নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: একলা পেয়ে শ্লীলতাহানি করেছিল দোকানদার কাকু। সেই অপমানে বছর এগারোর নাবালিকার আত্মহত্যার চেষ্টা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল হুগলির বলাগড়ে। ঘটনার কথা প্রকাশ্যে আসতেই তৎপর হয়ে ওঠে পুলিস। মঙ্গলবার দুপুরে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ওই দোকানদারকে। পুলিস জানিয়েছে, ধৃতের নাম প্রদীপ দে। ৪৬ বছর বয়সি ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে নাবালিকার মা বলাগড় থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটে বলাগড়ের সোমরাতে। নাবালিকা পাড়ারই দোকানে পাখির খাবার কিনতে গিয়েছিল। সেই সময় দোকান ফাঁকা ছিল।
Advertisement
অভিযোগ, সেই সুযোগ নিয়ে দোকানদার, নাবালিকাকে দোকানের ভিতরে ডেকে নেয়। সেখানে পাখির খাবার নিয়ে কথা বলার ফাঁকে নানাভাবে স্পর্শ করতে থাকে। শেষপর্যন্ত নাবালিকার শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। তখনই নাবালিকা দৌড়ে বাড়ি পালিয়ে আসে। নাবালিকার মা বলেন, হঠাৎ দেখি মেয়ে দৌড়ে বাড়ি চলে এল। তারপরেই কাঁদতে শুরু করে। আচমকা একটি কাঁচি নিয়ে হাতের শিরা কেটে ফেলতে যায়। তখনই ওকে ধরে ফেলি। কিন্তু মেয়ে জ্ঞান হারায়। চোখে, মুখে জল দিয়ে ওকে সুস্থ করি। তারপরেই মেয়ে জানায়, দোকানদার কাকু ওকে খারাপভাবে স্পর্শ করেছিল। নাবালিকার পরিবার জানিয়েছে, দ্রুত তাঁরা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পরে পুলিস দোকানদারকে গ্রেপ্তার করে। অভিযুক্ত ব্যক্তি অবশ্য তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। মেয়েটির দিদি জানায়, আমার জ্বর হয়েছিল। তাই ও পাখির খাবার আনতে গিয়েছিল। এমন ঘটনা ছোট্ট বোনের সঙ্গে ঘটতে পারে, স্বপ্নেও ভাবিনি। ওই ব্যক্তির কঠোর শাস্তি চাই। বলাগড় পুলিস জানিয়েছে, পকসো আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। সম্প্রতি ব্যান্ডেলে একইরকম ঘটনা ঘটেছিল। সেখানেও এক দোকানমালিকের বিরুদ্ধে ফাঁকা দোকানে প্রতিবেশীর নাবালিকা মেয়েকে শ্লীলতাহানি করার অভিযোগ উঠেছিল। ধারাবাহিকভাবে একইরকম ঘটনা নিয়ে নাগরিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।



