী সারদানন্দ, স্বামী রামকৃষ্ণানন্দ, স্বামী অভেদানন্দ, স্বামী তুরীরানন্দ প্রমুখ শ্রীরামকৃষ্ণ-পার্ষদবৃন্দ বিভিন্ন সময়ে কিছুকাল অবস্থান করিয়াছেন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ‘শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণকথামৃত’ গ্রন্থাকারে প্রকাশের আগে মহেন্দ্রনাথ গুপ্ত (শ্রীম) শশী নিকেতনে তাঁহার দিনলিপি হইতে অংশ বিশেষ স্বামী ব্রহ্মানন্দ ও স্বামী প্রেমানন্দকে শুনাইয়াছিলেন এবং স্বামী সারদানন্দ ‹শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণলীলাপ্রসঙ্গ› গ্রন্থের কিছু অংশ শশী নিকেতনে রচনা করিয়াছিলেন। বর্তমানে ক্ষেত্রবাসী যাত্রী নিবাসের কোনো অস্তিত্ব নাই এবং শশী নিকেতনের রূপান্তর ঘটিয়াছে।
উড়িষ্যার কোঠারে যে-কালে বলরাম বসুর পিতৃব্য ও পিত জমিদারি কার্য পরিচালনা করিতেন সে-কালে কোঠার বালেশ্বর জেলার অন্তর্গত ছিল। পরবর্তিকালে কোঠার ভদ্রক জেলার অন্তর্ভুক্ত হইয়াছে। বলরামের পিতা রাধামোহন এবং তাঁহার অন্যতম জ্যেষ্ঠভ্রাতা বিন্দুমাধব একান্নবর্তী পরিবারভুক্ত ছিলেন। বলরাম বসু সাংসারিক বিষয়ে উদাসীন ছিলেন। ঈশ্বরানুরাগ তাঁহার মজ্জাগত ছিল। বলরামকে সংসারমুখী করিবার জন্য তাঁহার অন্যতম জ্যেষ্ঠতাতপুত্র হরিবল্লভ বসু কলকাতার বাটী ক্রয় করিয়া উক্তগৃহে তাঁহাকে থাকিতে আদেশ করেন। ইহার পূর্বে বলরাম অধিকাংশ সময় পুরীধামে অবস্থান করিয়া সাধনভজন ও সাধুব্যক্তিবর্গের সান্নিধ্যে কালযাপন করিতেন। পরন্তু কলকাতায় আসিয়া বলরাম শ্রীরামকৃষ্ণ ও তাঁহার পার্ষদবৃন্দের প্রেমে মাতোয়ারা হইলেন।
স্বামী শিবপ্রদানন্দ সম্পাদিত ‘শ্রীমা সারদা ও তপোভূমি কোঠার’ থেকে

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ