Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

পারিবারিক কারণে খেলাই ছেড়ে দিয়েছিলেন শিবম

দু’বছর আগে রোহিতের নেতৃত্বে বিশ্বকাপ জয়েও রেখেছিলেন অবদান। ফাইনালে ব্যাট হাতে ঝলসে উঠেছিলেন

পারিবারিক কারণে খেলাই ছেড়ে দিয়েছিলেন শিবম
  • ১১ মার্চ, ২০২৬ ১৪:০৩
Prefer us on Google

সৌরাংশু দেবনাথ, আমেদাবাদ: দু’বছর আগে রোহিতের নেতৃত্বে বিশ্বকাপ জয়েও রেখেছিলেন অবদান। ফাইনালে ব্যাট হাতে ঝলসে উঠেছিলেন। ঘরের মাঠে সূর্যকুমার যাদবের হাতে ট্রফি ওঠাতেও থাকল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। মোতেরায় মধ্যরাতে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের সময় ক্রিকেটপ্রেমীদের ‘দুবে, দুবে’ গর্জন তারই স্বীকৃতি। মুহূর্তটা মনের মধ্যে চিরদিন আঁকা থাকবে শিবমের।

Advertisement

অথচ, ক্রিকেট স্বপ্নে দাঁড়ি পড়েছিল মাত্র ১২ বছর বয়সে। ছেড়ে দিয়েছিলেন খেলা। পারিবারিক সমস্যা কাঁটা হয়ে বিঁধেছিল। সেখান থেকে কোচ সতীশ সামন্তের উদ্যোগেই ব্যাট-বলের জগতে ফেরা। মধ্যিখানে যদিও কেটেছে বছর পাঁচেক। বান্দ্রায় সঞ্জীবনী ক্রিকেট সেন্টারে ফের জল-হাওয়া পায় সেই স্বপ্ন। ১৭ বছর বয়সির লম্বা চেহারা দেখে কোচ অবশ্য প্রথম পেসার বলেই ভেবেছিলেন। ক্রমশ বাটে বড় বড় শট নজর কাড়ে। সতীশ স্যারের স্মৃতিচারণ, ‘দারুণ উচ্চতা, ফলে বাউন্স আদায় করতে পারে। ক্রমশ দেখলাম শুধু পেসটাই নয়, ব্যাটেও প্রতিভা রয়েছে।’ 
ক্রিকেট সাধনার সেই শুরু। আন্ধেরি যোগেশ্বরী থেকে লোকাল ট্রেনে বান্দ্রা কুড়ি মিনিট। সেটাই পরিণত হয় শিবমের রুটিনে। আইপিএলে স্পিনের বিরুদ্ধে ঝড় তুলতেই প্রধান ব্যবহৃত হন তিনি। কিন্তু নীলরঙা জার্সিতে চাপের মুখে পেসারদেরও পাঠাচ্ছেন সীমানায়। ইডেনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে কার্যত কোয়ার্টার-ফাইনালে ১৯তম ওভারে শামার জোসেফকে মেরেছিলেন দুটো বাউন্ডারি। মোতেরায় ফাইনালেও আট বলে অপরাজিত থাকেন ২৬ রানে। ছোট্ট হলেও অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ইনিংস। না হলে স্কোর আড়াইশো পেরোয় না!
আট ইনিংসে ১৬৯.০৬ স্ট্রাইক রেটে শিবমের ব্যাটে এসেছে ২৩৫ রান। গড়ে ভারতীয়দের মধ্যে সঞ্জু স্যামসনের (৮০.২৫) পরেই বাঁ-হাতি অলরাউন্ডার (৩৯.১৬)। ছক্কাই মেরেছেন ১৭টা। শিবমের সাফ কথা, ‘আমার কাজটাই হল ওভার বাউন্ডারি হাঁকানো। নিজেকে বলেছিলাম, সুযোগ পেলে ছয় হাঁকাবই। আসলে এই দলে সবাই ম্যাচ উইনার।’ সতীশের মতে, ‘সর্বোচ্চ পর্যায়ে সফল হতে গেলে পেস-স্পিন, উভয়ের বিরুদ্ধেই দক্ষতা প্রয়োজন। জাতীয় দলের হয়ে বেশি বল খেলার সুযোগ পায় না। পরের দিকে নামে। প্রথম থেকেই চালাতে হয়। তারমধ্যেই নিয়মিত ২০-২৫ করেছে। আগে অনসাইডে শট নিত। এখন অফেও মারছে।’ 
কিন্তু বোলার শিবম তো ভরসা জোগাতে পারছেন না। আক্ষেপ রয়েছে নিজেরও। বিশ্বজয়ের রাতেই স্বীকারোক্তি, ‘বোলিং নিয়ে প্রচুর খেটেছি। কিন্তু তা আসল সময়ে মেলে ধরতে পারিনি।’ অভিষেক শর্মার ফর্মে ফেরায় যদিও মুম্বইকরের অবদান। তাঁর ব্যাট নিয়েই যে ফাইনালে নেমেছিলেন বাঁ-হাতি ওপেনার। শিবম শোনালেন, ‘অভিষেক বলল আমার ব্যাটটা ধার নিতে পারে কি না। হ্যাঁ বলি। ও রান করায় আনন্দ পেয়েছি।’ অন্যের সাফল্যে আনন্দ। সূর্য ব্রিগেডের বিশ্বজয়ের নেপথ্যে এই গনগনে টিম স্পিরিটই!

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ