হায়দরাবাদ: আইপিএল নিলামে কেউ আগ্রহ দেখায়নি শার্দূল ঠাকুরের জন্য। এপ্রিল-মে মাসে বিলেতে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে এসেক্সের হয়ে খেলবেন বলে ঠিকই করে ফেলেছিলেন তিনি। এমন সময়েই পরিবর্ত হিসেবে তাঁকে নিতে আগ্রহ দেখায় লখনউ সুপার জায়ান্টস। ক্রমশ অন্য ফ্র্যাঞ্চাইজিও যোগাযোগ করে। কিন্তু শার্দূল সাড়া দেন লখনউয়ের প্রস্তাবেই। পারফরম্যান্সের মাধ্যমেই টিম ম্যানেজমেন্টের আস্থার মর্যাদা রেখেছেন মুম্বইকর। প্রথম দুই ম্যাচে তাঁর পকেটে ৬ উইকেট। তিনিই আপাতত টুর্নামেন্টের সর্বাধিক উইকেট শিকারী।
বৃহস্পতিবার সানরাইজার্স হায়দরাবদের বিরুদ্ধে বল হাতে আগুন ঝরান শার্দূল। ‘পার্পল ক্যাপ’ হাতে লখনউয়ের জয়ের নায়ক বলেছেন, ‘নিলামে আমাকে কেউ না নেওয়ায় ভেঙে পড়িনি। এগুলো ক্রিকেটে হয়েই থাকে। পরে অবশ্য আমার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করে ফ্র্যাঞ্চাইজিরা। তবে লখনউ যেহেতু আমাকে প্রথম প্রস্তাবটা দিয়েছিল, তাই তাদেরই হ্যাঁ বলি। তাছাড়া রনজি ট্রফির নক-আউটের সময় এলএসজি’র মেন্টর জাহির খান আমাকে ফোন করেছিল। সেটাও আমাকে প্রভাবিত করেছে।’ উপ্পলে ৩৪ রানে চার উইকেট নিয়ে হায়দরাবাদকে দুশোর আগেই থামিয়ে দেন শার্দূল। তাঁর শিকারের তালিকায় রয়েছেন অভিষেক শর্মা, ঈশান কিষান, অভিনব মনোহর ও মহম্মদ সামি। কোটিপতি লিগে ১০০ উইকেট হয়ে গেল ডানহাতি পেসারের। এই মরশুমে রনজি ট্রফিতেও ছন্দে ছিলেন শার্দূল। মুম্বইয়ের হয়ে ৯ ম্যাচে তিনি নেন ৩৫ উইকেট। নিজের বোলিং প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য, ‘নিজের স্কিল নিয়ে কোনও সংশয় ছিল না। আসল হল ফর্মে থাকা। ক্রিকেটে খারাপ দিন থাকবেই। ভালো লাগছে সানরাইজার্সের বিরুদ্ধে সেরা পারফরম্যান্স মেলে ধরতে পেরে। তবে আসল হল দলের জয়। আর তাতে অবদান রাখাই আমার লক্ষ্য থাকে। সানরাইজার্সকে থামাতে গেলে শুরুতে উইকেট নেওয়া জরুরি ছিল। সেই দায়িত্ব পালনে সফল হয়ে ভালো লাগছে।’
শার্দূলকে প্রশংসায় ভরিয়ে লখনউয়ের ওপেনার মিচেল মার্শ বলেছেন, ‘অসাধারণ বল করল। ট্রাভিস হেড, অভিষেকদের বিরুদ্ধে শুরুতে ওর অভিজ্ঞতা কাজে এসেছে। পরে ডেথ ওভারেও দারুণ বল করেছে শার্দূল।’ পুরানের বিস্ফোরক ব্যাটিং নিয়ে মার্শ বলেছেন, ‘আমি শুধু একটা শব্দই ওর ব্যাটিংয়ের জন্য ব্যবহার করতে পারি— চিত্তাকর্ষক। দীর্ঘদিন ধরে পুরানের বিরুদ্ধেই খেলেছি আমি। সাধারণত উল্টোদিকে দাঁড়িয়েই ওর এমন ধুন্ধুমার ব্যাটিংয়ের সাক্ষী থেকেছি। এবার একই দলে থাকায় দারুণ লাগল। ওর সঙ্গে জুটিটা উপভোগ করছি।’