Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

শিবপুর থেকে বাবুঘাট লঞ্চ পরিষেবা বন্ধ, সমস্যায় কয়েক হাজার নিত্যযাত্রী

শিবপুর থেকে বাবুঘাট লঞ্চ পরিষেবা বন্ধ, সমস্যায় কয়েক হাজার নিত্যযাত্রী
  • ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: প্রায় এক বছর ধরে বন্ধ রয়েছে হাওড়ার শিবপুর থেকে বাবুঘাট লঞ্চ পরিষেবা। ফলে সমস্যায় পড়েছেন শিবপুর এলাকার কয়েক হাজার বাসিন্দা। বাধ্য হয়ে তাঁদের বাসে চড়েই নিত্যদিন কলকাতায় আসা-যাওয়া করতে হচ্ছে। স্বাভাবিক কারণেই ভোগান্তি বেড়েছে নিত্যযাত্রীদের। এই লঞ্চ পরিষেবা বন্ধ থাকায় গঙ্গাপাড়ের দোকানিদের প্রায় অনাহারে দিন কাটাতে হচ্ছে।
Advertisement
হুগলি নদী জলপথ পরিবহণ সমিতির অধীনে হাওড়ার শিবপুর লঞ্চঘাট থেকে ওপারে বাবুঘাট পর্যন্ত প্রতিদিন লঞ্চ চলাচল করত। প্রতিদিন যাতায়াত করতেন কয়েক হাজার যাত্রী। লঞ্চঘাটের তিনটি কাউন্টারে দিনভর নিত্যযাত্রীদের ভিড় লেগে থাকত। গত কয়েক বছর ধরে জেটিঘাট সংস্কারে ঢিলেমি, পুরনো লঞ্চগুলির বেহাল অবস্থার কারণে লঞ্চ পরিষেবা প্রায় সময় বিঘ্নিত হতো। ২০২৪ সালের মার্চ মাস থেকে এই রুটে লঞ্চ চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। 
বিষয়টি নিয়ে গত বছরের ডিসেম্বর মাসে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা হয়। সেই রায় বের না হওয়া পর্যন্ত শিবপুর থেকে লঞ্চ পরিষেবা কার্যত বিশবাঁও জলে। জানা গিয়েছে, আগে সরাসরি শিবপুর ঘাট থেকে লঞ্চ ধরে বাবুঘাট হয়ে কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় কাজে যেতেন বাসিন্দারা। সব থেকে বেশি সুবিধা হতো খুচরো ব্যবসায়ী, দিনমজুর ও শ্রমিকদের। বর্তমানে হয় চাঁদপাল ঘাট পর্যন্ত গিয়ে তাঁদের লঞ্চে ধরে হাওড়া স্টেশনে আসতে হচ্ছে, নাহলে বাস ধরে শিবপুরে ফিরতে হচ্ছে।
এদিকে, লঞ্চঘাট বন্ধ থাকায় সমস্যায় পড়েছেন গঙ্গাপাড়ের দোকানিরা। সকাল থেকে দোকান খুলে এখন দিনভর মাছি তাড়াতে হয় তাঁদের। আর্থিক অনটনে ভুগছেন সাইকেল ও বাইক স্ট্যান্ডের কর্মীরাও। ১৯৮০ সাল থেকে জেটিঘাটের পাশেই দোকান রয়েছে দেবু মাইতির। হাইকোর্টে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলার আবেদনকারীদের মধ্যে তিনিও একজন। দেবুবাবু বলেন, ‘আগে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দোকানে খদ্দেরের অভাব হতো না। এখন দিনে ২০০ টাকারও বিক্রি হয় না। লঞ্চ পরিষেবা চালু না হলে দোকান বন্ধ করে দিতে হবে।’ এ নিয়ে হুগলি জলপথ পরিবহণ সমিতির তরফে জানানো হয়েছে, হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা চলায় এখন রায়দানের দিকেই সকলে তাকিয়ে রয়েছেন। জেটিঘাটের পূর্ণ সংস্কার প্রয়োজন। যেহেতু কয়েকটি লঞ্চ সারাই হয়ে আসছে, তাই আইনি জটিলতা মিটলে লঞ্চ পরিষেবা চালু করা সম্ভব।  নিজস্ব চিত্র
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ