নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাজ পড়ার পিলে চমকানো শব্দ শুনে দোকানদাররা শনিবার ভেবেছিলেন, আজ বাজার মাটি। ক্রেতারা ভেবেছিলেন, জলে ভাসবে রাস্তাঘাট। কেনাকাটা আজ আর হল না। কিন্তু দুপুরের পর বৃষ্টি থামল। মনোরম হয়ে উঠল আবহাওয়া। উত্সব পাগল বাঙালির কি আর তর সয়, ছাতা হাতে বেরিয়ে পড়ল পুজোর বাজার করতে। কিন্তু বিকেল হতেই আবার টিপ টিপ বৃষ্টি। ফলে ছাতা খুলল। তবে বাজার করাও চলল সমানতালে। গায়ে বৃষ্টির জল লাগছে তাতে থোড়াই কেয়ার। চলল দেদার কেনাকাটা। কাদা প্যাচপেচে রাস্তা। তবুও গড়িয়াহাটে দাঁড়িয়ে একদল মহিলা বললেন, ‘এমন সুন্দর ফুরফুরে আবহাওয়াই তো বাজার করার উপযুক্ত।’
‘তবে বৃষ্টি কিঞ্চিৎ হলেও ব্যাঘাত ঘটালো। শনিবার প্রত্যাশা মতো ব্যবসা হল না’-বলছেন গড়িয়াহাট-হাতিবাগানের ব্যবসায়ীরা। সপ্তাহান্ত, ছুটির দিন হলেও বৃষ্টির জন্য লোক আসেনি এদিন বলে দাবি দোকানদারদের। হাতিবাগানের ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, ‘রবিবার মহালয়া। সকলে ভোরে উঠবে। ফলে আবহাওয়া ভালো থাকলে সকাল থেকেই ভিড় হবে মার্কেটে।’ গড়িয়াহাটের ব্যবসায়ীরা আলোচনা করছেন, ‘বড় ঠাকুরগুলো তো সব মহালয়া থেকেই দেখা শুরু হয়ে যাবে। তার আগে সবাই রবিবার বাজারহাট সেরে নেবে।’ এদিন গড়িয়াহাটে শপিংয়ে আসা তরুণ-তরুণীদের মুখে শোনা গেল, ‘আজ বেরনো হবে সকলে মিলে প্ল্যান করাই ছিল। কিন্তু বৃষ্টির জন্য একটু দেরি হয়ে গেল। তবে কেউই প্ল্যান বাতিল করেনি।’ সোনারপুরের অরুণিমা সাহা আর তাঁর পাঁচ বন্ধু বৃষ্টি একটু কমতেই বেরিয়েছিলেন বাড়ি থেকে। কেনাকাটা করার সময় ঝিরঝিরে বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে ঢুকে পড়ছিলেন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত শপিং মলে। ঠান্ডা হাওয়া গায়ে লাগিয়ে সেখানেই করলেন কেনাকাটা। সবমিলিয়ে প্রবল বৃষ্টিতে শনিবারের পুজোর বাজার খুব একটা ভালো গেল না। আবার খুব এখটা মন্দও গেল না। ব্যবসায়ীরা বললেন, ‘সকাল থেকে আকাশের অবস্থা দেখে মনে হয়েছিল কিছুই হবে না আজ। সেদিক থেকে কিছুটা ভালোই গেল বাজার। রবিবার যেন বৃষ্টি না হয়।’ একইভাবে ক্রেতাদেরও প্রার্থনা, ‘মা দুর্গার কৃপায় রবিবার আকাশ মেঘমুক্ত থাকুক।’-নিজস্ব চিত্র