নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: উন্নয়ন, নাগরিক পরিষেবা সহ বিভিন্ন দিক থেকে এগিয়ে থাকা পঞ্চায়েতগুলি এবার ‘পাঠ’ দেবে পিছিয়ে থাকা পঞ্চায়েতগুলিকে। এমন শতাধিক এগিয়ে থাকা গ্রাম পঞ্চায়েত চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানে তৈরি হবে লার্নিং সেন্টার। পিছিয়ে পড়া এবং দুর্বল পঞ্চায়েতের জনপ্রতিনিধিরা সেখানে গিয়ে দু’দিন থেকে শিখবেন, কীভাবে ভালো কাজ করে সাফল্য আনা যায়। পরে তাঁরা নিজের পঞ্চায়েতকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সেই পথ অনুসরণ করবেন। যে পঞ্চায়েতের লার্নিং সেন্টারে প্রধান, উপপ্রধানরা আসবেন, সেই এলাকায় গ্রামবাসীদের বাড়িতে হোম স্টে’র মতো ব্যবস্থা করা হবে। জনপ্রতিনিধিরা সেখানে থাকবেন এবং লার্নিং সেন্টারে গিয়ে ক্লাস করবেন। দু’-তিনদিন পর ফিরে যাবেন নিজের এলাকায়। ক্লাস ও থাকা-খাওয়ার খরচ দিতে হবে লার্নিং সেন্টারের সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েতকে। এক কথায় বলা যায়, ‘গুরু’ পঞ্চায়েতগুলির কাছে শিক্ষা নেবে ‘শিষ্য’ পঞ্চায়েত।
পঞ্চায়েত দপ্তরের আধিকারিকরা বলছেন, এই এগিয়ে থাকা পঞ্চায়েতগুলি বাকিদের জন্য মডেল বলা চলে। এই পঞ্চায়েতগুলি বিভিন্ন সময় ভালো কাজ করে রাজ্য অথবা কেন্দ্রীয় সরকারের দ্বারা পুরস্কৃত হয়েছে। তাই অন্যান্য পঞ্চায়েতও যাতে এই পথ অনুসরণ করতে পারে, তার জন্যই এমন উদ্যোগ। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম বর্ধমানের বহু পঞ্চায়েতে লার্নিং সেন্টার গড়ে তোলা হবে। যেসব জায়গায় পঞ্চায়েত লার্নিং সেন্টার হবে, সেখানকার ডিপিআর, পরিকল্পনা ও প্রস্তাব তৈরি করে দপ্তরে জমা দিতে হবে সংশ্লিষ্ট জেলাকে।
কেন্দ্রীয় সরকারের ‘রাষ্ট্রীয় গ্রাম স্বরাজ অভিযান’ প্রকল্পের মাধ্যমে গোটা কর্মকাণ্ড বাস্তবায়িত হচ্ছে। কীভাবে লার্নিং সেন্টার পরিচালিত হবে, তার জন্য কেন্দ্র একটি ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর’ দিয়েছে প্রত্যেক জেলাকে। সেখানে বলা হয়েছে, যেসব পঞ্চায়েতে এই লার্নিং সেন্টার হবে, সেই পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ নানা বিষয়ে পাঠ দিতে পারবে। গ্রাম পঞ্চায়েত ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান তৈরি করা থেকে জীবিকা নির্বাহের পথ, পঞ্চায়েতের দৈনন্দিন কাজকর্ম পরিচালনা থেকে শুরু করে কম খরচে কর্ম সম্পাদনের কৌশল ইত্যাদি শেখানো হবে। শিশুবান্ধব গ্রাম, স্বাস্থ্যকর পরিবেশ গড়ে তোলার মতো থিমভিত্তিক কর্মসূচিও নিতে পারবে সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েত।