নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিরোধী শিবির থেকে দলবদল করে তৃণমূলে শামিল হওয়ার লাইনে রয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন নেতা। তার ইঙ্গিত দিয়ে দিল তৃণমূল ভবন। ফলে আগামীদিন কারা জোড়াফুলের পতাকা হাতে নিতে চলেছেন, তা নিয়ে এখন থেকেই জোর জল্পনা শুরু রাজনৈতিক মহলে। ঘটনাচক্রে বুধবার তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে সুপরিচিত দাপুটে কংগ্রেস নেতা তথা প্রাক্তন বিধায়ক শঙ্কর মালাকার।
মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের ২০১১ ও ২০১৬ সালের বিধায়ক ছিলেন শঙ্কর মালাকার। দীর্ঘদিন ধরে তিনি দার্জিলিং জেলা কংগ্রেসের সভাপতি। এমনকী সর্বভারতীয় কংগ্রেস কমিটির সদস্যও ছিলেন তিনি। বুধবার বিকেলে শঙ্কর তৃণমূলের পতাকা হাতে তুলে নেন। উত্তরীয় পরিয়ে শঙ্করকে দলে স্বাগত জানান তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি ও রাজ্য সাধারণ সম্পাদক অরূপ বিশ্বাস। এছাড়াও যোগদান পর্বে ছিলেন তৃণমূল নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়। সুব্রতবাবু জানান, শঙ্করের তৃণমূলে যোগদানের মধ্যে দিয়ে আমরা উত্তরবঙ্গে আরও শক্তিশালী হলাম। গত মাসেই বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন আলিপুরদুয়ারের প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জন বারলা। ঠিক এক মাসের মধ্যে উত্তরবঙ্গ থেকেই এবার তৃণমূলে যোগ দিলেন শঙ্কর মালাকার। এই আবহে আরও কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তৃণমূলে যোগ দেবেন বলে ইঙ্গিত দিলেন রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। এদিন শঙ্কর মালাকারের যোগদানের সময় অরূপ বিশ্বাস বলেন, পিচে সুইং আছে। আরও অনেক উইকেট আসবে। দিল্লিতে যখন কংগ্রেস-তৃণমূলের ‘বোঝাপড়া’ চলছে সংসদের বিশেষ অধিবেশন নিয়ে, তখন দল ভাঙন জোট রাজনীতির পরিসরে অন্য বার্তা যাচ্ছে না? অরূপ বিশ্বাসের উত্তর, আমরা দল ভাঙাচ্ছি না। স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে অন্য দলের রাজনৈতিক নেতারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়ন কর্মযজ্ঞে শামিল হতে তৃণমূলে আসছেন।
দল বদল করেই কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন শঙ্করবাবু। তাঁর বক্তব্য, কংগ্রেসে থেকে কোনও লাভ নেই। বিজেপির বিরুদ্ধে কংগ্রেস লড়াই করতে পারছে না। কংগ্রেস বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে মানুষের থেকে। সেখানে বিজেপি বিরুদ্ধে তৃণমূলের লড়াই মানুষ দেখতে পাচ্ছেন। আর মানুষের জন্য উন্নয়ন করতে চাই বলেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলে শামিল হওয়া। একইসঙ্গে শঙ্কর উল্লেখ করেছেন, ২০১১ ও ২০১৬ সালে জিতে ১০ বছরের কংগ্রেস বিধায়ক ছিলাম। কিন্তু মানুষকে সেবা দিতে পারিনি। যে দল শাসন ব্যবস্থায় রয়েছে, সেই দলে থাকাটা জরুরি। তাই শঙ্করের আবেদন, যে কংগ্রেস নেতারা মানুষের জন্য কাজ করতে চান, তাঁরা তৃণমূলে শামিল হোন। আমি নিশ্চিত, আরও অনেকেই আগামী দিনে তৃণমূলে আসবেন বিজেপি পরাস্ত করার সংকল্প নিয়ে।
এদিন দুপুরে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানান, শঙ্কর মালাকারকে কংগ্রেসের সব পদ থেকে অপসারিত করা হল। যদিও শঙ্কর জানিয়েছেন, আমি মঙ্গলবার কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে’র কাছে ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দিয়েছি। কিন্তু প্রদেশ কংগ্রেসের ঘুম ভাঙল অনেক পরে।