Bartaman Logo
১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

রাজনৈতিক চাপ! ২৩ ঘণ্টার ঘেরাওয়ে ইস্তফা উপাধ্যক্ষের, তরন্নুমের পদত্যাগের পর সুরেন্দ্রনাথে ‘শুদ্ধকরণ’

পড়ুয়াদের হাতে ২৩ ঘণ্টা ঘেরাও এবং রাজনৈতিক চাপ সবমিলিয়ে শুক্রবার পদত্যাগ করতে বাধ্য হলেন সুরেন্দ্রনাথ ল’কলেজের উপাধ্যক্ষ মহম্মদি তরন্নুম।

রাজনৈতিক চাপ! ২৩ ঘণ্টার ঘেরাওয়ে ইস্তফা উপাধ্যক্ষের, তরন্নুমের পদত্যাগের পর সুরেন্দ্রনাথে ‘শুদ্ধকরণ’
  • ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পড়ুয়াদের হাতে ২৩ ঘণ্টা ঘেরাও এবং রাজনৈতিক চাপ—সবমিলিয়ে শুক্রবার পদত্যাগ করতে বাধ্য হলেন সুরেন্দ্রনাথ ল’কলেজের উপাধ্যক্ষ মহম্মদি তরন্নুম। উপস্থিতির হার কম থাকা সত্ত্বেও তাঁদের পরীক্ষায় বসতে দিতে হবে। এই দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুর ২টো থেকে কলেজে ঘেরাও হয়ে ছিলেন তিনি। অবশেষে শুক্রবার চাপে পড়ে দুপুর ১টা নাগাদ ইস্তফাপত্র দিয়ে রেহাই পান তরন্নুম। তিনি কলেজ থেকে বেরনোর পর উল্লাসে ফেটে পড়েন পড়ুয়ারা। এমনকি, কলেজে গঙ্গাজল ছিটিয়ে ‘শুদ্ধকরণ’ও করেন তাঁরা।

Advertisement

এদিন ছাত্রসংগঠন এবিভিপির ঝান্ডা নিয়ে বিক্ষোভে শামিল হন পড়ুয়ারা। উপস্থিত ছিলেন রাজ্যস্তরের নেতারাও। পড়ুয়াদের দাবি, যে উপস্থিতির হার নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, সেই রেজিস্টারই নেই কলেজে। নিয়মিত ক্লাস না হওয়া, সকাল সাড়ে ৬টা থেকে ক্লাস শুরু হওয়ার ফলে দূরের ছাত্রছাত্রীদের অসুবিধা, খোদ উপাধ্যক্ষর দেরিতে কলেজে আসার মতো অভিযোগ ছিল তাঁদের। উপাধ্যক্ষর বক্তব্য, ‘আমাকে অন্ধকারের মধ্যে আটকে রাখা হয়েছিল। আমার সঙ্গে থাকা দু’জন শিক্ষককেও বের করে দেওয়া হয়। জল পর্যন্ত ছিল না।’ হাজিরা নিয়ে বলেন, ইআরপি’র মাধ্যমে হাজিরা নেওয়া হয়। সমস্ত হাজিরার তথ্য কলেজের ওয়েবসাইটেও দেওয়া হয়েছে। তাই রেজিস্টার না থাকার কথা ঠিক নয়। তিনি যোগ করেন, তাঁকে বামপন্থী বলা হচ্ছে। এটা ঠিকই, তিনি একসময় সক্রিয়ভাবে বামপন্থী রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। তবে, ২০১৬ সাল থেকে কোনো রাজনীতির সঙ্গেই তিনি যুক্ত নন। তৃণমূল আমলে দেবাশিস মুখোপাধ্যায় তাঁকে হেনস্তা, গালিগালাজ করতেন। তিনি বিধানসভা নির্বাচনে পরিবর্তন চেয়ে বিজেপিকে ভোটও দিয়েছেন। তবে, শিক্ষাক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন হয়নি বলেই আক্ষেপ তাঁর। ঘেরাও চলাকালীন কলেজ পরিচালন সমিতির সভাপতি কৌস্তুভ বাগচি, ডিপিআই মধুমিতা মান্না, উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়কে জানিয়েছেন। কিন্তু সুরাহা হয়নি। তাই তিনি তাঁদের কাছে ইস্তফাপত্র পাঠাতে বাধ্য হয়েছেন।
কৌস্তুভ বলেন, ‘বার কাউন্সিলের নিয়ম, সুপ্রিম কোর্টের অর্ডার অনুযায়ী ৭০ শতাংশ হাজিরা না থাকলে পরীক্ষায় বসতে দেওয়া যায় না। বড়োজোর পাঁচ শতাংশ ছাড় মিলতে পারে। তবে, কলেজে হাজিরার রেজিস্টারই নেই। নিয়মিত ক্লাস হয় না। সকালে ক্লাস করতে আসা ছাত্রছাত্রীরা কলেজ তালাবন্ধ দেখতে পান। ভারপ্রাপ্ত শিক্ষিকা ঢোকেন সকাল ১০টা-১১টা নাগাদ। সেক্ষেত্রে ছাত্রছাত্রীরা হাজিরা দেবে কোথায়?’ তবে, একজন অধ্যাপিকাকে এভাবে হেনস্তার প্রতিবাদ জানিয়েছে কুটা, ওয়েবকুটা, অ্যাবুটার মতো অধ্যাপক সংগঠন এবং সমিতিগুলি। তাদের বক্তব্য, হাজিরা কম সত্ত্বেও পরীক্ষা দিতে দেওয়ার দাবি অন্যায্য। আর এর জন্য একজন মহিলাকে রাতভর ঘেরাও রাখা রীতিমতো অপরাধ। যদিও, এক ছাত্রী বলেন, তাঁকে ঘেরাও করে রাখা হয়েছিল ঠিকই। তবে কোনোভাবেই উত্ত্যক্ত বা হেনস্তা করা হয়নি। বরং, কলেজে থাকা ছাত্রীরা রাতে জল না থাকার কারণে সমস্যায় পড়েছেন। প্রথম বর্ষের এক ছাত্র বলেন, ‘পাপ গিয়েছে। তাই গঙ্গাজল দিয়ে ক্যাম্পাস এবং অফিসঘর শুদ্ধ করা হয়েছে।’ ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে পরীক্ষা শুরু হতে চলেছে। তবে, অভিভাবকহীন পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা এখনই কেউ বলতে পারছেন না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ