সংবাদদাতা, ডোমকল: সামশেরগঞ্জ, রানিতলার পর এবার ভাঙনের আতঙ্ক রানিনগরে। চর মৌরুশি এলাকায় কয়েকশো বিঘা চাষের জমি গিলে খেল পদ্মা। প্রায় প্রতিদিনই নদীর পাড় ভাঙছে বলে অভিযোগ। দিনকয়েক আগেও যে জমিতে কলাইয়ের গাছ গজিয়ে উঠেছিল এখন তা পদ্মার গ্রাসে। চাষিদের আশঙ্কা, যে হারে পদ্মার ভাঙন শুরু হয়েছে তা দ্রুত রোধ না করলে আরও ভয়াল রূপ ধারণ করবে।
রানিনগরের কাতলামারি-২ পঞ্চায়েতের চর মৌরুশি এলাকাকে ওপার বাংলা থেকে আলাদা করেছে পদ্মা নদী। দুই দেশের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে পদ্মা। গত কয়েক বছরে ক্রমেই মানচিত্র বদলে যেতে শুরু করেছে। ভাঙনের জেরে ক্রমেই এগিয়ে আসছে পদ্মা। চর মৌরুশি বিওপি ক্যাম্প থেকে কয়েকশো মিটার দূরে পৌঁছে গিয়েছে পদ্মা। তবে তাতেও থেমে থাকেনি নদী। ক্রমেই তা সরে আসছে আরও ভারতীয় জমির দিকে। চাষিদের দাবি, প্রায় দু’কিলোমিটার এলাকাজুড়ে কয়েকশো বিঘা জমি পদ্মার গর্ভে বিলীন হয়ে গিয়েছে। এমনকী, যে জমিতে সদ্য কলাইয়ের চারা গজিয়েছিল দিনকয়েকের ব্যবধানে তাও এখন পদ্মার গর্ভে চলে গিয়েছে।
কয়েক সপ্তাহ আগে পদ্মায় ব্যাপকভাবে জল বাড়ায় মৌরুশির একটি অংশে পদ্মার চর পড়েছিল। কিন্তু এদিন গিয়ে দেখা গেল, একটু একটু করে পাড় ভাঙছে। ক্রমেই পদ্মার গর্ভে বিলীন হচ্ছে। পদ্মাপাড়ের চাষিদের দাবি, ওপারের রাজশাহীর দিকের অংশে শক্তিশালীভাবে ভাঙন রোধ করার ব্যবস্থা করেছে সেদেশের সরকার। কিন্তু এদিকের অংশে ভাঙন রুখতে কোনও ব্যবস্থা নেই। পাশপাশি নদীর গতিপথ পরিবর্তনের কারণে এভাবে ভাঙতে শুরু হয়েছে পদ্মার অংশ। দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা না করা হলে আরও ভয়ানক পরিস্থিতি তৈরি হবে। স্থানীয় চাষি স্বপন মণ্ডল বলেন, ওই এলাকায় আমার প্রায় ১১বিঘা জমি ছিল। তারমধ্যে চার বিঘা জমি পদ্মার ভাঙনে তলিয়ে গিয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে কিছুই আর অবশিষ্ট থাকবে না।
স্থানীয় চাষি পার্থ মণ্ডল, অসীম মণ্ডল বলেন, কয়েক দশক আগে আমাদের এলাকায় ব্যাপক ভাঙন হয়েছিল। তবে ইদানীং আবার ভাঙন শুরু হয়েছে। আমাদের বেশ কয়েক বিঘা জমি পদ্মার গর্ভে তলিয়ে গিয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আমাদের ভূমিহীন অবস্থায় পথে বসতে হবে।
বিএসএফের এক আধিকারিক বলেন, যে হারে ভাঙন শুরু হয়েছে তাতে অতি দ্রুত তা প্রতিরোধ করা দরকার। চাষিদের জমি ভেঙে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভাঙতে ভাঙতে পদ্মা ক্যাম্প থেকে কয়েকশো মিটারের মধ্যে চলে এসেছে। এভাবে চলতে থাকলে পরবর্তীতে আমাদের ক্যাম্পের কাছেও ভাঙন চলে আসতে পারে। রানিনগর-২ বিডিও কৃষ্ণনির্মাল্য ভট্টাচার্য বলেন, খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। দ্রুত বিষয়টি খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানাব।