নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: টিউশন পড়তে যাওয়ার পথে গণধর্ষিতা সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। শনিবার সন্ধ্যার এই ঘটনা ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল দমদমে। অভিযান চালিয়ে রাতেই তিন অভিযুক্তকে পাকড়াও করে পুলিশ। ধৃত যুবকদের নাম সঞ্জু সাহা, ভিকি পাসোয়ান ও রাকেশ ওরফে রাজেশ পাসোয়ান। রবিবার তাদের বারাকপুর মহকুমা আদালতে তোলা হয়। সঞ্জুকে পাঁচ দিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। বাকি দু’জনকে জেল হেপাজত। পুলিশ জানিয়েছে, টিআই প্যারেডের পর তাদের হেপাজতে নেওয়া হবে। বারাকপুরের পুলিশ কমিশনার মুরলিধর শর্মা বলেন, ‘শনিবার মধ্যরাতে দমদমে ছাত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। রাতেই অভিযান চালিয়ে দমদম থেকে তিন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’ রবিবার নিগৃহীতার মেডিকেল টেস্ট করানো হয়। পাশাপাশি আদালতে তার গোপন জবানবন্দিও নেওয়া হয়েছে।
দমদম পুরসভার কমলাপুর লাগোয়া কলোনিতে ওই নাবালিকার বাড়ি। স্থানীয় একটি স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। ছোট থেকেই সে দাদু ও দিদার কাছে মানুষ। কারণ, দ্বিতীয় বিয়ে করে সাত বছর আগে তার মা চলে যান টালিগঞ্জে। সঞ্জু সাহা পেশায় টোটোচালক। ছাত্রীর বাড়ির অদূরেই পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকে। মাঝেমধ্যে তার টোটো চেপেই ওই ছাত্রী দমদম গোরাবাজার এলাকায় টিউশন পড়তে যেত। সেইজন্য ছাত্রীর ফোন নম্বর ছিল সঞ্জুর কাছে। পুলিশ সূত্রে খবর, তাঁদের মধ্যে কিছুদিন ধরেই ফোনে কথাবার্তা চলত।
জানা গিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যায় ওই ছাত্রী নিজের সাইকেলে টিউশন পড়তে গোরাবাজার এলাকায় এসেছিল। সেখানে সঞ্জুর সঙ্গে দেখা হয়। সঞ্জুই সেখানে তার সাইকেল রাখার ব্যবস্থা করে। এরপর টোটোয় চেপে সে ছাত্রীকে নিয়ে কমলাপুর কিশলয় সংঘের পার্কে যায়। সেখানে দু’জন বেশ কিছুক্ষণ গল্প করে। এরমধ্যেই সেখানে হাজির হয় সঞ্জুর বন্ধু তথা গাড়িচালক ভিকি পাসোয়ান। এরপর সঞ্জু তাদের নিয়ে প্রায় আড়াই কিমি দূরে মতিলাল কলোনিতে অপর বন্ধু রাকেশ পাসোয়ানের ভাড়া বাড়িতে যায়। রাকেশের স্ত্রী ও ছেলে সেসময় বাড়িতে ছিল না। সেখানেই সঞ্জু একটি ঘরে ছাত্রীকে প্রথমে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। তারপর ভিকি নির্যাতন চালায়। তাদের অত্যাচারে ওই ছাত্রী কান্নাকাটি শুরু করে। এরপর রাকেশ আসে। সান্ত্বনা দেওয়ার অছিলায় সেও ছাত্রীকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। এই ঘটনার কথা যাতে কাউকে না বলে, তা নিয়ে তিনজনই ছাত্রীকে হুমকি দেয়। এরপর রাত ৯টা নাগাদ ছাত্রীকে অটোয় চাপিয়ে কমলাপুর এলাকায় ছেড়ে দিয়ে আসে সঞ্জু ও ভিকি। কোনওরকমে বাড়ি ফিরে অসুস্থ অবস্থায় দাদু ও দিদাকে গোটা ঘটনা জানায় ছাত্রী। রাতেই ছাত্রীর মা বাপের বাড়িতে চলে আসেন। এরপর মেয়েকে নিয়ে গিয়ে দমদম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ রাতভর অভিযান চালিয়ে তিন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে।