গুয়াহাটি: উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ছিল কলকাতায়। তাও আবার সঞ্চালক শাহরুখ খান। কিন্তু সাজানো মঞ্চ রাঙিয়ে তুলতে পারেননি অজিঙ্কা রাহানেরা। বেঙ্গালুরুর কাছে শোচনীয় হারের বেদনা নিয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন কলকাতা নাইট রাইডার্সের কর্ণধার। সেই ধাক্কা সামলে দ্বিতীয় ম্যাচেই জয়ের খোঁজ পেয়েছে কেকেআর। হাসি ফিরেছে শাহরুখের মুখে। বুধবার গুয়াহাটির বর্ষাপাড়া স্টেডিয়ামে উপস্থিত না থাকলেও দলের ক্রিকেটারদের শুভেচ্ছা জানাতে দেরি করেননি কিং খান। রাজস্থানের বিরুদ্ধে জয়ের পর ড্রেসিং-রুমে শাহরুখের ম্যাসেজ পড়ে শোনান সিইও বেঙ্কি মাইসোর। বাদাশার বার্তা, ‘মাঠে উপস্থিত থাকতে পারিনি, তার জন্য দুঃখিত। তবে দলের জয়ে দারুণ খুশি। আমার তরফ থেকে বোলারদের অভিনন্দন জানিও অজিঙ্কা। বরুণ, স্পেনসার, মঈন, হর্ষিত, বৈভব প্রত্যেকে দারুণ পারফরম্যান্স মেলে ধরছে। কুইন্টন এবং অঙ্গকৃষকে অভিনন্দন।’
রাজস্থানের বিরুদ্ধে কেকেআরের জয়ের রাস্তা প্রশস্ত হয়েছিল মূলত স্পিনারদের দাপটে। নারিন অসুস্থ থাকায় খেলানো হয় মঈনকে। সুযোগের সুদ্ব্যবহার করেছেন ইংল্যান্ডের বর্ষীয়ান অলরাউন্ডার। নারিনের অভাব টের পেতে দেননি তিনি। বল হাতে দু’টি উইকেট তুলে নেন মঈন। মিস্ট্রি স্পিনার বরুণ চক্রবর্তীর সঙ্গে যোগ্য সঙ্গত করে চাপে ফেলে দেন প্রতিপক্ষকে। ম্যাচের পর মঈন বলছিলেন, ‘আমার বোলিং পার্টনাররা বরবারই আমাকে ছাপিয়ে যায়। বরুণের সঙ্গে তাল মেলাতে কোনও সমস্যা হয়নি। ও অসাধারণ স্পিনার। গত তিন বছরে অভূতপূর্ণ উন্নতি করেছে। রাজস্থানের বিরুদ্ধে আমার পরিকল্পনা ছিল আঁটসাঁট বোলিং করে বিপক্ষ ব্যাটারদের চাপে রাখা। তাতে বরুণের কাজটা সহজ হয়েছে।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘সবার আগে আমি ব্যাটারদের পরিকল্পনা বোঝার চেষ্টা করি। চাপে পড়লে তারা কী কৌশল নিতে পারে, তা মাথায় রেখে বোলিংয়ের চেষ্টা করি। সেটা কাজে লেগেছে।’
কেকেআরের জয়ের নায়ক কুইন্টন ডি’কক ব্যাট হাতে আলো ছড়িয়েছেন। বাঁ-হাতি ওপেনার উপহার দেন অপরাজিত ৯৭ রানের ইনিংস। প্রোটিয়া তারকা বুঝিয়ে দেন, জাতীয় দল থেকে অবসর নিলেও ব্যাট হাতে তিনি এখনও ভয়ঙ্কর। ম্যাচের পর কুইন্টন বলছিলেন, ‘প্রথম ম্যাচে বড় রান না পেলেও আত্মবিশ্বাসী ছিলাম। তাছাড়া দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করায় সুবিধা হয়েছে। উইকেটকিপিং করার সময় পিচের চরিত্র বুঝতে পারি। এই উইকেটে খুব বেশি স্পিন না হলেও বল থেমে থেমে আসছিল। ব্যাট করা সহজ ছিল না। তাই বড় শট খেলতে গিয়ে বাড়তি বল প্রয়োগ করতে হয়েছে।’