নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: চা কেনা নিয়ে কড়া সিদ্ধান্ত একাধিক বড়ো সংস্থার। আর এরই জেরে উত্তরবঙ্গে চা শিল্পে আশঙ্কার মেঘ। চিঠি দিয়ে দু’টি নামী সংস্থার তরফে ইতিমধ্যে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সরকার নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে যদি বেশি কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ থাকে, তাহলে সেই চা কিনবে না তারা। এতেই বিপাকে পড়েছে বড়ো চা বাগানের একাংশের পাশাপাশি বটলিফ ফ্যাক্টরিগুলি। এই কড়াকড়ির জেরে বরাত বাতিল কিংবা চা বিক্রি কমবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। বিক্রি কমলে চায়ের দামও পড়ে যেতে পারে।
সরকারিভাবে নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও কয়েকটি কীটনাশক চোরাগোপ্তাভাবে উত্তরবঙ্গে বিক্রি হচ্ছে। এর আগেও ম্যাক্সিমাম রেসিডিউ লিমিট (এমআরএল) বেশি থাকায় আটকে গিয়েছে উত্তরের চায়ের রপ্তানি। আর এবার সরাসরি চিঠি দিয়ে চা কেনার ক্ষেত্রে এমআরএল নিয়ে নামী একাধিক সংস্থা নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে দেওয়ায় চাপ বাড়ল বিক্রেতাদের। এনিয়ে সবচেয়ে ফাঁপরে পড়েছে বটলিফ কর্তৃপক্ষ। কারণ, তারা মূলত ক্ষুদ্র বাগান থেকে কাঁচা পাতা কিনে চা তৈরি করে। পাতা কেনার সময় কোন বাগানে নিষিদ্ধ কীটনাশক বা বেশি মাত্রায় ব্যবহার করা হয়েছে, তা বোঝার উপায় নেই তাদের।
চা কেনার ক্ষেত্রে এমআরএল নিয়ে বড়ো সংস্থাগুলির কড়া অবস্থানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন ইন্ডিয়ান টি এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান অংশুমান কানোড়িয়া। তিনি বলেন, ফুড সেফটি আইন নতুন নয়। কিন্তু সেটা না মেনে যাঁরা চায়ে যথেচ্ছ হারে কীটনাশক ব্যবহার করে থাকেন, তাদের উৎপাদিত চা বিক্রি না হওয়া উচিত। বড়ো ক্রেতা যদি কড়া অবস্থান নেয়, তখন বাগানগুলির টনক নড়বে।
কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান স্মল টি গ্রোয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বিজয়গোপাল চক্রবর্তী বলেন, আমরা ক্ষুদ্র চা চাষিদের বোঝাচ্ছি। কিন্তু নিষিদ্ধ কীটনাশক বাজারে বিক্রি হচ্ছে কীভাবে? এটা বন্ধে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো উচিত। বটলিফ ফ্যাক্টরি মালিকদের সংগঠন নর্থবেঙ্গল টি প্রোডিউসার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নীরজ পোদ্দার বলেন, বটলিফকে একা দাগিয়ে দিলে চলবে না। আমরা ক্ষুদ্র বাগান থেকে কাঁচা পাতা কিনি। ফলে দায় তাদের বেশি।