Bartaman Logo
৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বর্ধমানে বেহাল বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা, পুজোর আগে সংস্কার হবে তো?

অতিগুরুত্বপূর্ণ কৃষকসেতুই এখন আতঙ্কের কারণ হয়ে উঠেছে বর্ধমানের বাসিন্দাদের কাছে। ইষ্টনাম জপ করতে করতে সেতু দিয়ে পারাপার করতে হচ্ছে পথচারী থেকে বিভিন্ন যানবাহন আরোহীদের।

বর্ধমানে বেহাল বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা, পুজোর আগে সংস্কার হবে তো?
  • ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: অতিগুরুত্বপূর্ণ কৃষকসেতুই এখন আতঙ্কের কারণ হয়ে উঠেছে বর্ধমানের বাসিন্দাদের কাছে। ইষ্টনাম জপ করতে করতে সেতু দিয়ে পারাপার করতে হচ্ছে পথচারী থেকে বিভিন্ন যানবাহন আরোহীদের। খানাখন্দে জল জমে ডোবার চেহেরা নিয়েছে সেতুর উপরের রাস্তা। অন্যদিকে, শহর লাগোয়া উল্লাস উপনগরীর রাস্তা সংস্কারের দায়িত্বে রয়েছে জেলা পরিষদ। এখানকার রাস্তাও খানাখন্দে ভরে গিয়েছে। একই অবস্থা আউশগ্রামের রাস্তায়। মঙ্গলকোট, ভাতার, মেমারি, রায়না, জামালপুর সহ সব জায়গার রাস্তার ছবিটা একই রকম। উৎসবের মরশুমে আদৌ সমস্যা মিটবে কি না, তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছে জেলার বাসিন্দারা। তাঁরা বলছেন, ভোটের আগের পথশ্রী প্রকল্পে নাম কা ওয়াস্তে কাজ হয়। শুধু ঠিকাদার ও এক শ্রেণির জনপ্রতিনিধিদের পকেটে টাকা ঢুকেছে। এখন বৃষ্টি শুরু হতেই রাস্তা বেহাল হয়ে গিয়েছে।

Advertisement

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, অধিকাংশ পঞ্চায়েতে প্রধানরা এখনো আসছেন না। পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতিরাও অনিয়মিত হয়ে পড়েছেন। তারফলে তহবিলে টাকা থাকলেও ঠিকমতো কাজ হচ্ছে না। জেলায় ভিবিজি রামজি প্রকল্পের কাজে গতিও আসেনি, সব মিলিয়ে উন্নয়ন থমকে রয়েছে। বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, বৃষ্টির জন্য রাস্তার অবস্থা খারাপ হয়েছে। বৃষ্টি বন্ধ হলেই সরকার রাস্তা সংস্কারের কাজ করবে। তা ঘোষণা হয়েছে। এখন রাস্তা সংস্কার করলেও খুব বেশি লাভ হবে না। বৃষ্টিতে আবার খানাখন্দ তৈরি হয়ে যাবে। 
তৃণমূল নেতা দেবু টুডু বলেন, সাধারণ মানুষ নাজেহাল হয়ে যাচ্ছেন। বহু গ্রামের রাস্তায় যাতায়ত করা যাচ্ছে না। বর্ধমান, মেমারি বা গুসকরা শহরের বহু রাস্তা চলাচলের অযোগ্য হয়ে উঠেছে। পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি শ্যামাপ্রসন্ন লোহার বলেন, রাস্তা সংস্কার করা নিয়ে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে। বৃষ্টি বন্ধ হলেই কাজ শুরু হয়ে যাবে। রায়নার বাসিন্দা সৌভিক মণ্ডল বলেন, কৃষক সেতুতে যেকোনো দিন বড়ো ধরনের দুর্ঘটনা হতে পারে। প্রতিদিনই তীব্র যানজট তৈরি হচ্ছে। অ্যাম্বুলেন্স আটকে যাচ্ছে। প্রশাসন কেন পদক্ষেপ নিচ্ছে না, তা বোঝা যাচ্ছে না। ছাত্রছাত্রীদেরও সমস্যা হচ্ছে। এলাকার বাসিন্দারা আরও বলেন, প্রশাসন এগিয়ে না আসায় অনেক এলাকায় গ্রামবাসীরাই রাস্তা সংস্কারে উদ্যোগ নিচ্ছে। কয়েক দিন আগে জামালপুরে এই ছবি দেখা যায়। 
এক আধিকারিক বলেন, আগামী দিনে রাস্তা সংস্কারের কাজ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। কোনো ঠিকাদার নিয়ম না মেনে কাজ করলে বিল আটকে দেওয়া হবে। প্রয়োজনে তাঁকে কালো তালিকাভুক্ত করা হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ