Bartaman Logo
১৬ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ময়দানে নেই তৃণমূল, ১২ বছর পর সালারের শ্রমিক সংগঠনের অফিসের ফের দখল নিল সিপিআইএম

১২ বছর পর সালারের শ্রমিক সংগঠনের অফিস দখল নিল সিপিআইএম। তৃণমূলের নেতাদের অনুপস্থিতিতে কর্মীরা কংগ্রেস ও সিপিএমে যোগ দিচ্ছেন। বিস্তারিত পড়ুন।

ময়দানে নেই তৃণমূল, ১২ বছর পর সালারের শ্রমিক সংগঠনের অফিসের ফের দখল নিল সিপিআইএম
  • ১৬ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

ইন্দ্রজিৎ কর্মকার, কান্দি: ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকে রাজনৈতিক কর্মসূচীতে নেই তৃণমূল। দলের নেতানেত্রীদেরও সচরাচর দেখা না মেলার অভিযোগ। এমন অবস্থায় ভরতপুর বিধানসভা এলাকার তৃণমূল কর্মী সমর্থকরা কংগ্রেস ও সিপিএমে যোগ দিতে ভিড় জমাচ্ছেন বলে দাবি। আর এসবের মধ্যে প্রায় ১২ বছর পর রবিবার সন্ধ্যায় সালারে শ্রমিক সংগঠনের অফিসের ফের দখল নিয়েছে সিপিএম।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যে পালাবদল হলেও ভরতপুর বিধানসভা কেন্দ্র তৃণমূলের দখলেই রয়েছে। এই কেন্দ্রে বিজেপিকে হারিয়ে বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন তৃণমূলের মুস্তাফিজুর রহমান। কিন্তু ফল ঘোষণার পর দীর্ঘদিন তাঁর দেখা পাওয়া যায়নি বলে দলের কর্মী সমর্থকদের অভিযোগ। দেখা মিলছে না দলের অন্যান্য নেতাদেরও। নেই কোনো জনসংযোগ থেকে রাজনৈতিক কর্মসূচী। ফলে তৃণমূলের কর্মী সমর্থকরা কার্যত দিশাহারা হয়ে পড়েছেন বলে জানাচ্ছেন। ভরতপুরের তৃণমূল কর্মী আশারুল শেখ বলেন, মমতাদি যতদিন বেঁচে থাকবেন, ততদিন আমরা তৃণমূল করে যাব। কিন্তু কার নেতৃত্বে লড়াই করবো? এখানকার ব্লক সভাপতিকেও ভোটের ফল প্রকাশের পর আর দেখা পাওয়া যাচ্ছে না। প্রায় একই বক্তব্য তৃণমূল কর্মীদের একাংশের। এনিয়ে ভরতপুর ১ প্রাক্তন ব্লক সভাপতি নজরুল ইসলামকে ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
রাজনৈতিক মহল সূত্রে জানা গিয়েছে, আর ঠিক এই কারণেই তৃণমূলের কর্মী সমর্থকরা ভিড় জমাচ্ছেন কংগ্রেস ও বাম দলগুলিতে। ভোটের পর এলাকায় কংগ্রেস, সিপিএম ও আরএসপি’র সদস্য সংখ্যা অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। যার প্রমাণ রবিবার সন্ধ্যায়।
এদিন সালারে এসআইআর ইস্যুতে সিপিএমের একটি মিছিল বের হয়। ওই মিছিলে ব্যাপক জমায়েত লক্ষ্য করা গিয়েছে। মিছিলটি তালিবপুর গ্রামে যেতেই স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই মিছিলে নিজে থেকেই অংশ নেন বলে দাবি। এরপর তালিবপুর গ্রামে ২০১২ সালে দখল হয়ে যাওয়া সিপিএমের শ্রমিক সংগঠনের অফিসটি ফের দখল করা হয়। তৃণমূলের পতাকা খুলে ফেলে সেখানে লাল ঝাণ্ডা লাগিয়ে দেওয়া হয়। এনিয়ে সিআইটিইউ এর রাজ্য কমিটির সদস্য তথা সিপিএমের জেলা কমিটির সদস্য গোলাম মওলা বলেন, বিজেপির মধ্যে কিছুটা নিয়মশৃঙ্গলা থাকলেও তৃণমূলের মধ্যে এসব কিছুই নেই। কাজেই এই দল থাকবে না তা জানাই ছিল। মারধর করে, জোর করে দখল নেওয়া তৃণমূলের কালচার। মানুষ বুঝতে শিখেছেন বলে তৃণমূলকে উচিত শিক্ষা দিয়েছেন। সিপিএম একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ দল বলেই মানুষ আমাদের সঙ্গ দিচ্ছেন। তালিবপুরের পার্টি অফিস আমরা ফের ফিরিয়ে নিতে পেরে গর্বিত।
প্রায় একই ছবি দেখা গিয়েছে কংগ্রেস শিবিরেও। গত প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে এলাকার অসংখ্য তৃণমূল কর্মী দল ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন বলে দাবি। ইতিমধ্যে সালার ও তালিবপুর পঞ্চায়েত থেকে বেশ কিছু তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্যও কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন। কংগ্রেসের ভরতপুর বিধানসভা কনভেনার মহম্মদ আজাহারউদ্দিন বলেন, এলাকায় তৃণমূল বলে আর কিছু নেই। তৃণমূলের নেতারা দোটানায় থাকলেও একজন কর্মীও তৃণমূলের নেই। তাঁরা হয় কংগ্রেসে, নয়ত বাম দলগুলিতে যোগ দিচ্ছেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ