শান্তনু দত্ত: ‘ক্যান্সার হয়েছিল মেয়েটির। বছর ছয়েক বয়স। ‘একটা গান শোনাব’, আমায় জিজ্ঞাসা করেছিল। তারপর গান ধরল, এক পল তো হামে জিনে দো...।’ গল্প বলতে বলতে চোখ যেন হালকা ভিজে এল শান্তনু মৈত্রর। কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবের শেষদিনে দর্শকও তখন বাকরুদ্ধ। কেবল গান নয়, কথা ও সুরের জাদুতেও শান্তনু মুগ্ধ করলেন।
এদিন কেরিয়ারের শুরুর গল্প শোনালেন শান্তনু। আচমকাই বিজ্ঞাপনের জগতে জিঙ্গলস তৈরির সুযোগ এসেছিল তাঁর। ‘হঠাৎ একদিন সুযোগ এল। টেবিল বাজিয়ে একটা জিঙ্গল তৈরি করলাম। সেদিনই আত্মবিশ্বাস পেলাম, যে আমিও সুর বানাতে পারি’, বললেন শিল্পী। এরপর হল গান তৈরির ইচ্ছে। শুভা মুদগলের সঙ্গে তৈরি করলেন ‘আব কি শাওন’। সেই গানের সূত্রেই আলাপ হল মুম্বইয়ের বিখ্যাত পরিচালকদের সঙ্গে। সিনেমায় প্রথম কাজ প্রদীপ সরকারের ‘পরিণীতা’। সেই ছবির মতো সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে তাঁর কেরিয়ারও পা রাখল ২০ বছরে। শ্যাম বেনেগাল, রাজু হিরানি, সুজিত সরকার, অনিরুদ্ধ রায়চৌধুরীর মতো চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সঙ্গে কাজ করেছেন শান্তনু। প্রত্যেকের কাজের পৃথক ধরন তাঁকে অবাক করেছে।
গল্প, কথার মাঝে ‘বেহতি হাওয়া সা থা ও’, ‘যাও পাখি’ গেয়ে শোনান শান্তনু। তাঁর কথায়, ‘মিউজিক ডিরেক্টর কীভাবে হওয়া যায় আমার জানা ছিল না। আমার কোনও স্কুলিং নেই। অল ইন্ডিয়া রেডিও শুনতাম সারাক্ষণ। সেখান থেকেই গানের প্রতি আগ্রহ। আমি যেভাবে জীবনকে দেখেছি, সেটাই কাজে লাগিয়েছি।’ নতুন সঙ্গীত পরিচালকদের প্রতি তাঁর বার্তা, ‘মিউজিক কেবল যন্ত্রে নেই। জীবনকে উপলব্ধি করতে হবে।’ কীভাবে গায়ক-গায়িকা নির্বাচন করেন তিনি? শান্তনুর জবাব, ‘গানটা তৈরি হওয়ার আগেই আমি হয়তো শুনতে পাই, কে গাইলে শ্রুতিমধুর হবে। প্রথমে তাঁকেই বলি। তিনি রাজি না হলে গানটা তৈরি করি না। বিকল্প বেছে নিতে পারি না।’ তাঁর কাছে সাফল্যের সংজ্ঞা কী? জবাবে শান্তনু শোনালেন সেই ক্যান্সার আক্রান্ত মেয়েটির গল্প। সঙ্গে গাইলেন, ‘সারি উমর হাম মর মরকে জি লিয়ে...।’