Bartaman Logo
৩১ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রামনবমীতে অস্ত্রের আস্ফালন রাজনীতি ছাড়া কিছু নয়: রাজীব

রামনবমীতে অস্ত্রের আস্ফালন রাজনীতি ছাড়া কিছু নয়: রাজীব
  • ২ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: রামনবমীতে রাস্তায় নেমে অস্ত্রের আস্ফালন আসলে রাজনীতি ছাড়া কিছুই নয়। আগে কখনও এমনটা হয়নি। আপনারা রামনবমী পালন করুন। কিন্তু, বিজেপির পাতা ফাঁদে পা দেবেন না। মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সনাতন ব্রাহ্মণ ট্রাস্টের প্রতিটি জেলার নেতৃত্বকে নিয়ে বার্ষিক সভায় এমনটাই বললেন সংগঠনের মুখ্য উপদেষ্টা রাজীব ব঩ন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন মেচেদার একটি গেস্টহাউসে সংগঠনের সবকটি জেলার প্রতিনিধিদের নিয়ে ১০ম বার্ষিক সভা ছিল। সভায় প্রাক্তন মন্ত্রী রাজীববাবু ছাড়াও সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক শ্রীধর মিশ্র, সহ সভাপতি ননীগোপাল চক্রবর্তী, সুমন বন্দ্যোপাধ্যায় সহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন। এদিন ২৩টি জেলা থেকে সংগঠনের প্রতিনিধিরা সম্মেলনে শামিল হন। সংগঠনের সভাপতি মধুসূদন মিশ্র অসুস্থ থাকায় এদিনের সম্মেলনে ঠিক হয়েছে, রাজীববাবু সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। 

Advertisement

এদিন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সনাতন ব্রাহ্মণ ট্রাস্টের সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজীববাবু বলেন, বিজেপি ধর্মকে ভালোবাসে না। ওদের মূল লক্ষ্য হল, চেয়ার। ওরা রাজত্ব করতে চায়। ওদের প্রধান লক্ষ্য, মন্ত্রী হওয়া। আসলে বিজেপি হিন্দু ধর্মের কলঙ্ক। সনাতন ধর্মের কলঙ্ক। সনাতন ধর্মের মূল কথা হল, নিজের ধর্মকে ভালোবাসো, অপরের ধর্মের প্রতি সহনশীল হও। সনাতন ধর্মকে সত্যিকারের যিনি ভালোবাসেন তাঁর নাম মমতা ব঩ন্দ্যোপাধ্যায়। কারণ, তিনি সব সম্প্রদায়কে নিয়ে চলছেন। দীঘায় জগন্নাথধাম হচ্ছে। দীঘায় ওই মন্দির তৈরি হতেই বিজেপি নন্দীগ্রামে রামমন্দির তৈরির কথা ঘোষণা করেছে। জগন্নাথধাম তৈরির আগে তো ওরা এই সিদ্ধান্ত নেয়নি। তিনি আরও বলেন, তারকেশ্বর, দক্ষিণেশ্বর, কালীঘাট, তারাপীঠ থেকে শুরু করে সমস্ত জায়গায় মুখ্যমন্ত্রী মন্দিরগুলো সংস্কার করছেন। আবার ফুরফুরা শরিফের জন্যও করেছেন। আসলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হিন্দু থেকে মুসলিম, শিখ, বৌদ্ধ সব সম্প্রদায়ের জন্য করছেন।
এদিন ২৩টি জেলা থেকে সংগঠনের প্রতিনিধিরা মেচেদায় ওই সম্মেলনে অংশ নেন। এদিনের সম্মেলনে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, জেলায় জেলায় ব্রাহ্মণদের একাধিক শাখা সংগঠনকে সনাতন ব্রাহ্মণ ট্রাস্টের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। আগ্রহী সংগঠনের কাছে এজন্য আবেদন জানানো হবে। প্রতিটি জেলায় সংগঠনকে শক্তিশালী করা হবে। সংগঠনের সম্পাদক শ্রীধর মিশ্র বলেন, যেসব পুরোহিত এখনও ভাতা পাচ্ছেন না তাঁদের ভাতার জন্য রাজ্য সরকারের কাছে তদ্বির করা হবে। যাঁদের পাকাবাড়ি নেই, সেই সকল পুরোহিতদের বাংলার বাড়ি প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সবধরনের উদ্যোগ নেব। প্রত্যেক জেলায় যাতে একটি করে টোল নির্মাণ হয় এবং সংস্কৃতি শিক্ষার চর্চা হয় ঩সেজন্য রাজ্যের কাছে আবেদন করা হবে। গোটা বাংলাজুড়ে পুরোহিতদের ঐক্যবদ্ধ করে আগামী দিনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত শক্ত করার লক্ষ্যে সংগঠন কাজ করবে বলে এদিন সিদ্ধান্ত হয়েছে।-নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ