নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাতভর টানা বৃষ্টির জেরে শিয়ালদহ ডিভিশনের বিভিন্ন অংশ মঙ্গলবার সকাল থেকে অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ ছিল। তার সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে চক্ররেল পরিষেবায়। লাইনে জলমগ্ন হওয়ার ফলে গোটাদিন চক্ররেল পরিষেবা বন্ধ ছিল। শিয়ালদহ সাউথ, নর্থ ও মেইন সেকশনে এদিন হাজার হাজার যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েন। শিয়ালদহ থেকে একাধিক দূরপাল্লার গাড়িও বাতিল হয়। এর পাশাপাশি শিয়ালদহ থেকে রানাঘাট ও বনগাঁর এসি লোকালও বাতিল করা হয়। শিয়ালদহ স্টেশন থেকে বালিগঞ্জ পর্যন্ত আপ-ডাউনের বিভিন্ন অংশে ট্র্যাক জলে ডুবে যায়। তার ফলে যার ফলে হাজার হাজার যাত্রী শিয়ালদহ থেকে বালিগঞ্জ পর্যন্ত রেললাইন ধরে হাঁটতে শুরু করেন। সারাদিন কাজকর্ম করে বিকেলে মাথায় ব্যাগ নিয়ে শ্রমিকদের রেললাইন ধরে হাঁটতে দেখা যায়। ক্যানিংয়ের বাসিন্দা মনোহর রায় বলছিলেন, ‘১ ঘণ্টা পায়ে হেঁটে এলাম। পার্ক সার্কাসে হাঁটুর উপর জল জমে রয়েছে। পা যন্ত্রণায় ছিঁড়ে যাচ্ছে।’ মঙ্গলবার বিকেল থেকেই দেখা যায়, পার্ক সার্কাস স্টেশনের দিক থেকে শিশু ও মহিলাসহ অগণিত মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা হেঁটে আসছেন। দৌড়ে এসেও চোখের সামনে দিয়ে নামখানা লোকাল চলে গেল মনিরুলের। ভারী ব্যাগ পিঠে নিয়ে তিনি বলছিলেন, ‘আজকে না বেরোলে টাকা পেতাম না। আবার কখন ট্রেন দেবে জানি না।’ যাত্রী নিরাপত্তার কারণে সকাল থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত (শেষ পাওয়া খবর) এই অংশে ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। বালিগঞ্জ থেকে দক্ষিণ শাখার বিভিন্ন অংশে বিক্ষিপ্ত রুটে এদিন ট্রেন চলাচল করেছে। যাত্রীদের অভিযোগ, ট্রেন চললেও তা ছিল অনিয়মিত। বৃষ্টির সৌজন্যে রেলের সময়সূচি এদিন লাটে ওঠে। অন্যদিকে, শিয়ালদহ মেইন ও নর্থ সেকশনে এদিন সকাল থেকে ট্রেন পরিষেবা বিপর্যস্ত হয়। বেলার দিকে পাম্প করে জল তোলার কাজ শুরু হয়। তখন ধীরে ধীরে শুরু হয় ট্রেন চলাচল। লোকাল ট্রেন পরিষেবা বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি শহরে কয়েক দশকের রেকর্ড বর্ষণের প্রভাব পড়ে দূরপাল্লার ট্রেনে। একাধিক মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেন এদিন বাতিল হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে হলদিবাড়ি, হাজারদুয়ারি, শিয়ালদহ-জঙ্গিপুর, কলকাতা-বালুরঘাট প্রভৃতি। এছাড়া জম্মু-তাওয়াই, অমৃতসর সাইরং এক্সপ্রেস এদিন কয়েক ঘণ্টা পর যাত্রা শুরু করে। রেলের দাবি, এদিন সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ দক্ষিণ শাখায় শিয়ালদহ থেকে ট্রেন চলাচল শুরু হয়। কিন্তু যাত্রীদের অভিযোগ পরিষেবা চালু হতে রাত ন’টা বেজে যায়।



