সংবাদদাতা, সিউড়ি: ন’বছর বাদে যখন নতুন করে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা হচ্ছে, সেই আবহে রাজ্য স্কুল শিক্ষা দপ্তরের একটি বিজ্ঞপ্তি বীরভূম জেলা স্কুল শিক্ষা দপ্তরকে নড়েচড়ে বসতে বাধ্য করল। স্কুল শিক্ষা দপ্তরের ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, বীরভূম জেলায় ১৫৬টি এমন স্কুল রয়েছে, যেখানে শিক্ষক সংখ্যা হয় শূন্য অথবা মাত্র একজন শিক্ষক রয়েছে। স্কুল শিক্ষা দপ্তরের এই বিজ্ঞপ্তিতেই টনক নড়েছে জেলা শিক্ষা দপ্তরের। তারা তৎপরতার সঙ্গে ওই স্কুলগুলিতে স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগ করতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই এরকম প্রায় ২০টি স্কুলে স্থায়ী শিক্ষক দেওয়া হয়েছে। জেলা স্কুল শিক্ষা দপ্তরের লক্ষ্য, পুজোর আগেই এরকম ১০০টি স্কুলে স্থায়ী শিক্ষক দেওয়া।
তবে পাশাপাশি জেলা স্কুল শিক্ষা দপ্তরের বক্তব্য, খাতায়কলমে অনেক স্কুলে শিক্ষক সংখ্যা শূন্য বা এক দেখালেও আসলে সেখানে ডেপুটেশনে শিক্ষক অথবা শিক্ষিকা রয়েছেন। কিন্তু ডেপুটেশনে থাকা শিক্ষক কিংবা শিক্ষিকার সংখ্যা তালিকায় দেখায় না। তাই খাতায়কলমে ওইসব স্কুলে শিক্ষক সংখ্যা শূন্য বা এক দেখাচ্ছে।
শিক্ষাদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৫ আগস্ট রাজ্য সরকারের স্কুল শিক্ষা দপ্তরের জারি করা একটি বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, রাজ্যের ৪৯ হাজার ৩৬৮টি প্রাথমিক স্কুলের মধ্যে ২২১৫টি স্কুলে শিক্ষক সংখ্যা শূন্য অথবা এক। সেই তালিকায় বীরভূম জেলা রয়েছে চার নম্বর স্থানে। প্রথম তিনে আছে পুরুলিয়া, বাঁকুড়া এবং পূর্ব বর্ধমান। ওই তালিকা প্রকাশের পরেই চর্চা শুরু হয় জেলাজুড়ে। তথ্যটি খাতায়কলমে সঠিক হলেও বাস্তব চিত্র আলাদা বলে দাবি করেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান প্রলয় নায়েক। তিনি বলেন, ডেপুটেশনে থাকা শিক্ষক শিক্ষিকার সংখ্যা তালিকায় দেখায় না। কারণ, যদি সিউড়ির একটি স্কুলে যদি শিক্ষক সংখ্যা এক বা শূন্য থাকে, তাহলে ওই স্কুলের আশেপাশের যে স্কুলে পড়ুয়া সংখ্যার অনুপাতে শিক্ষক বা শিক্ষিকা বেশি আছেন, সেইসব স্কুল থেকে অতিরিক্ত শিক্ষক কিংবা শিক্ষিকাদের ডেপুটেশনে কম শিক্ষক, শিক্ষিকা থাকা স্কুলে আনা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই ওই ১৫৬টি স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যার অনুপাতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক অথবা শিক্ষিকা ডেপুটেশনে রয়েছেন। ফলে স্কুল শিক্ষকশূন্য বা মাত্র একজন আছেন, বাস্তব চিত্রটা এমন নয়। তবে, যেহেতু বিকাশ ভবনের পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। তাই ইতিমধ্যেই তৎপরতা শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রায় ২০টি স্কুলে স্থায়ী শিক্ষক পাঠানো হয়েছে। পুজোর আগেই জেলার প্রায় ১০০টি প্রাথমিক স্কুলে শিক্ষক শিক্ষিকার সংখ্যা কাগজে কলমে বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। যাঁরা যে যে স্কুলে ডেপুটেশনে আছেন তাঁদের অনেকে সেই স্কুলেই থেকে যাওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। তাঁদের আবেদনের ভিত্তিতে সেখানেই স্থায়ী পোস্টিং দেওয়া হচ্ছে।