Bartaman Logo
২ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

প্রায় অর্ধশতাব্দী পর মন্ত্রী পেল শ্রীরামপুর

কোথাও প্রায় ৪৯ বছরের অপেক্ষার অবসান তো কোথাও বাবার স্বপ্নপূরণ। রাজ্যের বিজেপি সরকারের নতুন মন্ত্রিসভায় হুগলির দুই প্রতিমন্ত্রীকে ঘিরে এমনই অভিব্যক্তির সমাবেশ।

প্রায় অর্ধশতাব্দী পর মন্ত্রী পেল শ্রীরামপুর
  • ২ জুন, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: কোথাও প্রায় ৪৯ বছরের অপেক্ষার অবসান তো কোথাও বাবার স্বপ্নপূরণ। রাজ্যের বিজেপি সরকারের নতুন মন্ত্রিসভায় হুগলির দুই প্রতিমন্ত্রীকে ঘিরে এমনই অভিব্যক্তির সমাবেশ। গোপাল দাসনাগের পরে মন্ত্রী পায়নি শ্রীরামপুর। সেই প্রায় ৪৯ বছর আগের কাহিনি। এবার পুরানো দিনের বিজেপি কর্মী তথা এবারের বিধায়ক ভাস্কর ভট্টাচার্যকে মন্ত্রী করেছে দল। সাবেক কংগ্রেসি বিধায়ক বীরেন সরকারের মেয়ে বলাগড়ের বিজেপি বিধায়ক সুমনা সরকারকেও মন্ত্রী করা হয়েছে। একদা তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী, হুগলি জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন মুকুল রায়ের হাত ধরে। পরে মুকুল তৃণমূলে ফিরলেও ফেরেননি সুমনা। রাজনৈতিক মহলের দাবি, ভাস্কর বহুবছরের আনুগত্যের, আরএসএস ভাবধারায় অবিচল থাকার পুরস্কার পেয়েছেন। আর সুমনা পেয়েছেন মাটি কামড়ে থাকার জন্য সাফল্য‌। 

Advertisement

দুজন মন্ত্রী পেয়ে উচ্ছ্বসিত বিজেপি শিবির। দুই মন্ত্রী নির্বাচনের পিছনের পরিকল্পনার কথাও স্মরণ করাচ্ছেন দলের অনেকে। একজন পুরুষ ও একজন মহিলাকে নির্বাচন করা হয়েছে। আবার, ভাস্কর শ্রীরামপুর সাংগঠনিক জেলার প্রতিনিধি, অন্যদিকে সুমনা হুগলি সাংগঠনিক জেলার। তবে আক্ষেপও আছে, পূর্ণমন্ত্রী জোটেনি জেলার ভাগ্যে। আম জনতা অবশ্য অঙ্কের ধার ধারছেন না। তাঁরা চাইছেন নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি পূরণ। ইতিমধ্যেই প্রত্যাশার পারদ তুঙ্গে উঠেছে। 
শ্রীরামপুরের সমাজ ও সাংস্কৃতিক কর্মী সমীর সাহা বলেন, শিল্প থেকে উন্নত চিকিৎসা প্রত্যাশা অনেক আছে। সেইসঙ্গে শ্রীরামপুরে একটি ভালো অডিটোরিয়ামের অভাব নাগরিক মহলকে প্রতিদিন ব্যথা দেয়। আশা করব, সেই সমস্যা এবার মিটবে। শ্রীরামপুরের নতুন প্রতিমন্ত্রী ভাস্কর বলেন, প্রায় অর্ধশতাব্দী পেরিয়ে যাওয়ার মুখে শ্রীরামপুরের বিধায়ককে মন্ত্রী করা হয়েছে। ফলে, প্রত্যাশা যেমন থাকবে তেমন দায়িত্বও অনেক। প্রাথমিকভাবে আমার তিনটি পরিকল্পনা আছে। শ্রীরামপুরে একটি মেডিকেল কলেজ, শ্রীরামপুর কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় করা এবং পর্যটন সার্কিট তৈরি করা। মানুষের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। তাই তাঁদের প্রত্যাশা পূরণের দায় পালন করব।বলাগড়ের বিধায়ক ছিলেন বাবা। মেয়ে সুমনা, বাবার ছেড়ে যাওয়া জুতোয় পা গলিয়েছিলেন আগেই। তৃণমূলের হাত ধরে রাজনীতির অঙিনায় পরিচিতিই পেয়েছিলেন। সদ্য বিধায়ক হয়ে বাবাকে ছুঁয়েছেন। তারপর সোমবার শপথ নিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে। বলা যায়, সরকার পরিবারের রাজনৈতিক বৃত্ত সম্পূর্ণ হয়েছে। মন্ত্রী হয়েই সোমবার হুগলিতে ফিরে বাঁশবেড়িয়ায় শ্বশুরবাড়িতে গিয়েছিলেন সুমনা। সেখানে সুমনা বলেন, বলাগড়কে আগেই বড়ো প্রকল্প দিয়েছেন মোদিজি। সেখানে বন্দর তৈরি হবে, বিপুল কর্মসংস্থান হবে। পাশাপাশি, বলাগড়ের ভাঙন প্রতিরোধ, নৌকাশিল্পের বেহাল দশার উন্নতি, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় স্মৃতিসংরক্ষণের মতো কাজ করতে হবে। সবচেয়ে বড়ো কথা প্রান্তিক বলাগড়কে উন্নতির রাজপথে নিয়ে আসতে হবে। বলগড়ের ইতিহাসে প্রথম মন্ত্রীর গলায় প্রত্যয়ের সুর।   

সম্পর্কিত সংবাদ