Bartaman Logo
১১ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

খয়রাশোলে কয়লা খনিতে ব্লাস্টিংয়ের জেরে বেশকিছু পাকা বাড়িতে ফাটল

বছরখানেক আগের ভয়াবহ বিস্ফোরণের জেরে প্রায় আটজনের মৃত্যুর স্মৃতি এখনও টাটকা।

খয়রাশোলে কয়লা খনিতে ব্লাস্টিংয়ের জেরে বেশকিছু পাকা বাড়িতে ফাটল
  • ৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: বছরখানেক আগের ভয়াবহ বিস্ফোরণের জেরে প্রায় আটজনের মৃত্যুর স্মৃতি এখনও টাটকা। তার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল বীরভূমের খয়রাশোল ব্লকের ভাদুলিয়া গ্রাম সংলগ্ন গঙ্গারামচক মাইনিং প্রাইভেট লিমিটেড কোলিয়রি এলাকা। ভাদুলিয়া গ্রামের বাসিন্দাদের অভিযোগ, খনিতে কয়লা উত্তোলনের জন্য নিয়মিত ফাটানো হচ্ছে ডিনামাইট। ব্লাস্টিংয়ের তীব্রতা এতটাই যে নিকটবর্তী লোকালয়ের ঘরবাড়ি থেকে শুরু করে মন্দিরের দেওয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। যে কোনও মুহূর্তে বড়সড় অঘটন ঘটতে পারে বলে অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে খনির রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভে শামিল হন স্থানীয় বাসিন্দারা। 

Advertisement


উল্লেখ্য, ২০২৪সালের ৭অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ খয়রাশোলের লোকপুর থানা এলাকার পিডিসিএল পরিচালিত গঙ্গারামচক খনিতে বিস্ফোরকভর্তি ট্রাকে বিস্ফোরণ ঘটে। তার জেরেই প্রাণ হারান ট্রাকচালক সহ আটজন। সকলের দেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। সেইসময় অবৈধ বিস্ফোরক মজুত ও ব্যবহারের অভিযোগ তুলে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল ফেলে দেয় বিরোধীরা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, তারপরও ওই খাদান কর্তৃপক্ষের ‘ঔদ্ধত্য’ কমেনি। খনি সংলগ্ন ভাদুলিয়া গ্রামের বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, প্রতিদিন খনিতে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরণ ঘটানো হচ্ছে। বিস্ফোরণের কম্পনে গ্রামের মন্দির, দোকানপাট থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের পাকা বাড়ির দেওয়ালে পর্যন্ত চওড়া ফাটল দেখা দিয়েছে। যে কোনও মুহূর্তে ঘর ভেঙে পড়ার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন বাসিন্দারা। ভাদুলিয়ার বাসিন্দা প্রিয়াঙ্কা রুইদাস বলেন, ব্লাস্টিংয়ের সময় ঘরে থাকতে পারি না। বিকট শব্দ ও কম্পনে ঘরের ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা আঁতকে ওঠে। আমরা শান্তিতে ঘুমাতে পর্যন্ত পারছি না। বাড়ির দেওয়ালের ফাটল চওড়া হচ্ছে। অথচ কর্তৃপক্ষ বা প্রশাসন কারও কোনও হেলদোল নেই। সখী রুইদাস বলেন, ব্লাস্টিংয়ের সময় ঘরের বাইরে বেরিয়ে যেতে হয় আমাদের। মনে হয়, এই বুঝি বাড়ির দেওয়াল ভেঙে পড়বে। সারাদিন আতঙ্কে থাকি। পুলিশ- প্রশাসন আমাদের কোনওরকম সাহায্য করছে না। আমরা কোথায় যাব? খনি কর্তৃপক্ষ বারংবার প্রতিশ্রুতি দিলেও আমাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে ব্যর্থ হচ্ছে। ভাদুলিয়ার আব্বাস খান বলেন, বহু বছর আগে খনি চালুর সময় গ্রামে বেকার ছেলেদের চাকরি, পানীয় জলের ব্যবস্থা, বিনামূল্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানির জন্য কয়লা, গ্রামের রাস্তাঘাটের বন্দোবস্ত করে দেওয়া প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু আমাদের কোনও দাবিই পূরণ হয়নি আজও। বরং, আমাদের কৃষিজমি খনি কর্তৃপক্ষ দখল করে নিয়েছে। এরই প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার গ্রামের শতাধিক বাসিন্দা এদিন খনির রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান। সকাল থেকেই খনির কাজকর্ম বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় লোকপুর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। গ্রামবাসী ও খনি কর্তৃপক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতা করার চেষ্টা চালানো হলেও বিক্ষোভকারীরা নিজেদের দাবিতে অনড় থাকেন। তবে, এদিন বিকেলে পিডিসিএল ও খনি কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেছে বলে সূত্রের খবর। পিডিসিএলের এক কর্তা বলেন, আলোচনার 
মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের সবরকম চেষ্টা করছি আমরা। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ