Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শান্তিপুর থেকে কল্যাণী নদীভাঙন রোধের আশা

শান্তিপুর থেকে কল্যাণী নদীভাঙন রোধের আশা
  • ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
দীপন ঘোষাল, রানাঘাট: কেন্দ্রের নামামি গঙ্গে প্রকল্প থাকলেও তাতে কাজ হয়নি। নদী পাড় ভাঙন প্রতি বছরের সমস্যা নদীয়া জেলায়। রাজ্যের বাজেট ঘোষণায় অবশেষে গঙ্গা তীরবর্তী ভাঙনপ্রবণ গ্রামগুলি আশার আলো দেখছে। কারণ, ‘নদী বন্ধন’ প্রকল্পে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে রাজ্য সরকার। শান্তিপুর থেকে কল্যাণী, ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলির হাল ফেরার আশায় সাধারণ মানুষ। 
Advertisement
কেন্দ্রীয় সরকার গঙ্গা পাড় বাঁধানোর জন্য নামামী গঙ্গে প্রকল্প নিলেও কেন্দ্র-রাজ্য দড়ি টানাটানিতে সেই প্রকল্প আর হয়নি। কিন্তু, ফিবছর পাড় ভাঙনে নদীবক্ষে চলে যায় বিঘার পর বিঘা জমি। শান্তিপুর হোক বা কল্যাণী, সমস্যা সেই একই। ফলে বর্ষার শুরু থেকে শীতের শুরু পর্যন্ত কত চাষির যে মাথায় হাত পড়ে, তার হিসেব থাকে না। কিন্তু, বিধানসভায় রাজ্য বাজেট পেশ হওয়ার পর কার্যত আশার আলো দেখছেন বিস্তীর্ণ এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষ। তাঁদের তৃপ্ত সুর বলছে, এবার তবে দিদির দৌলতে পাড় বাঁধিয়ে রোধ হবে ভাঙন। আর প্রতি বর্ষায় ঘরে ঘরে উঠবে না কান্নার রোল। শান্তিপুরের হরিপুর, বেলগড়িয়া-১ ও ২, গয়েশপুরের মতো পঞ্চায়েত এলাকাগুলি ভাঙনপ্রবণ। এমনকী শান্তিপুর শহরের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডেও ভাঙনের ইতিহাস রয়েছে। হরিপুর পঞ্চায়েত এলাকায় প্রতি বছর বিস্তীর্ণ অংশ চলে যায় নদীগর্ভে। একই সমস্যা রানাঘাট-১ ব্লকেও। তারাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীনস্থ ঝাউমহল, সুরেশ নগর নবীর পূর্বপাড়ে অবস্থিত। ফি বছর কিছু কিছু করে সেখান থেকে চাষের জমি গঙ্গায় তলিয়ে যাচ্ছে। এরই কোপে অনেকেই জীবিকা হারিয়েছেন। রেহাই নেই চকদহ অথবা কল্যাণীর ক্ষেত্রেও। কল্যাণী বিধানসভার চাঁদুরিয়া-২ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় গত ২০ বছরে লাগাতার ভাঙনে একের পর এক এলাকা নদীগর্ভে তলিয়ে গিয়েছে। খোদ চাঁদুরিয়া পঞ্চায়েত এলাকা আয়তনে ছোট হয়ে গিয়েছে ভাঙনের কবলে। শান্তিপুরের হরিপুর অঞ্চলের অমল বিশ্বাস বলেন, দিদির কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। নদী পাড় ভাঙন রোধের কী প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, তা বলে বোঝানো যাবে না। আমাদের প্রচুর চাষের জমি তলিয়ে গিয়েছে। আমরা চাই দ্রুত কাজ শুরু হোক। 
তারাপুরের বাদল দাস বলেন, ২০০ কোটি টাকা তো কম কথা নয়। আমরা চাইব দ্রুত কাজ শুরু হোক। অনেক ফসলি জমি প্রতি বছর নদী বক্ষে চলে যায়। সেটা আটকানো দরকার। 
যদিও রাজ্য সরকারের নদীবন্ধন প্রকল্পকে কটাক্ষ করে রানাঘাটের সাংসদ জগন্নাথ সরকার বলেন, এটা তৃণমূলের টাকা রোজগারের নতুন পথ। কেন্দ্রের প্রকল্পে ৪০ শতাংশ ‘মার্জিন মানি’ তারা দিতে পারে না। আসলে নিজেদের প্রকল্প করে দলের কন্ট্রাক্টার কর্মীদের রোজগারের জায়গা করে দিতে হবে তো! কতদূর খুঁড়ে বাঁধন হবে বা কী গুণগত মনের কাজ হবে, তা কেউ দেখতে যাবে না। সরকারি টাকা নয় ছয় করার একটা নতুন চেষ্টা। তাছাড়া বিধানসভা ভোট আসছে। দলের কর্মীদের উপার্জনের ব্যবস্থা না করে দিলে তারা দলের সঙ্গে কাজ করবে কেন? 
পাল্টা জগন্নাথবাবুকে আক্রমণ করছেন শান্তিপুরের তৃণমূল বিধায়ক ব্রজকিশোর গোস্বামী। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার কাজে থাকে না। এতদিন ধরে বিজেপি সাংসদ কতগুলি সমস্যার কথা লোকসভায় তুলে ধরেছেন? সাধারণ মানুষের কাছে কতবার এসেছেন, তা উনি নিজেও জানেন না। আমরা মানুষের কাছে যাই। তাঁদের সমস্যা এবং দুঃখ কষ্টে সমব্যথী হই। আজ রাজ্য সরকার যে ২০০ কোটি টাকা খরচ করছে, তা কেন্দ্রীয় সরকারের সাহায্য ছাড়াই।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ