Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

শাহ-যোগীর লাগাতার সভা-রোড শো, প্রচারের শেষদিনেও পালে হাওয়া পেল না পদ্ম শিবির

ভোট প্রচারের শেষ দিনেও ভিনরাজ্যের নেতাদের দিয়ে বাজিমাত করতে চাইল বিজেপি। তবে কোথাও উল্লেখযোগ্য সাড়া না পেয়ে গেরুয়া নেতাদের কপালের ভাঁজ আরও চওড়া হল।

শাহ-যোগীর লাগাতার সভা-রোড শো, প্রচারের শেষদিনেও পালে হাওয়া পেল না পদ্ম শিবির
  • ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: ভোট প্রচারের শেষ দিনেও ভিনরাজ্যের নেতাদের দিয়ে বাজিমাত করতে চাইল বিজেপি। তবে কোথাও উল্লেখযোগ্য সাড়া না পেয়ে গেরুয়া নেতাদের কপালের ভাঁজ আরও চওড়া হল। সোমবার বিভিন্ন জায়গায় সভা, রোড শো করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। তবে হাওয়া তুলতে ব্যর্থ হল গেরুয়া শিবির। 

Advertisement

হুগলিতে ভোট প্রচারে আসেন যোগী আদিত্যনাথ। তারকেশ্বরে পৌঁছে বাবা তারকনাথের মন্দিরে পুজো দেন। সেখান থেকে ধনেখালি পৌঁছে জনসভা করেন। বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী বর্ণালী দাসের সমর্থনে মঞ্চ থেকে বক্তব্য রাখার সময় তৃণমূলকে আক্রমণের পাশাপাশি ডবল ইঞ্জিন সরকার প্রতিষ্ঠা হওয়ার দাবি করেন তিনি। তবে উপস্থিত সমর্থকদের মধ্যে উৎসাহ ছিল কম। ছিল না ভিড়। এছাড়া, রাজারহাট-গোপালপুরের বিজেপি প্রার্থী তরুণজ্যোতি তেওয়ারির সমর্থনে বাগুইআটির ৪৪ নম্বর বাসস্ট্যান্ডে সভা করেন যোগী। জয় মা কালী, জয় দুর্গা দিয়ে তিনি সভায় বক্তব্য শুরু করেন। সভার শেষে বলেন জয় শ্রীরাম। সেখানেও বাংলায় ডবল ইঞ্জিন সরকার আসছে বলে দাবি করেন তিনি। এদিন, চন্দননগরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর রোড শো ছিল কার্যত ফ্লপ। প্রচারের শেষদিন শাহকে এনেও হাওয়া তুলতে ব্যর্থ পদ্মশিবির। এদিনের রোড শো ঘিরে রাজনৈতিক প্রচারের চেয়ে বেশি ধর্মীয় উন্মদনার ছবি দেখা গিয়েছে। শান্ত জনপদে বিস্তর অশান্তির বাতাবরণ তৈরি করেছিল বিজেপ কর্মীরা। অভিযোগ, সাধারণ বিজেপি কর্মী বা চন্দননগরের দলের কর্মীদের থেকে অনেক বেশি ছিলেন ভিনরাজ্যের মানুষ। এদিন রোড শো থেকে কিছু সময় বক্তব্য রাখেন শাহ। তিনি বলেন, রামমন্দির করব বলেছিলাম, তা করেছি। এবার বলছি, বাংলাতে বাবরি মসজিদ করতে দেব না। একটা ইঁটও গাঁথতে দেব না।  বসিরহাট দক্ষিণের বিজেপি প্রার্থী শৌর্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে বসিরহাট বোর্ড ঘাট থেকে ময়লা খোলা পর্যন্ত রোড শো করেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। তিনি বলেন, যে রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী মহিলা সেই রাজ্যে আর জি কর, সন্দেশখালির মতো ঘটনা ঘটে। বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলি প্রতিনিয়ত এগিয়ে চলেছে। তাই বাংলায় বিজেপি দরকার। সীমান্ত শহর বসিরহাটের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবং বাংলাদেশ সীমান্তে ফেস্নিং বসাতে শৌর্য বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভোট দেওয়ার অনুরোধ করেন। যদিও বসিরহাট দক্ষিণের তৃণমূল প্রার্থী সুরজিৎ মিত্র (বাদল) গুরুত্ব দিতে নারাজ। তিনি বলেন কোভিডে কোথায় ছিলেন এই বিজেপির পরিযায়ী মন্ত্রীরা।  শৌর্যর সমর্থনে টাকি রাজবাড়ি থেকে বনবিবি সেতু পর্যন্ত মিছিল করেন রাষ্ট্রমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তৃণমূলকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, শিক্ষা থেকে স্বাস্থ্য, শিল্প থেকে কর্মসংস্থান সব এই সরকারের সময় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। যদিও বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃণমূল। তবে লাগাতার প্রচার সত্ত্বেও সমর্থকদের উৎসাহ ছিল কম। শেষ লগ্নেও হাওয়া তুলতে ব্যর্থ বিজেপি। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ