


ঢাকা, ১৭ জুলাই: বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের বর্ষপূর্তি হিসেবে গতকাল, বুধবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মস্থান গোপালগঞ্জে পদযাত্রা ও সভা করতে গিয়ে ব্যাপক অশান্তি হয়। প্রবল বিক্ষোভ-প্রতিরোধের মুখে পড়েন ছাত্র নেতারা। তাঁদের কর্মসূচি ঘিরে কার্যত রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে গোপালগঞ্জ। গতকাল, বুধবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দফায় দফায় পুলিস ও সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় শেখ হাসিনার দল আওয়ামি লিগের কর্মী-সমর্থকরা। সেনার গুলিতে গতকাল রাত পর্যন্ত চারজনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। যদিও আওয়ামি লিগের দাবি, মৃতের সংখ্যা আরও বেশি। আহতের সংখ্যা প্রায় পঞ্চাশ। আর এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ আওয়ামি লিগের নেত্রী শেখ হাসিনা। এক অডিয়ো বার্তায় তিনি বলেছেন মহম্মদ ইউনুসের বাসভবন পর্যন্ত লং মার্চ করতে।
মুজিব কন্যা বলেছেন, ‘গোপালগঞ্জে ছাত্রদের দল এনসিপি গন্ডগোল করেছে। ১৫ জন গুলিবিদ্ধ। সাত জন নিহত। কেউ কেউ বলছে, মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি। যাঁরা প্রাণ হারালেন, আমরা তাঁদের আত্মার শান্তি কামনা করছি। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি। গোপালগঞ্জে এখনও অত্যাচার চলছে। নির্যাতন চলছে। বুধবার এমন একটা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাল ওরা। সাতটা প্রাণ ঝরে গেল! আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। প্রতিবাদ এবং প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য দেশের মানুষের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি। ঘরে বসে থাকার সময় আর নেই। যা আছে, তা নিয়েই এখন পথে নামতে হবে। এদের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করতে হবে।’ গোপালগঞ্জের অশান্তির জেরে কার্ফু লাগু করেছে পুলিস। অশান্তির ঘটনায় এখনও পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়েছেন ২৫ জন। থমথমে গোপালগঞ্জ। বন্ধ দোকানপাট। বাস চলাচল বন্ধ। স্থগিত হয়ে গিয়েছে এইচএসসি পরীক্ষা। এদিকে গোপালগঞ্জের সংঘর্ষের ঘটনার তদন্তের জন্য একটি কমিটি গড়েছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস। যার মাথায় রয়েছেন স্বরাষ্ট্র দপ্তরের সিনিয়র সচিব। আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনার তদন্তের রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ইউনুস।