নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: গ্রামীণ এলাকার নিকাশির জল গিয়ে পড়ছে ছোট-বড় পুকুর কিংবা নদীতে। ‘গ্রে ওয়াটার’-এর কারণে দূষিত হচ্ছে গঙ্গা। বিপন্ন হওয়ার মুখে জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণীর বাস্তুতন্ত্র। তাই ‘গ্রে ওয়াটার’ থেকে নদী দূষণ বন্ধ করতে উদ্যোগী হয়েছে হাওড়ার সাঁকরাইল ব্লকের মানিকপুর গ্রাম পঞ্চায়েত। এলাকায় একাধিক নিকাশির মুখে তৈরি করা হচ্ছে ‘সেটলার চেম্বার’। সেই সঙ্গে ‘ভার্টিক্যাল ফিল্টার চেম্বার’ তৈরির কাজও চলছে জোরকদমে। এগুলির মাধ্যমে গ্রামীণ এলাকার নিকাশির জল পরিশোধন করে ফেলা হবে নদীতে।
পঞ্চায়েত সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘সেটলার চেম্বার’-এর ছোট ছোট প্রকোষ্ঠে নিকাশির নোংরা জল বা ‘গ্রে ওয়াটার’ গিয়ে পড়বে। চেম্বারের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে সেই জল পরিশোধন হবে। এরপর পরিশোধিত জল ফেলা হবে ছোট-বড় জলাশয়, খাল-বিল বা জলাশয়ে। গঙ্গায়ও সেই জল ফেলা যাবে সরাসরি। এতে জল দূষণের মাত্রা অন্তত ৮০ শতাংশ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। গোটা পঞ্চায়েত এলাকায় আপাতত এমন সাতটি ‘সেটলার চেম্বার’ তৈরির প্রকল্প শুরু হয়েছে। খরচ হচ্ছে মোট ২৪ লক্ষ টাকা। পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইতিমধ্যে একটি সেটলার চেম্বার তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। বাকিগুলির জন্য চলছে টেন্ডার প্রক্রিয়া।
আরও জানা গিয়েছে, গ্রামের যেসব এলাকায় এখনও নিকাশিনালা তৈরি হয়নি, সেখানে সাধারণত বাড়ির বাইরে মাটিতে গর্ত খুঁড়ে সেখানেই শৌচকার্যে ব্যবহৃত দূষিত জল ফেলা হয়। এই জল ভূগর্ভস্থ জলস্তরকে আরও দূষিত করে তুলছে। তাই সাতটি ‘সেটলার চেম্বার’ ছাড়াও গ্রামের বিভিন্ন এলাকায় ১৩ লক্ষ টাকা খরচে ১৭টি ‘ভার্টিক্যাল চেম্বার’ তৈরির কাজ চলছে।
ইতিমধ্যে ন’টির কাজ শেষ। সাঁকরাইলের বিডিও সৈকত দে বলেন, ‘বাড়ির নিকাশির জল বিভিন্ন জলাশয়ের মাধ্যমে গঙ্গায় মিশে ভয়ানক দূষণ ছড়ায়। বহু জলজ প্রাণী ও উদ্ভিদ অস্তিত্ব হারাচ্ছে। এই পদ্ধতিতে জল দূষণ আটকানোর পাশাপাশি বাস্তুতন্ত্রও সংরক্ষিত হবে।’ - নিজস্ব চিত্র