জয়পুর: দিনকয়েক ধরে লাগাতার ভারী বৃষ্টি। তার জেরেই শুক্রবার ক্লাস চলাকালীন রাজস্থানের ঝালাওয়ারে ভেঙে পড়ল স্কুলের ছাদ। দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে সাত পড়ুয়ার। আহত ২৮ জন। তাদের মধ্যে সংকটজনক অবস্থায় আইসিইউতে চিকিৎসাধীন দু’জন। জানা গিয়েছে, এরা সকলেই সপ্তম শ্রেণির পড়ুয়া। ঝালাওয়ারের পিপলোড়ি গভর্নমেন্ট স্কুলের এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সমস্ত রকমের সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। স্থানীয়দের একাংশের কথায়, ২০ বছরের পুরনো এই স্কুল বিল্ডিংয়ের অবস্থা খুব একটা ভালো ছিল না। প্রশাসনকে বিষয়টি আগেই জানানো হয়েছিল। কিন্তু সংস্কার করা হয়নি।
শুক্রবার সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ ক্লাস চলাকালীন আচমকাই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে স্কুলের ছাদ। ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে পড়ে বহু পড়ুয়া। বিকট শব্দ পেয়ে ছুটে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিস, দমকল ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। হাজির হন জেলাশাসক সহ জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরাও। পরিবার-পরিজনের আর্তনাদের মাঝেই ইট-পাথরের ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে শুরু হয় উদ্ধারকাজ। নিজেদের সন্তানের সন্ধানে এদিক-ওদিক ছুটতে শুরু করেন অভিভাবকরা। পরের দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় চারটি আর্থ মুভার্স। দুর্ঘটনায় এপর্যন্ত মোট সাত জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত কমপক্ষে ২৮ জন। ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে পড়ুয়াদের উদ্ধার করে তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ঝালাওয়ারের পুলিস সুপার অমিত কুমার জানিয়েছেন, আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। আহতদের নিকটবর্তী হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ঘটনায় শোকপ্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘ঝালাওয়ারের ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। মৃতদের পরিবারকে আমার সমবেদনা জানাই। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।’ রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মা জানিয়েছেন, আহতদের চিকিৎসার জন্য যাবতীয় ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুরো বিষয়টির উপর নজর রাখছে জেলা প্রশাসন। ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী মদন দিলাবর।