Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

৪ মে তৃণমূলের জয়ের সাক্ষী হতে কলকাতায় থাকুন শাহ: অভিষেক, গোটা বাংলায় বাজবে রবীন্দ্র সংগীত

একদিকে গোটা রাষ্ট্রযন্ত্র। অন্যদিকে, হাওয়াই চপ্পল পরা এক মহিলা! তাঁর পিছনে বাংলার ১০ কোটি মানুষ। এই লড়াইয়ে তৃণমূলের জয়ের সাক্ষী হতে ৪ মে অমিত শাহকে কলকাতায় থাকার ‘আমন্ত্রণ’ জানিয়ে রাখলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

৪ মে তৃণমূলের জয়ের সাক্ষী হতে কলকাতায় থাকুন শাহ: অভিষেক, গোটা বাংলায় বাজবে রবীন্দ্র সংগীত
  • ১৭ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, পটাশপুর, গোপীবল্লভপুর ও ওন্দা: একদিকে গোটা রাষ্ট্রযন্ত্র। অন্যদিকে, হাওয়াই চপ্পল পরা এক মহিলা! তাঁর পিছনে বাংলার ১০ কোটি মানুষ। এই লড়াইয়ে তৃণমূলের জয়ের সাক্ষী হতে ৪ মে অমিত শাহকে কলকাতায় থাকার ‘আমন্ত্রণ’ জানিয়ে রাখলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে শোনাবেন রবীন্দ্রসংগীত। তারস্বরে বাজবে গোটা বাংলায়। বৃহস্পতিবার পটাশপুর ও গোপীবল্লভপুরে নির্বাচনি জনসভা করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। দু’টি সভা থেকেই তিনি নিশানা করেন অমিত শাহকে। অভিষেক বলেন, ‘একদিকে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, ইলেকশন কমিশন, বিচার ব্যবস্থা, হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট, সংবাদ মাধ্যম, আধা সেনা, ইডি এবং সিবিআই। অন্যদিকে, বাংলার ১০ কোটি মানুষ এবং সামনে থাকা হাওয়াই চপ্পল পরা এক মহিলা। ৪ তারিখ হিসেব হবে। সেদিন কলকাতায় থাকুন অমিত শাহ। সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না। বেলা ১টার পর থেকেই রবীন্দ্র সংগীত বাজতে শুরু করবে বাংলার প্রতিটি প্রান্তে। কে কত বড় নেতা, আমি পঞ্চায়েত ও ব্লক ধরে তালিকা করে রেখেছি। সুদে আসলে হিসেব হবে। যাঁরা মানুষের পাশে দাঁড়াননি, উল্টে আমাদের বঞ্চিত করেছেন। শোষণ, নিপীড়ন করছেন, ভয় দেখাচ্ছেন তাঁদের তালিকা করেছি। হিসেব হবে ওইদিন।  

Advertisement

এদিন ঝাড়গ্রাম জেলার গোপীবল্লভপুর বিধানসভার কুলটিকরি এসসি মাঠে সভা করেন অভিষেক। দলীয় প্রার্থী অজিত মাহাতর সমর্থনে ওই সভায় কুড়মি সমাজের আবেগ নিয়ে বিজেপি নেতারা খেলছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। বলেন, ‘অজিত মাহাত, রাজেশ মাহাত কুড়মি সমাজের আবেগকে ব্যবহার করে বিজেপির সঙ্গে ডিল করে প্রার্থী হয়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার কুড়মালি ভাষাকে অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করতে কেন্দ্রকে চিঠি দিয়েছিল। দু’মাস হয়ে গেলেও প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কিছুই করেননি।’ এরপরই অভিষেক মহিলাদের সতর্ক করে বলেন, ‘বুধবার লোধাশুলিতে অন্নপূর্ণা যোজনার নামে বিজেপি নেতারা মাসে তিন হাজার টাকা দেওয়ার লোভ দেখিয়ে ফর্ম পূরণ করিয়েছেন। এঁদের ফাঁদে পা দেবেন না।’
ভোটের ঠিক মুখে কেন্দ্রের একাদিক এজেন্সির অতি সক্রিয়তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে অভিযোগ উঠছে। এদিন সেই প্রসঙ্গেও সরব হন অভিষেক। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে ইডি, সিবিআই, কমিশনকে লাগিয়ে কোনো লাভ নেই। যত কুৎসা করবে, তত গর্তে ঢুকবে। ওরা (বিজেপি) দেখবে আর জ্বলবে, লুচির মতো ফুলবে। আমাদের ধমকানো চমকানো হচ্ছে। দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এসে বলছেন, ২৩ তারিখ তৃণমূল কংগ্রেসের লোকজন বাড়ি থেকে বেরবে না। সবাইকে জেলে ঢুকিয়ে দেবে। গুজরাত থেকে এসে বাঙালিকে ভয় দেখানোর মতো এখনও কারও  জন্ম হয়নি ভারতের মাটিতে।’ 
অভিষেক বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যতই উদার হোক এবার আমার জেদ বেড়ে গিয়েছে। এবার খালি রবীন্দ্র সংগীত নয়, সঙ্গে ডিজেও বাজবে। আমাদের বাংলাদেশি, রোহিঙ্গা বলে দাগিয়ে দিয়েছে। তৃণমূলের সৌজন্যতা কখনও দুর্বলতা নয়। যাঁরা যে ভাষা বোঝেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সেই ভাষায় জবাব দিতে জানে। নবজোয়ারের সময় রাস্তায় তিন মাস ছিলাম। আমার সবচেয়ে বড় উপলব্ধি, মানুষের ক্ষমতার কাছে কারও ক্ষমতা টেকে না। মানুষ ভোট দিয়ে প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক নির্বাচিত করেন।’ 
পটাশপুরের সভায়ও একইভাবে আক্রমণের ঝাঁজ বজায় রাখেন অভিষেক। শেষে কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনারা বহিরাগতদের হারাবেন তো?’ কর্মীরা সমস্বরে জবাব দেন, হ্যাঁ। অভিষেক বলেন, ‘বাংলা-বিরোধীদের তাড়াবেন তো?’  কর্মীদের তরফে জবাব আসে হ্যাঁ। এরপরই অভিষেকের সংযোজন,  ‘আগামীদিনে বিজেপিকে লেজেগোবরে করে দেওয়ার শপথ নিতে হবে সবাইকে।’  

সম্পর্কিত সংবাদ