নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিল্ডিংয়ের পিলারের মাঝ বরাবর কেটে ফেলা হয়েছে। তারপর দরজা বসিয়ে তৈরি হচ্ছিল দোকান। কিন্তু হেরিটেজ বিল্ডিংয়ের তকমা থাকা কলেজ স্ট্রিটের কফি হাউজ বিল্ডিংয়ের এই ঘটনায় শোরগোল পড়ে যায়। তারপরই কড়া পদক্ষেপ নিল কলকাতা পুরসভা। বুধবার কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম জানান, হেরিটেজ বিল্ডিংয়ে হাত দেওয়ার অধিকার কারও নেই। পুলিসকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। আইনগত যা ব্যবস্থা নেওয়ার তা হবে। কোনও অবস্থাতেই ছাড় নয়।
এরপর মেয়রের নির্দেশে ঘটনাস্থলে যান পুরসভার আধিকারিকরা। তাঁরা বিল্ডিংয়ের ভেঙে ফেলা অংশ খতিয়ে দেখেন। তারপর পুরসভার পক্ষ থেকে নোটিস দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়, এই বিল্ডিংয়ে কোনও ধরনের নির্মাণের কাজ করা যাবে না। আপাতত সব কাজ বন্ধ। ১৮৭৬ সালের বিল্ডিং কলেজ স্ট্রিটের কফি হাউজ। ১৯৯৬ সালে দ্বিতীয় তলার অংশটি রাজ্য সরকার অধিগ্রহণ করে। সেখানেই রয়েছে কফি হাউজ। ওই বিল্ডিংয়ের বাকি অংশটিতে বইয়ের দোকান রয়েছে। কফি হাউজের অংশটি বাদ দিয়ে বিল্ডিংয়ের বাকি অংশ বেসরকারি মালিকাধীন। কিন্তু দেখা যায়, বিল্ডিংয়ের তিনটি পিলারের অংশ কেটে ফেলে সম্প্রসারণের কাজ হচ্ছে। পিলার কেটে দোকান তৈরি করার পরিকল্পনা ছিল বলে জানা গিয়েছে।
বিষয়টি নজরে আসতেই কলকাতা পুলিস ও পুরসভাকে জানানো হয়। কফি হাউজ সোশ্যাল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে চিঠি দেওয়া হয় হেরিটেজ কমিশনে। অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক অচিন্ত্য লাহা বলেন, হেরিটেজ বিল্ডিংয়ে হাত দেওয়া চূড়ান্ত অপরাধ। ফলে দোকান সম্প্রসারণের জন্য বিল্ডিংয়ের পিলার কাটা অন্যায় হয়েছে। অভিযুক্তর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। আর যে অংশটি ভাঙা হয়েছে তার মেরামত দক্ষ ইঞ্জিনিয়ারের তত্ত্বাবধানে হোক। সেই সঙ্গে অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে একটি কমিটি গঠন করা হোক, যাদের অনুমতি নিয়ে ও তত্ত্বাবধানে বিল্ডিংয়ের যাবতীয় বিষয় পর্যালোচনা হবে। কফি হাউজের সম্পাদক সারফারাজ আহমেদ বলেন, এই বিল্ডিংয়ের মাঝের অংশে কোনও পিলার নেই। ফলে বাকি দিকের তিনটি পিলার কাটার ফলে পুরো বিল্ডিংটি ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়বে। ফলে পিলার কেটে ফেলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছি। প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছি আমরা।
কফি হাউজ ছাড়াও ৬০-৭০টি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান যুক্ত রয়েছে এই বিল্ডিংয়ে। এর আগে বাড়ির ছাদে একবার খেলার আয়োজন করা হয়েছিল। সেবার প্রতিবাদ জানান কফি হাউজে আসা মানুষজন। তারপর তা বন্ধ হয়ে যায়। আর এবার বিল্ডিংয়ের পিলার কেটে ফেলার মতো বড় ধরনের ঘটনা ঘটল।