সন্দীপন দত্ত, কোচবিহার: একুশে জুলাই গান্ধীমূর্তির পাদদেশে ম্যাটাডোরের উপর চলা সভায় বক্তব্য রাখছিলেন মদন মিত্র। ম্যাটাডোরের বাঁ দিকে চলেছিল প্রথম গুলি। সেসময় মমতা ছিলেন ব্রাবোর্ন রোডে। ৩৩ বছর আগের ঘটনার স্মৃতিচারণায় এমনই দাবি ঋতব্রতপন্থী বর্ষীয়ান তৃণমূল কংগ্রেস নেতা রবীন্দ্রনাথ ঘোষের।
দল এখন ক্ষমতায় নেই। তিনিও মমতার সঙ্গ ছেড়েছেন। তবু ২০ জুলাই সোমবার বিকেলে কোচবিহারের বাড়িতে বসে সেদিনের রক্তাক্ত ঘটনার স্মৃতিচারণা করছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। ১৯৮৮ সাল থেকে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গী ছিলেন। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সামলেছেন তৎকালীন ছাত্র পরিষদের গুরু দায়িত্ব।
দিনটি ছিল ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই। ভুটান এবং উত্তরবঙ্গে একটানা প্রবল বৃষ্টির ফলে আলিপুরদুয়ার কোচবিহার জেলায় তখন প্রবল বন্যা। এরই মধ্যে ‘নো আইডেন্টিটি কার্ড, নো ভোট’ ইস্যুতে রাইটার্স বিল্ডিং অভিযানের ডাক দেওয়া হয়। রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, কলকাতা শহরের পাঁচটি জায়গায় অবরোধ হয়। মূল কর্মসূচি ছিল গান্ধীমূর্তির পাদদেশে। সেখানে একটি ম্যাটাডোরের উপর তখন বক্তব্য রাখছিলেন মদন মিত্র। পাশেই ছিলেন সাধন পাণ্ডে, সৌগত রায়। ম্যাটাডোরের ঠিক ডানদিকে ছিলাম আমি। পরিবেশ তখন বেশ উত্তপ্ত। এরই মধ্যে চলল প্রথম গুলি। ম্যাটাডোরের বাঁ দিকে দাঁড়িয়ে থাকা এক যুবক পুলিশের গুলিতে মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন। গোটা জমায়েত তখন ছন্নছাড়া। এরপর চলে একের পর এক গুলি। কলকাতা প্রেস ক্লাবের সামনে একট গাছের পিছনে দাঁড়িয়ে থেকে কোনোরকমে সেদিন প্রাণে বেঁচেছি।
বর্ষীয়ান এই নেতা জানান, গান্ধী মূর্তির পাদদেশে যখন গুলি চলে, আমাদের নেত্রী তখন ব্রাবোর্ন রোডের কর্মসূচিতে ছিলেন। অর্থাৎ ঘটনাস্থলে ছিলেন না দলনেত্রী।