নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: শীতের শুখা মরশুমেও জলবন্দি গলি। নিকাশি ব্যবস্থার বিপর্যয়ের ফলে চরম ভোগান্তিতে হাওড়া পুরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষ্মীনারায়ণ চক্রবর্তী লেনের বাসিন্দারা। এই ওয়ার্ডটি হাওড়া শহরের কদমতলা এলাকায়। দিনের পর দিন নোংরা জল জমে থাকায় কার্যত নরক যন্ত্রণা ভোগ করতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। স্কুল পড়ুয়া থেকে শুরু করে বয়স্ক মানুষ, সবাইকে থই থই নোংরা জল মাড়িয়েই যাতায়াত করতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন নিকাশি নালা পরিষ্কার না হওয়ায় এই দুর্দশা বলে অভিযোগ।
কদমতলা পোস্ট অফিস সংলগ্ন এলাকাটি এমনিতেই নীচু। ফি বর্ষায় জল জমে এখানে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত ছ’মাস হল পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নিয়েছে। শীত-গ্রীষ্ম পেরিয়ে গেলেও জল নামেনি। আসলে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে মূল নিকাশি নালা পরিষ্কার করা হয়নি। তার উপর গলির মুখে কর্পোরেশনের পানীয় জলের কল থেকে সকাল-সন্ধ্যা অনবরত জল পড়ছে। সেই জল নিকাশির পাঁক, মল-মূত্রের সঙ্গে মিশে ছড়িয়ে পড়ছে গোটা রাস্তায়। তৈরি হচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। সবচেয়ে বিপাকে পড়েছে ওই গলিতে থাকা ব্যাঁটরা পাবলিক লাইব্রেরি শিক্ষানিকেতন ফর গার্লস স্কুল। বাধ্য হয়ে নোংরা জল মাড়িয়েই স্কুলে ঢুকতে হয় পড়ুয়াদের। পরিস্থিতি সামাল দিতে আপাতত স্কুলের অন্য গেট ঢুকতে হচ্ছে ছাত্রীদের।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, জমা জলের সমস্যা আরও কয়েকগুণ বাড়িয়েছে গলির মুখে তৈরি হওয়া অস্থায়ী ভ্যাট। সেখানে দেদার আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। ফলে নিকাশি নালা কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা তথা ভুক্তভোগী জ্যোতির্ময় মুখোপাধ্যায় বলেন, স্থানীয় বরো অফিস থেকে শুরু করে পুরসভায় একাধিকবার নিকাশি নালা পরিষ্কারের আরজি জানানো হয়েছে। নর্দমা পরিষ্কার করলেই জল জমার সমস্যা আর থাকে না, অথচ পুরসভার কোনও হেলদোল নেই বলে অভিযোগ। ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা ধৃতি সান্যালের কথায়, জমা জলে গোটা এলাকা অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠছে। পড়ুয়াদের পাশাপাশি বাসিন্দাদের জন্যও এই পরিস্থিতি মারাত্মক বিপজ্জনক। দ্রুত সমস্যার সমাধানের দাবি জানিয়েছেন বাসিন্দারা। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে হাওড়া পুরসভা। নিজস্ব চিত্র