নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিজেপি বিধায়কের মদতে দোকান দখল করেছে দুষ্কৃতীরা। বিধায়কের অনুগামীরা মারধর করে দোকানের মালপত্র লুটও করেছে। বৃহস্পতিবার জনতার দরবারে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছেই এই অভিযোগ করেন এক প্রৌঢ়া। তাঁর নাম প্রতিমা রায় (৫৬)। তিনি যাদবপুর-সন্তোষপুরের বাসিন্দা। তাঁর দোকানটি রয়েছে নিউ সন্তোষপুর মেইন রোডে।
মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের আগে কথা বলতে বলতে প্রতিমাদেবীর চোখ দিয়ে জল বেরিয়ে আসে। কাঁদতে কাঁদতে জানান, ১২ জুন যাদবপুরের বিধায়কের অনুগামীরা তাঁর দোকানে এসে মারধর করেন। দোকান থেকে প্রায় আড়াই লক্ষ টাকার মালপত্র এবং নগদ ৩০ হাজার টাকা লুট করে। তারপর থেকে তাঁকে দোকানে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। বিজেপি বিধায়কের প্রত্যক্ষ মদতে এই ঘটনা ঘটেছে বলেই তিনি মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হয়েছেন। তিনি এটাও জানান, দোকান দখলের এটা প্রথম ঘটনা নয়। তৃণমূল সরকারের আমলেও একই ধরনের চেষ্টা হয়েছিল। রাজ্যে পালাবদলের পর সেই পুরনো দুষ্কৃতীরাই বিজেপি বিধায়কের মদতে একই চেষ্টা চালাচ্ছে।
প্রতিমাদেবীর শরীরে পেসমেকার বসানো আছে। সাম্প্রতিক ঘটনার পর তিনি আরও অসুস্থ বোধ করছেন বলে জানান। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর বেরিয়ে তাঁর দাবি, শুভেন্দু অধিকারী সব নথিপত্র দেখে দোকান ফেরত পাওয়া নিয়ে আশ্বস্ত করেছেন। প্রতিমাদেবী বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন আমি কথা বলব। দোকান ফেরত পাবেন আপনারা।’
তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়টি জানতে বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়কে একাধিকবার মোবাইলে ফোন করা হয়েছিল। মেসেজ এবং হোয়াটসঅ্যাপেও যোগাযোগের চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু তাঁর তরফ থেকে কোনো উত্তর আসেনি। এই প্রসঙ্গে বিজেপির যাদবপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি মনোরঞ্জন জোদ্দার বলেছেন, ‘অভিযোগ যখন এসেছে প্রশাসন নিশ্চয় খতিয়ে দেখবে। কেউ দলের ঊর্ধ্বে নয়। অভিযোগ আসার পর খতিয়ে দেখে কেউ জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে দল ব্যবস্থা নেবে।’