নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মার্চ মাসেই ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁই ছুঁই তাপমাত্রা। তাপমাত্রা যে হারে বাড়ছে, তার ফলে শুধু শারীরিক সমস্যাই বাড়ছে না, অবনতি হচ্ছে মানসিক স্বাস্থ্যেরও। বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা এই নতুন ধারা দেখে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বৃহস্পতিবার একটি বেসরকারি সংস্থা আয়োজিত কর্মশালায় তাঁদের এমন উদ্বেগের কথা বলেন চিকিত্সকরাই। শুধু তাপমাত্রা বৃদ্ধিই নয়, এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বায়ুদূষণও। দূষণ ও অস্বাভাবিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির জোড়াফলা মোকাবিলা করতেই শহরবাসী এই মুহূর্তে হিমশিম খাচ্ছেন।
সমীক্ষা বলছে, ২০২৪ সালে তাপজনিত কারণে ভারতে মোট ১৪৩ জনের মৃত্যু হয়। হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হন ৪১,৭৮৯ জন। আশঙ্কা, এই সংখ্যা এবছর আরও বাড়বে। কর্মশালায় ছিলেন বিধায়ক দেবাশিস কুমার। তিনি বলেন, ‘জলবায়ু সঙ্কট মোকাবিলায় পশ্চিমবঙ্গ অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। তবে তীব্র গরম ও বায়ুদূষণকে একসঙ্গে মোকাবিলা করার জন্য একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির প্রয়োজন।’
তীব্র তাপমাত্রার প্রভাব থেকে বাঁচার জন্য এদিন বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা একটি ‘সেফটি গাইড’ প্রকাশ করেন। চিকিত্সকদের বক্তব্য, আগেকার সময় তাপমাত্রা এতখানি বেড়ে যেত না। কিন্তু ইদানীং দেখা যায়, গরমকালে ডিপ্রেশন, স্কিৎজোফ্রেনিয়ার মতো রোগীদের সমস্যা অনেকখানি বেড়ে যায়। তবে এর সপক্ষে এখনও হাতের কাছে কোনও তথ্য নেই, যার দ্বারা প্রমাণ করা যায় যে অতিরিক্ত গরমের জন্যই এটা হচ্ছে। কিন্তু সেরকমই প্রবণতা লক্ষণীয়।
চিকিত্সকরা বলছেন, সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হল, এই গরমকালেই সাধারণ মানুষের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতাও বেড়ে যায়। ফুসফুস রোগ বিশেষজ্ঞ অরূপ হালদার বলেন, একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে কলকাতা শহরে অতিরিক্ত তাপমাত্রার জন্য বহু মানুষ মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। এখন কলকাতা শহরে বেশকিছু ‘হিট জোন’ চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানে পুরসভার তরফে তৈরি করা হচ্ছে ছায়া দেওয়ার জায়গাও। ফলে সমস্যায় পড়া মানুষ সুরাহা পান। ইমার্জেন্সি মেডিসিন বিশেষজ্ঞ সংযুক্তা দত্ত বলেন, অতিরিক্ত তাপের জন্য সমস্যা হলে অসুস্থ ব্যক্তিকে ঠান্ডা স্থানে নিয়ে যেতে হবে। প্রয়োজনে তাঁকে পাঠাতে হবে হাসপাতালে।