Bartaman Logo
১৩ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শিক্ষকদের ‘ফাঁকিবাজি’ আটকাতে নয়া অ্যাপ মালদহ জেলা প্রশাসনের

শিক্ষকদের ‘ফাঁকিবাজি’ আটকাতে নয়া অ্যাপ মালদহ জেলা প্রশাসনের
  • ১৬ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সন্দীপন দত্ত, মালদহ: ‘ফাঁকিবাজ’ শিক্ষক, শিক্ষিকাদের ওপর নজরদারি চালাতে এবার স্মার্ট ফোনে অ্যাপ চালু করছে প্রশাসন। নির্দিষ্ট সময়ে স্কুলে ঢুকে ওটিপি (ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড) দিয়ে অ্যাপে লগ ইন করতে হবে। যেখানে ধরা পড়বে শিক্ষক, শিক্ষিকাদের ‘লাইভ লোকেশন’। মালদহের জেলাশাসক নীতিন সিঙ্ঘানিয়া বলেন, আমরা ফাঁকিবাজি বরদাস্ত করব না। সেজন্যই এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
Advertisement
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, অ্যাপে মালদহের প্রত্যেক শিক্ষক, শিক্ষিকার নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর সহ তিনি কোন স্কুলে চাকরি করছেন, সেসব তথ্য আপলোড করা হবে। পাশাপাশি জেলার প্রত্যেকটি স্কুলের জন্য একটি করে অনলাইন প্রোফাইল তৈরি করা হবে। সেই প্রোফাইলেও স্কুলের নাম, ঠিকানা সহ যাবতীয় তথ্য থাকবে। ওই স্কুলের অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ প্রোফাইলে আপলোড করা হবে। ফলে সহজেই বোঝা যাবে স্কুলটি মালদহের ঠিক কোন জায়গায়। এরপর সংশ্লিষ্ট শিক্ষক বা শিক্ষিকার স্মার্টফোনে অ্যাপের সঙ্গে তিনি যে স্কুলে চাকরি করছেন তার প্রোফাইল  ট্যাগ করে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে স্কুলের প্রোফাইলে শিক্ষকদের একটা করে পৃথক অ্যাকাউন্টও তৈরি হবে। অ্যাপের মাধ্যমে মালদহের সমস্ত স্তরের অর্থাৎ প্রাথমিক, জুনিয়র হাই এবং হাইস্কুলের প্রত্যেক শিক্ষক, শিক্ষিকার অ্যাকাউন্ট খোলা হবে। মালদহে ১ হাজার ৯৪২টি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে। শিক্ষক, শিক্ষিকার সংখ্যা ১৯ হাজার। জুনিয়র হাই মাদ্রাসা ও হাইস্কুলের মোট সংখ্যা ৫৬৫। মোট ৮ হাজার শিক্ষক, শিক্ষিকা কর্মরত। 
কিন্তু উপস্থিতির প্রমাণ মিলবে কীভাবে? শিক্ষক, শিক্ষিকাদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে স্কুলে পৌঁছতে হবে। স্কুলে ঢুকে ওই নির্দিষ্ট অ্যাপে ওটিপি দিয়ে লগ ইন করে অ্যাপে অ্যাটেন্ডেন্স দিতে হবে। এর ফলে দুটো বিষয় সম্পর্কে প্রশাসন নিশ্চিত হতে পারবে। প্রথমত এই পদ্ধতি চালু হওয়ার ফলে শিক্ষক, শিক্ষিকারা আর দেরি করে নিজেদের ইচ্ছেমতো স্কুলে ঢুকতে পারবেন না। দ্বিতীয়ত, তাঁরা বাড়িতে বসেও অ্যাপের মাধ্যমে নিজেদের অ্যাটেন্ডেন্স দিতে পারবেন না। কারণ অ্যাটেন্ডেন্সের সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের ‘লাইভ লোকেশন’ অ্যাপের মাধ্যমে জানা যাবে। ফলে স্কুলে গিয়েই অ্যাপের মাধ্যমে নিজেদের অ্যাটেন্ডেন্স দিতে হবে। 
এর আগে বিভিন্ন স্কুলে বায়োমেট্রিক মেশিনের সাহায্যে উপস্থিতির ওপর নজরদারি চালানো হত। কিন্তু বহুক্ষেত্রেই লক্ষ্য করা গিয়েছে শিক্ষক, শিক্ষিকারা স্কুল শুরুর সময় গিয়ে বায়োমেট্রিক মেশিনে তাঁদের অ্যাটেন্ডেন্স দিয়েই বেরিয়ে যেতেন। আবার বিকেলে স্কুল ছুটির সময় গিয়ে তাঁরা বায়োমেট্রিকে লগ আউট করে আসতেন। 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ