প্রীতেশ বসু, কলকাতা: হাতে সময় আর মাত্র সাত মাস। খরচ করতে হবে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা। রাজ্যের ১২৮টি পুরসভা এলাকায় পানীয় জল সরবরাহ, নিকাশি ব্যবস্থার উন্নয়ন, জলাশয় পুনরুজ্জীবন এবং সবুজায়নের লক্ষ্যে গৃহীত ‘অম্রুত’ প্রকল্পের এটাই বর্তমান চিত্র! অর্থাৎ, প্রতিদিন অন্তত ২৭ কোটি টাকা খরচের ‘অসাধ্যসাধন’ করতে হবে রাজ্যকে। অন্যথায় হাতছাড়া হতে পারে এই খাতে রাজ্যের পাওয়া বিপুল অঙ্কের বরাদ্দ।
তৃণমূল পরিচালিত সরকারের সময় থেকেই কেন্দ্রীয় সহায়তাপ্রাপ্ত এই প্রকল্পের কাজ চলছে। কাজের অগ্রগতি নিয়ে সম্প্রতি রাজ্য সরকারের পর্যালোচনায় উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। সেখানে দেখা যাচ্ছে, এই প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ অর্থের একটা বড়ো অংশ খরচ করা হয়নি। কাজ বাকি পড়ে রয়েছে বহু জায়গায়। ‘অম্রুত’ (২.০) প্রকল্পের সময়সীমা শেষ হচ্ছে চলতি অর্থবর্ষেই। ফলে যা করার করতে হবে আগামী বছরের ৩১ মার্চের মধ্যে। ফলে এই অল্প সময়ের মধ্যে কেন্দ্রীয় অনুদান খরচের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করতে কার্যত দিশাহারা অবস্থা নবান্নের। অগত্যা সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই ব্লু প্রিন্ট তৈরি করেছে রাজ্য। এর দায়িত্বে রয়েছে পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর। কাজের গতি বাড়ানোর লক্ষ্যে ঝাঁপাচ্ছে রাজ্যের ১২৮টি পুরসভা। সংশ্লিষ্ট এক পদস্থ কর্তা জানিয়েছেন, প্রথমেই দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা পুরানো সমস্ত কাজের বকেয়া বিল মিটিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তার আগে অবশ্যই কাজগুলির গুণমান যাচাই করে নেওয়া হবে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, ৫০-৬০ শতাংশ কাজ হয়ে যাওয়ার পর নানা কারণে অগ্রগতি থমকে গিয়েছে। এসব ক্ষেত্রে রাজ্যে পালাবদলের পর কাজের টাকা পাওয়া নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছিল ঠিকাদারদের মধ্যে। এতদিনে তাঁদের সেই সংশয় কাটানো গিয়েছে বলেই দাবি কর্তাদের। ফলে যেসব কাজ শ্লথ গতিতে চলছিল বা একেবারে থমকে গিয়েছিল, এবার তার গতি বাড়বে বলে আশাবাদী রাজ্য প্রশাসন। সেই সঙ্গে বিভিন্ন পুরসভার পাঠানো প্রস্তাব যাচাই করে নতুন কাজ হাতে নেওয়ার প্রক্রিয়াও চালু হয়েছে।
অভিজ্ঞ আমলারা জানাচ্ছেন, এই প্রকল্পের টাকায় নিকাশি ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জলাশয় পুনরুজ্জীবনের মতো কাজ করা হয় ঠিকই। তবে পুর এলাকায় বাড়ি বাড়ি পানীয় জল সরবরাহ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে টাকার মূল উৎস এই প্রকল্পের অর্থই। প্রসঙ্গত, সরকারে এসে বাড়ি বাড়ি পানীয় জলের সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই মতো পুরসভাভিত্তিক প্রকল্প সাজিয়ে ফেলা হয়েছে। পরিকল্পনামাফিক কাজ এগলে দিনে ২৭ কোটি খরচের টার্গেট ছুঁয়ে ফেলাও অসম্ভব নয় বলে মনে করছে আমলা মহল। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা খরচ না করা গেলে তা কি কোনোভাবেই বাঁচানো যাবে না?
এক আধিকারিক বলেন, ‘কেন্দ্র যদি অম্রুত ৩.০ প্রকল্প চালু করে, তাহলে খরচ না হওয়া অর্থ নতুন পর্যায়ের বরাদ্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যাবে। তা না করে কেন্দ্র যদি চলতি প্রকল্পের সময়সীমা বাড়ায়, সেক্ষেত্রেও টাকা থেকে যাবে। এই দুয়ের কোনোটাই না হলে খরচ না হওয়া টাকা হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কাই বেশি।’