নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জামশেদপুরের চান্ডিলের হোটেল ব্যবসায়ী নিখার সবলোক খুনের ঘটনায় জড়িত শ্যুটারদের সুপারির টাকা পেতে সাহায্য করেছিল বেলেঘাটা ট্রাফিক গার্ডের সার্জেন্ট অয়ন গুপ্ত ও মহিলা সিভিক ভলান্টিয়ার টুইঙ্কল দাস। তাঁরা ইউপিআই অ্যাকাউন্টের ব্যবস্থা করে দিয়েছিল মূল ষড়যন্ত্রকারীকে। কলকাতা থেকেই টাকা গিয়েছিল শ্যুটারদের কাছে। খুনের ঘটনায় জড়িত শ্যুটারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছিলেন মহিলা সিভিক টুইঙ্কল। ধৃতদের মোবাইল ঘেঁটে এই তথ্য পেয়েছে খুনের তদন্তে গঠিত ঝাড়খণ্ডের স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (সিট)। একইসঙ্গে খুনের মূল ষড়যন্ত্রকারী অশোক সিং ওরফে রাঘবকে কলকাতায় আশ্রয় দেবার ব্যবস্থা করে দিয়ে ট্রাফিক সার্জেন্ট এবং সিভিক ভলান্টিয়ার দুজনে মোটা টাকা পেয়েছিলেন বলে দাবি করেছে ঝাড়খণ্ড পুলিশ। হোটেল ব্যবসায়ী খুনের ঘটনায় ট্রাফিক সার্জেন্ট এবং সিভিককে বৃহস্পতিবার রাতেই গ্রেপ্তার করে ঝাড়খণ্ড পুলিশ।
নিখার সবলোক হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত অশোকের মোবাইলের কল লিস্ট ঘেঁটে কলকাতা পুলিশের বেলেঘাটা ট্রাফিক গার্ডের সার্জেন্ট অয়ন গুপ্ত ও সিভিকের নাম পান তদন্তকারীরা। এরপরই ঝাড়খণ্ড পুলিশের টিম লালবাজার পৌঁছে ওই দুজনকে ডেকে পাঠায়। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেপ্তার করে রাতেই তাঁদের ঝাড়খণ্ড নিয়ে যাওয়া হয়। শুক্রবার স্থানীয় আদালতে তোলা হয় দুজনকে।
ঝাড়খণ্ড পুলিশ জেনেছে, অশোকের সঙ্গে পরিচয় ছিল সিভিক টুইঙ্কলের। ওই সিভিকের ঝাড়খণ্ডে যাতায়াত রয়েছে। ২৩ আগস্ট টুইঙ্কলকে ফোন করে মুল ষড়যন্ত্রকারী অশোক সিং। সিটের দাবি নিখারকে খুনের পরিকল্পনার বিষয়টি তাঁকে জানায় অশোক। সুপারি নিয়ে কারা অপারেশনে থাকবে, তা নিয়েও দু’জনের মধ্যে কথাবার্তা হয়। অশোকের মোবাইলের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট থেকে এই তথ্য উঠে এসেছে। সেখানে মূল পরিকল্পনাকারী এও জানায়,খুনের দিন অর্থাৎ ২৪ আগস্ট সে কলকাতায় থাকবে। থাকার ব্যবস্থা করতে বলে। ওই সিভিক সার্জেন্টকে গিয়ে জানান, ঝাড়খণ্ডের এক পরিচিত কলকাতা আসবে। তারজন্য হোটেলের ব্যবস্থা করে দিতে হবে। অভিযুক্ত সার্জেন্ট অশোককে থাকার ব্যবস্থা করে দেয় বলে জেনেছে ঝাড়খণ্ড পুলিশ। অশোক দুজনকে জানায়, একটা ইউপিআই অ্যাকাউন্টের ব্যবস্থা করে দিতে হবে। সেখান থেকে পেমেন্ট যাবে সুপারি কিলারদের কাছে। সেইমতো সার্জেন্ট ও সিভিক ইউপিআই ওয়ালেটের ব্যবস্থা করে দেন। অশোকের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা আসে কলকাতার ইউপিআই অ্যাকাউন্টে। সেখান থেকে টাকা চলে যায় কিলারদের কাছে। অ্যাকাউন্ট ঘুরে টাকা যাওয়ার নথি ঝাড়খণ্ড পুলিশের হাতে এসেছে। এর বিনিময়ে ট্রাফিক সার্জেন্ট এবং সিভিক টাকা পেয়েছিলেন বলে অভিযোগ। মূল অভিযুক্তের সঙ্গে যোগাযোগ কীভাবে এবং কত টাকা পেয়েছিলেন তাঁরা, ধৃতদের জেরা করে জানতে চাইবেন তদন্তকারীরা।