সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: রঘুনাথপুর শহরের হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সরকারি জায়গা ছেড়ে দেওয়ার জন্য নোটিস দেওয়া হয়েছে। নোটিস পেয়ে দিশেহারা দোকানদার ও হকাররা। ৩০-৪০ বছর ধরে সামান্য ছোট্ট জায়গা নিয়ে ব্যবসা করা মানুষদের দুশ্চিন্তায় ঘুম উড়েছে। সামান্য দোকানের উপর নির্ভর করে যাদের সংসার চলত, এখন তাদের পথে বসার উপক্রম। হকার ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, করোনা পরিস্থিতি তাদের অর্ধেক মেরে ফেলেছিল। গত কয়েক বছরে কোনোক্রমে উঠে দাঁড়াতে পারলেও এবার চিরতরের মতো তাদের জীবিকা বন্ধ হয়ে গেল। কেউ লেখাপড়া শিখে চাকরি না পেয়ে পূর্বপুরুষের দোকান সামলাচ্ছিল। কেউ আবার দোকান করতে গিয়ে প্রৌঢ় হয়েছে। এই বয়সে কোথায় যাবে, কী করবে সে কথা ভাবতে গেলেই যেন তাঁদের মাথায় বাজ পড়ার উপক্রম। সরকারি জমির উপর থাকা ব্যবসায়ীদের প্রতি মানবিক হওয়ার জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের তরফ থেকে প্রশাসনকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি কংগ্রেস নেতৃত্ব হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যে পালাবদলের পরেই হকার উচ্ছেদ শুরু হয়। সেই সময় রঘুনাথপুরের ব্যবসায়ীরাও উচ্ছেদের আশঙ্কা করেছিল। তাদের আশঙ্কা সত্যি করে ৩ জুন পুরসভার তরফ থেকে শহরের সরকারি জায়গা দখল করে থাকা ব্যবসায়ীদের জায়গা খালি করে দেওয়ার জন্য মাইকিং করা হয়। তার ছ’ দিন পর মহকুমা প্রশাসন পথে নামে এবং দোকানদারদের সরে যাওয়ার জন্য জানানো হয়। বিনা নোটিসে দোকানদারদের সরে যাওয়ার বিষয়টি অনৈতিক হবে বলে পূর্তদপ্তর দোকানদারদের নোটিস দেয়। রঘুনাথপুর কলেজ মোড় থেকে বুন্দলা সেতু পর্যন্ত রাজ্য সড়কের দুই পাশে থাকা দোকানদারদের উঠে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তারপরেই দোকানদারেরা নিজেদের দোকান ভাঙতে শুরু করেন।
মোবাইল রিপেয়ারিং দোকান করে সংসার চালানো ফাল্গুনী ভায়া বলেন, সবকিছু শেষ হয়ে গেল। এই বয়সে কোথায় যাব? সরকারের তরফ থেকে পেনশন পাব না। পরিবার নিয়ে অনেক কিছু ভাবনা চিন্তা ছিল। সামান্য ছোট্ট জায়গা নিয়ে কোনো রকম দোকান করে সংসার চলত।
ছোট্ট চা দোকান করে কোনোরকমে সংসার চালানো পাপ্পু দাস বলেন, উন্নয়নের স্বার্থে এলাকার কারখানাগুলির জন্য রাস্তা সম্প্রসারণের প্রয়োজন রয়েছে। তাহলে সেই কারখানাগুলিতে আমাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হোক। না হলে অন্তত ১০ ফুটের মতো জায়গায় দোকান করার জন্য দেওয়া হোক। অথবা অন্যত্র পুনর্বাসনের ব্যবস্থা হোক। আমরা সংসার নিয়ে কোথায় যাব।
ফুটপাতে বসবাসকারী প্রতিমা বাউরি, মেনকা সিং বলেন, আমাদের উচ্ছেদ করা হলে কোথায় যাব। আমাদের তো বাড়ি করার সামর্থ্য নেই। কোনোরকমে একটু জায়গায় বসবাস করছি। সরকার কি আমাদের পুনর্বাসন করতে পারবে না। নাকি আমাদের জন্য মানবিক হতে পারবে না।
কংগ্রেসের জেলা সাধারণ সম্পাদক অনুপ ভগৎ বলেন, উচ্ছেদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করলে পুলিশ প্রশাসনের তরফ থেকে মিথ্যা মামলা দিয়ে অথবা লাঠিচার্জ করে হাঁটিয়ে দেবে। তাই আমরা আইনের দ্বারস্থ হয়েছি। হাইকোর্টে আবেদন জানানো হয়েছে। ১৭ জুন শুনানি রয়েছে। এতগুলো মানুষ কোথায় যাবে। এসইউসির তরফ থেকে বিনয় ভট্টাচার্য বলেন, আমরা সরকারকে মানবিক হওয়ার আবেদন জানিয়েছি। উচ্ছেদকারীদের জন্য পুনর্বাসনের দাবি জানানো হয়েছে।