Bartaman Logo
২৪ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জনকল্যাণ শিবিরে আয়ুষ্মান ভারত নিয়েই উৎসাহ বেশি

হলদিয়া শিল্পাঞ্চলে আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনার ফর্ম তুলতে জনকল্যাণ শিবিরে উপচে পড়ল ভিড়।

জনকল্যাণ শিবিরে আয়ুষ্মান  ভারত নিয়েই উৎসাহ বেশি
  • ১৬ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, হলদিয়া: হলদিয়া শিল্পাঞ্চলে আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনার ফর্ম তুলতে জনকল্যাণ শিবিরে উপচে পড়ল ভিড়। প্রথমদিনেই হলদিয়া পুরসভা, সুতাহাটা ও হলদিয়া ব্লক মিলিয়ে ৮ হাজারের বেশি আয়ুষ্মান ভারত যোজনার ফর্ম বিলি হয়েছে। অন্যান্য জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বা যোজনার চেয়ে আয়ুষ্মানেই বেশি আগ্রহ ছিল মানুষের। আয়ুষ্মান ভারত ও অন্নপূর্ণা যোজনা এই দু’টি সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতেই শহর ও লাগোয়া শহরতলির শিবিরগুলিতে দিনভর দীর্ঘ লাইন চোখে পড়েছে। তীব্র রোদ ও প্রচণ্ড গরমে ছাতা মাথায় দাঁড়িয়ে লাইন দেয় মানুষ। মহিলাদের উপস্থিতি ছিল সবচেয়ে বেশি। জনকল্যাণ শিবিরের প্রথমদিনে সর্বত্র অব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভপ্রকাশ করেন বাসিন্দারা। 

Advertisement

হলদিয়া পুরসভার রবীন্দ্র নজরুল মঞ্চের জনকল্যাণ শিবিরে ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হয় পুর কর্মীদের। বিধায়কের নির্দেশে বিজেপি কর্মীরা পরিস্থিতি সামাল দেন। তাঁরাই এদিন সঠিক রেজিস্ট্রেশন টেবিলে পৌঁছে দেন শিবিরে আসা মানুষজনকে। শুধু পুরসভা নয়, হলদিয়া ব্লকেও শিবিরে অব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভপ্রকাশ করেন মানুষজন। তাঁরা বলেন, কোন শিবিরে কোন টেবিলে কোন যোজনা বা প্রকল্পের রেজিস্ট্রেশন হচ্ছে তা চিহ্নিত করা নেই। ফলে বিপাকে পড়তে হয়েছে মানুষকে। এরফলে রেজিস্ট্রেশনের গতি কমে যায়। প্রচণ্ড গরমে শিবিরে এক লাইন থেকে অন্য লাইনে দীর্ঘক্ষণ ঘুরপাক খেয়ে বিরক্ত হন মানুষজন। সঠিকভাবে গাইড করার লোকজনই দেখা যায়নি। অবশ্য বিজেপি কর্মীরা এবিষয়ে সহযোগিতা করেন। তাঁরা বয়স্কদের জলের ব্যবস্থা করা, বাড়ি ফেরার জন্য টোটোর ব্যবস্থা করে দেন। মহকুমাশাসক তথা পুর প্রশাসক সুরভি সিংলাকে এদিন দুপুর নাগাদ পুর কর্মী ও আধিকারিকদের উপর বিরক্ত হতে দেখা গিয়েছে। জানা গিয়েছে, সমন্বয়ের অভাবের কারণে কিছু সমস্যা হয়েছিল। তবে হলদিয়া পুরসভায় অনলাইন নেটওয়ার্ক ও সার্ভারের গণ্ডগোলের জন্য রেজিস্ট্রেশনের কাজে দেরি হয়। ফলে অধৈর্য হয়ে পড়েন মহিলারা। এদিন হলদিয়া পুরসভা সহ লাগোয়া ব্লকের শিবির ঘুরে দেখেন মন্ত্রী হরেকৃষ্ণ বেরা। 
পুরসভার শিবিরে আসা মহিলারা বলেন, নতুন সরকারের আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধা রাজ্য সহ দেশের অন্যান্য বড় হাসপাতালেও মিলবে। সেজন্য কষ্ট হলেও লাইন দিয়ে ফর্ম নিচ্ছি। এক দোকানকর্মী বলেন, আগেই আয়ুষ্মান ভারতের কার্ড করেছি। এদিন শিবিরে এসে ওই কার্ড অ্যাকটিভ কি না যাচাই করেছি। পুরসভায় এদিন হাজারের বেশি ফর্ম বিলি হয়েছে। আধার কার্ডের নম্বর রেজিস্ট্রেশন করে ফর্ম দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি শিবিরেই এদিন চারাগাছ দেওয়া হয়েছে মানুষজনকে। 
হলদিয়া ব্লকের শিবিরে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর খাবার দোকান ও হাতের কাজ দেদার বিক্রি হয়েছে। শিবিরে আগত মানুষের জন্য বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরামর্শ এবং সচেতনতা কর্মসূচিরও ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ