নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: জমা জলের ভোগান্তি থেকে রেহাই পেল শালিমার জিআরপি থানা। বৃহস্পতিবার শালিমারের ভগবান গাঙ্গুলি লেনে জিআরপির নতুন ভবন ও বারাকের উদ্বোধন হল। এতে রেল পুলিসের ভোগান্তি কমলেও শালিমার স্টেশন থেকে দূরত্ব বেড়েছে নতুন থানার। ফলে কোনও অভিযোগ জানাতে অনেকটা ঘুরপথে আসতে হবে যাত্রীদের। এতে সমস্যা আরও বাড়ল বলে মনে করছেন অনেকে।
এদিন দুপুরে শালিমার জিআরপির নতুন থানা উদ্বোধন করেন রেল পুলিসের ডিজি দেবাশিস রায়। উপস্থিত ছিলেন হাওড়া সিটি পুলিসের জয়েন্ট সিপি কে শবরী রাজকুমার। অনেকটা জায়গা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন থানা ভবন। বহু বছর ধরে শালিমারের ভগবান গাঙ্গুলি লেনের পুরনো আমলের একটি ভবনে শালিমার জিআরপির কাজকর্ম চলত। রাস্তা থেকে পুরনো থানা অনেকটাই নিচু হওয়ার কারণে এক পশলা বৃষ্টি হলেই থানার ভিতরে জল জমে যেত। এমনকী ঘরগুলিতে জরুরি কাগজপত্র জলে ভাসত। জমা জল বের হতেও সময় লাগত অনেক। পাশাপাশি ছিল পোকামাকড়ের উপদ্রব। তাছাড়া শালিমার স্টেশন পর্যন্ত নতুন ওভারব্রিজের কাজ শুরু হওয়ায় পুরনো থানাটিও ভেঙে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। তাই পুরনো থানা থেকে বেশ কিছুটা এগিয়ে একই রাস্তায় তৈরি হয়েছে নতুন থানা। এতে রেল পুলিস স্বস্তি পেলেও আখেরে ভোগান্তি বাড়ল নিত্যযাত্রীদের। শালিমার জিআরপির বর্তমান থানা ভবন থেকে স্টেশনের দূরত্ব প্রায় দু’কিলোমিটার। স্টেশনে চুরি, ছিনতাইয়ের মতো কোনও ঘটনা ঘটলে এতদিন হেঁটে দুই অথবা তিন নম্বর রেলগেট পেরিয়ে এসে অভিযোগ জানাতে হতো যাত্রীদের। অথবা টোটো নিয়ে ওভারব্রিজ দিয়ে বেতাইতলা হয়ে ঘুরে এসে থানায় পৌঁছতে হতো। এখন সেই দূরত্ব আরও বেড়েছে। যাত্রীদের অনেকেই বললেন, ‘ট্রেন ছাড়ার আগে কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে নতুন যাত্রীরা থানা খুঁজে পাবেন না। ট্রেন ধরার তাড়া থাকলে অভিযোগ জানাতেও আসতে পারবেন না অনেকে। স্টেশন বিল্ডিয়ের সঙ্গেই জিআরপি থানা হওয়া উচিত ছিল।’ এই বিষয়ে রেল পুলিসের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
তবে শালিমার জিআরপির এক আধিকারিক বলেন, অভিযোগ জানাতে হলে কাউকে ঘুরেই আসতে হবে। তাছাড়া স্টেশনে কোনও অপরাধী ধরা পড়লে তাকে সরাসরি থানায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রেও পুলিসের অতিরিক্ত লোকবলের প্রয়োজন পড়বে। স্টেশনেই থানা থাকলে এই সমস্যা হতো না। নিজস্ব চিত্র