Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দক্ষিণ ২৪ পরগনায় একযাত্রায় পৃথক ফল, তালিকা নিয়ে ক্ষোভ, লিস্টে রয়েছেন পঞ্চায়েত কর্মাধ্যক্ষ

এসআইআরের প্রথম ধাপের চূড়ান্ত তালিকা বেরতেই অদ্ভুত সব কাণ্ড সামনে আসছে। কোথাও একই পরিবারের বাকিদের নাম উঠলেও কোনো একজনের ওঠেনি

দক্ষিণ ২৪ পরগনায় একযাত্রায় পৃথক ফল, তালিকা নিয়ে ক্ষোভ, লিস্টে রয়েছেন পঞ্চায়েত কর্মাধ্যক্ষ
  • ২ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: এসআইআরের প্রথম ধাপের চূড়ান্ত তালিকা বেরতেই অদ্ভুত সব কাণ্ড সামনে আসছে। কোথাও একই পরিবারের বাকিদের নাম উঠলেও কোনো একজনের ওঠেনি। অথচ সবাই নথি জমা দিয়েছিলেন। কোথাও আবার একই কারণে শুনানিতে ডাকা হলেও পরিবারের একজনের নাম উঠেছে, অন্যজনের নাম বাতিল করা হয়েছে। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম থাকার পরও এবার কারও নাম হয় বাদ গিয়েছে, না হয় বিচারাধীন রয়েছে। কাকদ্বীপ, বারুইপুর, সোনারপুর, ক্যানিং, মহেশতলা সহ একাধিক এলাকায় এমন একই যাত্রায় পৃথক ফলের মতো ঘটনা সামনে এসেছে। 

Advertisement

শুনানির পর চূড়ান্ত ভোটার তালিকার প্রথম পর্ব প্রকাশ হতেই কাকদ্বীপজুড়ে শোরগোল পড়েছে। কারণ কাকদ্বীপের শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ গ্রাম পঞ্চায়েতের তিন সদস্যের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এছাড়াও এই বিধানসভার প্রতাপাদিত্য নগর গ্রাম পঞ্চায়েতে ৮৫ নম্বর বুথের বহু ভোটারের নাম ২০০২ সালের তালিকায় থাকলেও এবার তাঁদের বিচারাধীন করে দেওয়া হয়েছে। যা নিয়ে চিন্তায় তাঁরা। এদিকে, তাঁদের মতো সাগর পঞ্চায়েত সমিতির আটবারের কর্মাধ্যক্ষ আব্দুল সামির শাহকেও তালিকায় বিচারাধীন রাখা হয়েছে। যা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। এই প্রবীণ তৃণমূল নেতা সাগরের মুড়িগঙ্গা-২ নম্বর পঞ্চায়েত এলাকার ৩৪ নম্বর বুথের ভোটার। শুনানিতে ডাকা হয়েছিল তাঁকে। সব নথিপত্র জমা দেওয়ার পরও তাঁকে বিচারাধীন করে দেওয়ায় প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। 
ক্যানিং পশ্চিমে দেখা গিয়েছে, স্বামী ও দুই সন্তানের নাম থাকলেও স্ত্রীর নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। মাতলা ২ নম্বর পঞ্চায়েতের বাসিন্দা রাধারানি দে জানান, সবাই নথিপত্র জমা দিয়েছিলাম। তাহলে তাঁর নামের পাশে কেন ডিলিট লেখা হল? একই কাণ্ড সোনারপুর উত্তরে। সেখানে ২০৬ নম্বর বুথে তথ্যের গরমিলের জন্য এক ভাই ও বোনকে শুনানিতে ডাকা হয়েছিল। দু’জনেই একই নথি জমা দিয়েছিলেন। চূড়ান্ত তালিকায় বোনের নাম উঠেছে। ভাইয়ের নাম ডিলিট করে দেওয়া হয়েছে। বারুইপুরের শিখরবালি ২ নম্বর পঞ্চায়েতে ২৮৪ জনের নাম কাটা গিয়েছে। অথচ, তাঁদের বেশিরভাগেরই নাম ২০০২ সালের তালিকায় ছিল বলে জানা গিয়েছে। একটি পরিবারে বাবা ও মায়ের নাম থাকলেও ছেলের নাম নেই। বজবজ পুরসভা এলাকায় এমন একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। পুরসভার চেয়ারম্যান গৌতম দাশগুপ্ত বলেন, ৯ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় শতাধিক বৈধ ভোটারের নাম নেই। সব তথ্য এলে এই সংখ্যা আরও বাড়বে। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ ভোটাররাও। এছাড়াও বারুইপুর পুরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল সভাপতি রবিউল মিস্ত্রির নামের পাশে বিচারাধীন লেখা রয়েছে। এই ঘটনায় তিনি অবাক।
পুজালি পুরসভা এলাকায় তিন হাজারের মতো নাম বিচারাধীন হয়ে রয়েছে। মহেশতলায় ৪৭ হাজার ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। বিচারাধীন তিন হাজারের মতো। পুর চেয়ারম্যান দুলাল দাস বলেন, বাদ যাওয়া ভোটরদের মধ্যে কতজন বৈধ, তার হিসাব করা হচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ