Bartaman Logo
১৬ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

এনসিপিআইয়ের প্রেসিডেন্ট শিউলি কুণ্ডর বাড়ি রানাঘাটে! ‘ভালো লাগছে’, বললেন প্রেসিডেন্টের স্বামী

এনসিপিআইয়ের প্রেসিডেন্ট শিউলি কুণ্ডুর বাড়ি রানাঘাটে। স্বামী উত্তীয় কুণ্ডুর মন্তব্যে রাজনৈতিক জল্পনা বাড়ছে। বিস্তারিত পড়ুন।

এনসিপিআইয়ের প্রেসিডেন্ট শিউলি কুণ্ডর বাড়ি রানাঘাটে! ‘ভালো লাগছে’, বললেন প্রেসিডেন্টের স্বামী
  • ১৬ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

অগ্নিভ ভৌমিক. কৃষ্ণনগর: ডিজেল-পেট্টলের দাম বাড়ল কি বাড়ল না, পঁচিশ দিনে বুক করেও রান্নার গ্যাস পাওয়া গেল কি গেল না—এসব চর্চা এখন থাক। জাতীয় রাজনীতিতে এখন সবচেয়ে আলোচিত বিষয় এনসিপিআই বা ন্যাশানাল সিটিজেন্স পার্টি অফ ইণ্ডিয়া। হঠাৎ উদিত একটি রাজনৈতিক দল। আর উদয় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ২০ জন সাংসদের সংসার! বাংলায় লোকসভার মোট আসন ৪২। বসিরহাট কেন্দ্রটি বাদ দিলে ৪১টি। এরমধ্যে শাসকদল বিজেপির সাংসদ সংখ্যা মাত্র ১২। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে এই মুহূর্তে ন’জন সাংসদ। বাকিরা সবাই এনসিপিআইয়ের! যাঁরা সকলেই তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদ। যে দলটি এই ক’দিন আগে পর্যন্ত বঙ্গবাসীর কাছে অজ্ঞাত, বাংলার নির্বাচনে যে দলটির কোনো কর্মকাণ্ড নেই, সেই দল এখন বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ’র বড় শরিক। জনাদেশ ছাড়া তেলেগু দিশম পার্টি ১৬ জন সাংসদকে টপকে এনসিপিআই এখন শীর্ষে! এ নিয়ে জাতীয় রাজনীতির চর্চায় রাতারাতি স্থান করে নিয়ে নদীয়া জেলাও। কারণ, দলটির শিকড় গ্রোথিত নদীয়ায়।  

Advertisement

কীভাবে? এনসিপিআইয়ের বর্তমান সভাপতি শিউলি কুণ্ডু। তাঁর বাপের বাড়ি ও শ্বশুরবা঩ড়ি রানাঘাটে। স্বামী উত্তীয় কুণ্ডুও রানাঘাটের বাসিন্দা। স্বামী-স্ত্রী এখন হাওড়ার সাঁকরাইলের বানিপুরে থাকেন। নির্বাচন কমিশনের খাতায়-কলমে তাঁদের দলটির অফিসিয়াল ঠিকানা সেটাই। উত্তীয়বাবুকে সোমবার ফোন করা হলে তিনি বলেন, ‘আমাদের ভালো লাগছে।’ তারপরই তাঁর মোবাইলের সুইচ অফ হয়ে যায়। এদিকে, দলটির ফেসবুক পেজে একটি ছবি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে। সেখানে উত্তীয়বাবুকে তৎকালীন বিরোধী দলনেতা, বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা গিয়েছে। ফলে, অতীতে এনসিপিআইয়ের সঙ্গে বিজেপির সম্পর্ক ছিল বলে মত রাজনীতির কারবারিদের।  
‎রানাঘাটে খোঁজ নিয়ে জানা গিয়েছে, উত্তীয় ও শিউলির দু’টি ফ্ল্যাট ছিল রানাঘাটের চৌরঙ্গীমোড় এবং সিদ্ধেশ্বরী মোড় এলাকায়। সেগুলি পরে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। উত্তীয়র বাবা ছিলেন পুরসভার কর্মী। মা ছিলেন স্কুল শিক্ষিকা। একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের অঙ্ক পড়াতেন উত্তীয়। পাশাপাশি তিনি রানাঘাটে একটি অনাথ আশ্রমও প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। অন্যদিকে, শিউলির বাপের বাড়ি রানাঘাটের হিজুলি এলাকায়। হিজুলি শিক্ষা নিকেতনে পড়াশোনা করতেন। ২০০৮ সালে তিনি একটি পত্রিকা প্রকাশনা শুরু করেন। ২০১৪ সাল পর্যন্ত দম্পতি রানাঘাটেই বসবাস করতেন। স্থানীয় এক বাসিন্দার কথায়, ‘রানাঘাট ছেড়ে যাওয়ার পর শুনেছিলাম, ওঁরা প্রথমে চাকদহে থাকতেন। পরে সাঁকরাইলে চলে যান।’
রবিবার সন্ধ্যায় দিল্লিতে নাটকীয়ভাবে তৃণমূলের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার জানান, তাঁরা এনসিপিআই পার্টির সঙ্গে যুক্ত হচ্ছন। তারপর থেকেই কুণ্ডু দম্পতিকে নিয়ে জাতীয় ও রাজ্য-রাজনীতি তোলপাড়। কিন্তু, দু’জনেই আপাতত প্রকাশ্যে আসছেন না, অন্তরালে! -শিউলি কুণ্ডু ও উত্তীয় কুণ্ডু।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ