নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি ও কলকাতা: শিক্ষামিত্র, প্যারাটিচার, কিংবা শিক্ষা স্বেচ্ছাসেবক— যে নামেই ডাকা হোক না কেন, সাধারণ শিক্ষকের মতো তাঁরাও ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত চাকরি করবেন। যাবতীয় সুবিধা পাবেন। সোমবার স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ বহাল রেখে শীর্ষ আদালতের বিচারপতি সঞ্জয় কুমার এবং বিচারপতি সতীশচন্দ্র শর্মার বেঞ্চ জানিয়ে দিল, পশ্চিমবঙ্গ সর্বশিক্ষা মিশনের আবেদন খারিজ। শীর্ষ আদালতের এদিনের নির্দেশের ফলে রাজ্যের প্রায় সাড়ে তিন হাজার শিক্ষামিত্র উপকৃত হবেন।
২০০৪ সালে সর্বশিক্ষা মিশনের আওতায় শিক্ষামিত্র নামে এক শ্রেণির কর্মী নিয়োগ করে রাজ্য সরকার। যাঁরা মূলত স্কুল ইন্সপেক্টরের অফিসে কাজ করেন। ছাত্রছাত্রীদের স্কুলব্যাগ, জুতো ইত্যাদি বিতরণের পাশাপাশি স্কুলছুট পড়ুয়াদের ফেরানোর কাজেও উদ্যোগ নেন তাঁরা। পশ্চিমবঙ্গে ৩ হাজার ৩৩৭ জন শিক্ষাবন্ধু রয়েছেন। রাজ্য সরকার ২০১৩ সালে শিক্ষামিত্র নাম বদলে শিক্ষা স্বেচ্ছাসেবক বলে ঘোষণা করে। কিন্তু পরের বছর থেকে তাঁদের একাংশর ভাতা বন্ধ করে দেওয়া হয়। মামলা হয় কলকাতা হাইকোর্টে। সেখানে শিক্ষামিত্রদের জয় হয়। আদালত জানিয়ে দেয়, স্থায়ী শিক্ষকদের মতো তাঁরাও ৬০ বছর বয়স পর্যন্তই চাকরির যাবতীয় সুবিধা পাবেন। হাইকোর্টের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেই সুপ্রিম কোর্টে এসেছে রাজ্য প্রোজেক্ট ডিরেক্টর, পশ্চিমবঙ্গ সর্বশিক্ষা মিশন। এদিন শুনানির আগাগোড়া রাজ্যকে শীর্ষ আদালতের প্রবল ভৎর্সনার মুখে পড়তে বিচারপতিরা বলেন, ‘একবার বলছেন শিক্ষামিত্র, একবার শিক্ষা স্বেচ্ছাসেবক, প্যারাটিচার, চুক্তি চাকরি, এসব কী হচ্ছে? ভুলে যাবেন না ওঁরাও শিক্ষক।’