Bartaman Logo
৬ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / সম্পাদকীয়

শ্যামাপ্রসাদের বিশ্বভারতী-ভাবনা

শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বিশ্বভারতী নিয়ে বিশেষ চিন্তাভাবনা উঠে এসেছে। শিক্ষার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান ও রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে সম্পর্কের গুরুত্ব। বিস্তারিত পড়ুন।

শ্যামাপ্রসাদের বিশ্বভারতী-ভাবনা
  • ৬ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

বিদ্যুৎ পাতর: পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে ঘিরে শুরু হয়েছে প্রবল চর্চা। সামাজিক মাধ্যম থেকে চায়ের আড্ডা—সর্বত্রই তিনি আজ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। দীর্ঘদিন যে বুদ্ধিবৃত্তিক পরিসরে তাঁর নাম প্রায় অনুচ্চারিত ছিল, সেখানে আজ তাঁকে নিয়ে নতুন আগ্রহ স্পষ্ট। এর ফলে একাংশের মধ্যে অস্বস্তিও দেখা দিয়েছে। লক্ষণীয়, যাঁরা একসময় নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কিংবা বাংলার অন্যান্য মনীষীদের উত্তরাধিকার নিয়ে নানা সমালোচনামুখর অবস্থান নিয়েছিলেন, তাঁরাই আজ সেইসব ব্যক্তিত্বকে শ্যামাপ্রসাদের বিপরীতে দাঁড় করিয়ে এক ধরনের দ্বন্দ্ব নির্মাণের চেষ্টা করছেন। ইতিহাসকে এমনভাবে ‘পক্ষ’ ও ‘বিপক্ষ’-এর ময়দানে নামিয়ে আনা যেমন কৌতুকের, তেমনি উদ্বেগেরও।

Advertisement

কিন্তু এই রাজনৈতিক বিতর্কের আড়ালে চাপা পড়ে যায় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আর একটি অসামান্য পরিচয়। তিনি ছিলেন একজন অনন্য শিক্ষাবিদ, দক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়-প্রশাসক এবং ভারতীয় উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তাশীল এক মনীষী। সেই পরিচয়ের অন্যতম উজ্জ্বল ও তাৎপর্যপূর্ণ প্রকাশ ঘটেছিল বিশ্বভারতীকে ঘিরে তাঁর ভূমিকার মধ্যে।  সেই ইতিহাস আজও প্রাসঙ্গিক, অথচ তুলনামূলকভাবে অনেকটাই অজানা। আশ্চর্যের বিষয়, রাজনৈতিক অবস্থানে রবীন্দ্রনাথ  ও শ্যামাপ্রসাদ একই মেরুতে না থাকলেও, শিক্ষার প্রশ্নে তাঁদের ভাবনার মধ্যে একটি সাযুজ্য ছিল। সেই কারণেই বিশ্বভারতীকে তিনি কখনো সাধারণ একটি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে দেখেননি। দেখেছিলেন ভারতের একটি অনন্য সভ্যতাগত প্রকল্প হিসেবে।
অনেকে শ্যামাপ্রসাদ ও রবীন্দ্রনাথের সম্পর্কের সূচনা খুঁজে পান ব্যক্তিগত ঘটনায়। শ্যামাপ্রসাদের স্ত্রীর অকালমৃত্যুতে শোকবার্তা পাঠিয়েছিলেন কবি। শ্যামাপ্রসাদ ও তাঁর দাদা রমাপ্রসাদ সম্পাদিত বঙ্গবাণী পত্রিকায় রবীন্দ্রনাথ লেখা দিয়েছিলেন। কিন্তু এগুলি ছিল পারস্পরিক সৌজন্য ও স্নেহের প্রকাশ। তাঁদের প্রকৃত সম্পর্ক গড়ে ওঠে শিক্ষার জগতে। ১৯৩২ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে শ্যামাপ্রসাদ একটি সাহসী সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সেনেটে প্রস্তাব এনে রবীন্দ্রনাথকে অধ্যাপক হিসাবে যুক্ত করার ব্যবস্থা করেন। নিয়মের বিচারে রবীন্দ্রনাথের প্রথাগত বিশ্ববিদ্যালয়-ডিগ্রি ছিল না। ফলে আপত্তি ওঠে। শুধু নিয়মের প্রশ্ন নয়, অনেকেই মনে করেছিলেন, নোবেলজয়ী কবিকে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পদ দেওয়া তাঁর মর্যাদার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। এই বিতর্ক রবীন্দ্রনাথকেও অস্বস্তিতে ফেলেছিল। ২১ জুলাই ১৯৩২-এ শ্যামাপ্রসাদকে লেখা এক চিঠিতে তিনি জানান, অনেকেই এই নিয়োগকে তাঁর পক্ষে ‘অসঙ্গত ও অসম্মানকর’ বলে মনে করছেন। দেশের মানুষের কাছে তাঁর সম্মান যাতে ক্ষুণ্ণ না হয়, সেই উদ্বেগও তিনি ব্যক্ত করেন। কিন্তু শ্যামাপ্রসাদ বিষয়টিকে অন্যভাবে দেখেছিলেন। তাঁর মনে হয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা বৃদ্ধির স্বার্থে সে যুগের শ্রেষ্ঠ মনীষীদের আপন করে নিতে হবে। শেষ পর্যন্ত তাঁর অনুরোধেই রবীন্দ্রনাথ ‘রামতনু লাহিড়ী অধ্যাপক’ পদ গ্রহণ করেন। এই ঘটনার পাঁচ বছর পর আরও একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেন শ্যামাপ্রসাদ। ১৯৩৭ সালের কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে তিনি রবীন্দ্রনাথকে আমন্ত্রণ জানান। কবির শর্ত ছিল একটিই—বক্তৃতা হবে বাংলায়। ব্রিটিশ ভারতের সবচেয়ে প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে বাংলা ভাষা! সেনেটের একাংশ আপত্তি জানায়। কিন্তু শ্যামাপ্রসাদ সেই আপত্তি অতিক্রম করেন। বিদেশি অতিথিদের সুবিধার জন্য তাঁর ভাষণের ইংরেজি অনুবাদ আগেভাগেই বিতরণ করা হয়। রবীন্দ্রনাথ বাংলাতেই সমাবর্তন ভাষণ দেন। ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এটি ছিল এক যুগান্তকারী মুহূর্ত। স্বাধীনতার পরে উচ্চশিক্ষায় মাতৃভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার যে আন্দোলন জোরালো হয়ে ওঠে, তার এক গুরুত্বপূর্ণ পূর্বসূচনা নিহিত ছিল এই ঘটনায়। এই প্রসঙ্গে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, মুসলিম লিগ-সমর্থিত একাংশের ছাত্ররা সমাবর্তন অনুষ্ঠান বয়কট করে। এই ঐতিহাসিক উদ্যোগকে ব্যাহত ও তাঁকে অপদস্থ করার চেষ্টাও হয়। কিন্তু সেইসব বাধা সত্ত্বেও অনুষ্ঠান সফলভাবেই সম্পন্ন হয় এবং বাংলা ভাষা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনের মঞ্চে এক নতুন ইতিহাস রচনা করে।
স্বাধীনতার পর শ্যামাপ্রসাদের শিক্ষা-চিন্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে ওঠে বিশ্বভারতী। ১৯৫০ সালের সমাবর্তনে তাঁর ভাষণ সেই সাক্ষ্য বহন করে। তিনি শুধু সৌজন্য রক্ষার জন্য মঞ্চে ওঠেননি! রবীন্দ্রনাথের শিক্ষা-দর্শন ও বিশ্বভারতীর আদর্শ নিয়ে গভীর চিন্তাভাবনা থেকেই তিনি আম্রকুঞ্জে তাঁর বক্তব্য রেখেছিলেন। বক্তব্যের শুরুতেই বলেন, আধুনিক ভারতে রবীন্দ্রনাথই প্রথম একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়েছিলেন, যাকে প্রকৃত অর্থে আন্তর্জাতিক বলা যায়। আর এই আন্তর্জাতিকতার ভিত ছিল ভারতীয় সংস্কৃতি। নিজের ঐতিহ্যকে বিসর্জন দিয়ে নয়, তাকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বিশ্বের সামনে তুলে ধরেই বিশ্বসংলাপ সম্ভব। শ্যামাপ্রসাদ ব্যাখ্যা করেন, রবীন্দ্রনাথ ব্রিটিশ শিক্ষাব্যবস্থায় সন্তুষ্ট ছিলেন না। পরীক্ষাকেন্দ্রিক শিক্ষা, যান্ত্রিক পাঠদান এবং মুখস্থবিদ্যার মধ্যে তিনি মানুষের পূর্ণ বিকাশের সম্ভাবনা দেখেননি। তাই শান্তিনিকেতনের বিদ্যালয় গড়ে উঠেছিল প্রকৃতির কোলে। সেখানে শিক্ষা ছিল আনন্দের বিষয়, দাসত্বের নয়। শিক্ষক ও ছাত্রের সম্পর্ক ছিল আন্তরিক। মাতৃভাষা ছিল শিক্ষার প্রধান মাধ্যম। সাহিত্য, শিল্প, সংগীত, কৃষি, বিজ্ঞান—জীবনের নানা শাখার সমন্বয়ের মধ্য দিয়েই শরীর, মন ও চরিত্রের পূর্ণ বিকাশ ঘটানো ছিল এই শিক্ষাদর্শের লক্ষ্য। বিশ্বভারতী কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞ তৈরির প্রতিষ্ঠান হিসেবে কল্পিত হয়নি। তার উদ্দেশ্য ছিল কেবল পেশাজীবী নয়, জ্ঞান, সংস্কৃতি, মানবিকতা ও দায়িত্ববোধে সমৃদ্ধ পূর্ণ মানুষ গড়ে তোলা। আলোচ্য বক্তৃতাতে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ভারত বহু শতাব্দী ধরে এশিয়ার নানা সভ্যতার মিলনভূমি ছিল। যেমন ভারতীয় পণ্ডিতেরা বাইরে গিয়েছেন, তেমনই চীন, তিব্বত, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে জ্ঞানসন্ধানীরা ভারতে এসেছেন। রবীন্দ্রনাথ সেই ঐতিহ্যকেই নতুন রূপ দিতে চেয়েছিলেন। বিশ্বভারতী হবে এমন এক স্থান, যেখানে জাতি, ধর্ম, বর্ণ বা রাষ্ট্রের সীমা অতিক্রম করে জ্ঞানচর্চা হবে। দর্শন, সাহিত্য, ধর্ম, শিল্প, ভাষা—সবকিছুকে তুলনামূলক দৃষ্টিতে বিচার করে মানবসভ্যতার অন্তর্নিহিত ঐক্যকে আবিষ্কার করাই হবে তার লক্ষ্য। আন্তর্জাতিকতার এই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হতে পারে একমাত্র তখনই, যখন ভারত নিজের সভ্যতাকে যথাযোগ্য মর্যাদায় তুলে ধরতে পারবে। তাই শ্যামাপ্রসাদ বলেন, বিশ্বভারতীকে প্রথমে ভারতীয় বিদ্যার উৎকর্ষের কেন্দ্র হয়ে উঠতে হবে। যোগ্য শিক্ষক, সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার, সংগ্রহশালা এবং গবেষণার পরিবেশ ছাড়া বিদেশি পণ্ডিতদের আকর্ষণ করা সম্ভব নয়। এই বক্তব্যে জাতীয়তাবাদ ও আন্তর্জাতিকতার এক অপূর্ব সমন্বয় দেখা যায়।
তবে তাঁর সবচেয়ে দূরদর্শী মন্তব্য ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা নিয়ে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, রবীন্দ্রনাথ নিয়মের কঠোরতা পছন্দ করতেন না। তাঁর বিশ্বাস ছিল, শিক্ষা তখনই বেঁচে থাকে যখন তার মধ্যে স্বাধীনভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার সুযোগ থাকে। বিশ্বভারতীর স্বাতন্ত্র্য রক্ষার প্রশ্নে শ্যামাপ্রসাদ ছিলেন অত্যন্ত সতর্ক। তাঁর মতে, কেবল আইন, বিধি ও আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটিকে সীমাবদ্ধ করলে রবীন্দ্রনাথের শিক্ষাদর্শের মূল চেতনাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সংসদে বিশ্বভারতী বিল নিয়ে আলোচনার সময় তিনি এই বক্তব্যই সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। ১৯৫১ সালে মৌলানা আবুল কালাম আজাদ যখন বিশ্বভারতী বিল পেশ করেন, তখন শ্যামাপ্রসাদ বিরোধী দলের সদস্য। কিন্তু বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করেননি। তিনি বিশ্বভারতীকে কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা দেওয়ার বিরোধী ছিলেন না। বরং তিনি মনে করতেন, আর্থিক স্থিতিশীলতা ও জাতীয় স্বীকৃতির জন্য এই পদক্ষেপ জরুরি।
তাঁর আপত্তি ছিল অন্য জায়গায়। প্রথমত, তিনি বলেন, সংসদের অধিকার নেই রবীন্দ্রনাথের নির্ধারিত উদ্দেশ্য পরিবর্তন করার। সরকার যদি সেই আদর্শে আস্থা না রাখে, তবে বিল পাশ না করাই উচিত। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের চরিত্র বদলে দেওয়া চলবে না।
দ্বিতীয়ত, তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিশ্বভারতীর বিদ্যালয়গুলিকে (পাঠভবন, শিক্ষাসত্র) বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আলাদা করা যাবে না। শান্তিনিকেতনের শিক্ষাপদ্ধতি শিশুশিক্ষা থেকেই শুরু হয়। কেবল কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় চালিয়ে সেই আদর্শ রক্ষা করা সম্ভব নয়।
তৃতীয়ত, তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন—রাষ্ট্র অর্থ দিতে পারে, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের দৈনন্দিন বৌদ্ধিক জীবনে রাজনৈতিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা উচিত নয়।
এর পরের ইতিহাস মোটামুটি সকলেরই জানা। ১৯৫১ সালে সংসদে গৃহীত বিশ্বভারতী আইন-এর মাধ্যমে বিশ্বভারতী জাতীয় গুরুত্বসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান এবং কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা লাভ করে। স্বাধীন ভারতের রাষ্ট্রব্যবস্থা রবীন্দ্রনাথের স্বপ্নের প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় পরিসরে প্রতিষ্ঠা দেয়। আর সেই প্রক্রিয়ায় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক।
রাজনীতির ইতিহাসে শ্যামাপ্রসাদের মূল্যায়ন নিয়ে মতভেদ থাকতেই পারে। কিন্তু শিক্ষার ইতিহাসে তাঁর অবদান বিচার করতে গেলে সেই বিতর্কের বাইরে আসতে হয়। তখন দেখা যায়, তিনি রবীন্দ্রনাথের ভাবনাকে নিজের রাজনৈতিক মতাদর্শের ছাঁচে ফেলতে চাননি। বিশ্বভারতীর স্বাতন্ত্র্য, স্বাধীনতা এবং প্রতিষ্ঠাতার আদর্শ অক্ষুণ্ণ রাখার পক্ষেই ধারাবাহিকভাবে সওয়াল করেছেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, পরবর্তী কয়েক দশকে রাজনৈতিক মেরুকরণের আবহে এই অধ্যায়টি জনস্মৃতি থেকে অনেকটাই আড়ালে চলে যায়। ইতিহাসের নির্বাচিত পাঠে শ্যামাপ্রসাদের এই অবদান প্রায় অনুল্লেখিত থেকে যায়! ফলে নতুন প্রজন্মের কাছে একটি অসম্পূর্ণ বর্ণনাই প্রতিষ্ঠা পায়। ইতিহাসের কাজ কোনো ব্যক্তিকে দেবত্ব দেওয়া নয়, আবার সচেতনভাবে তাঁর অবদান মুছে দেওয়াও নয়। বিশ্বভারতীর ইতিহাসের এই পর্ব আমাদের মনে করিয়ে দেয়—রাজনৈতিক অবস্থান যাই হোক, তথ্য ও দলিলের ভিত্তিতেই ইতিহাসের বিচার হওয়া উচিত। কারণ ইতিহাসকে যতই আড়াল করা হোক, দলিল শেষপর্যন্ত নিজের পক্ষেই সাক্ষ্য দেয়।
 লেখক বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের অধ্যাপক। মতামত ব্যক্তিগত

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ