নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এতদিন পর্যন্ত বিজেপির কোনো নিজস্ব শ্রমিক সংগঠন ছিল না। ভারতীয় মজদুর সংঘ বা বিএমএস দ্বারা তা পরিচালিত হত। কিন্তু শনিবার থেকে বিজেপির নিজস্ব শ্রমিক সংগঠনের যাত্রা শুরু হল। যার প্রথম ইউনিট তৈরি হল কলকাতা বিমানবন্দরে। যার নামকরণ করা হয়েছে, ‘নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কন্ট্রাক্টরর্স ওয়ার্কার্স মোর্চা।’ আর ইউনিয়নের উদ্বোধনী ব্যানারে লেখা ছিল, ‘বিমানবন্দরে শ্রমিকদের এই মোর্চা বিজেপির ট্রেড ইউনিয়নের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত।’
শ্রমিক সংগঠনের শুভারম্ভে বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা পশ্চিমবঙ্গের পর্যবেক্ষক সুনীল বনসল বলেন, ‘এটি একটি ঐতিহাসিক দিন। আজ থেকে দলীয়ভাবে আমাদের ট্রেড ইউনিয়ন শুরু হল। কলকাতা বিমানবন্দর থেকে এই ট্রেড ইউনিয়নের যাত্রা শুরু হল। এরপর অন্যান্য ক্ষেত্রেও তা প্রসারিত হবে।’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘শ্রমিক সংগঠনের সহকর্মীদের কাছে আমাদের একটাই আবেদন, আপনারা আপনাদের পাওনা, সুরক্ষা অধিকারের দাবিতে কথা বলবেন। আপনাদের কোনো বিরোধিতা থাকলে সেটাও করবেন। কিন্তু কোনো অবস্থায় পশ্চিমবঙ্গের ভাবমূর্তি কলুষিত করবেন না।’ ঠিক এই আবহেই দলের বেশ কিছু কর্মীর কাজকর্ম নিয়ে বিস্তর অভিযোগ এসেছে, তা গোপন করেননি শমীক। সেটা খোলা মঞ্চে তিনি তুলে ধরেন। বলেন, ‘দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে আমার কাছে কিছু খবর এসেছে। সাদা জামা পরে তার উপর গেরুয়া উত্তরীয় ঝুলিয়ে মাথায় তিলক কেটে রাস্তা থেকে চাঁদা তুলছেন। এসব চলবে না। বই পোড়ানো সমর্থন করি না। তালিবানি রাস্তা বেছে নেবেন না।’ ইন্ডি জোটের দিল্লির কর্মসূচি নিয়ে রাহুল গান্ধী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সিপিএমকে চড়া সুরে আক্রমণ করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর বক্তব্য, ‘উনি (মমতা) আবার দিল্লিতে গিয়েছেন। তৃণমূল দলটাই তো নেই। ওদের নাম, প্রতীক সব চলে গিয়েছে। কংগ্রেসের কবরস্থান খুঁড়তে আর বেবি ফুড খাওয়ার জন্য গিয়েছেন। একটা সময় তো তাঁকে নাকি বাঘিনী বলা হত। কিন্তু বাঘিনী আজকে আরশোলার সঙ্গে খেলা করছেন। সত্যিই যদি তিনি বাঘিনী হতেন তাহলে তো সিংহের সঙ্গে লড়াই করতেন। দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং গ্রেপ্তারের দাবিতে ইন্ডিয়া জোট রবিবার দিল্লিতে কর্মসূচি নিয়েছে। যার পালটা শমীক ভট্টাচার্য বলেন, জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে যাঁরা আঙুল তুলছেন, আসলে তাঁরা ভয় পেয়ে গিয়েছেন। কেননা সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন কি করে করতে হয়, সেটা জ্ঞানেশ কুমার দেখিয়ে দিয়েছেন। আমি জ্ঞানেশ কুমারকে শুধু পদ্মশ্রী নয়, পদ্মভূষণ দেওয়ার কথা বলছি। আর আমার মনে হয় এসআইআর প্রক্রিয়া এখনো অসম্পূর্ণ। নতুন করে এসআইআরের প্রয়োজন আছে। কেন না, ২০ লক্ষ ভুয়ো স্বাস্থ্যসাথীর কার্ড বাজেয়াপ্ত হয়েছে।



