Bartaman Logo
৩ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সূর্যাস্ত থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত নির্মাণকাজে এবার গ্রামেও নিতে হবে পৃথক অনুমতি, আসছে নয়া বিল্ডিং রুলস

আকাশচুম্বী বহুতল উঠছে বাংলার গ্রামীণ এলাকাতেও। ফলে দিবারাত্রি নির্মাণ কাজ চলছে শহরের গণ্ডি ছাড়িয়েও। বিশেষত রাতের অন্ধকারে কাজ চলায় বিঘ্নিত হচ্ছে গ্রামাঞ্চলের নীরবতা ও শান্তির পরিবেশ।

সূর্যাস্ত থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত নির্মাণকাজে এবার গ্রামেও নিতে হবে পৃথক অনুমতি, আসছে নয়া বিল্ডিং রুলস
  • ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আকাশচুম্বী বহুতল উঠছে বাংলার গ্রামীণ এলাকাতেও। ফলে দিবারাত্রি নির্মাণ কাজ চলছে শহরের গণ্ডি ছাড়িয়েও। বিশেষত রাতের অন্ধকারে কাজ চলায় বিঘ্নিত হচ্ছে গ্রামাঞ্চলের নীরবতা ও শান্তির পরিবেশ। শহর এলাকার তুলনায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বসবাসে অভ্যস্ত মানুষের ঘুম উড়ছে তার ফলে। তাই এবার সূর্যাস্ত থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত নির্মাণ কাজে রাশ টানতে চলেছে রাজ্য সরকার।

Advertisement

সূত্রের খবর, কয়েকমাসের মধ্যেই নয়া বিল্ডিং রুলস আনতে চলেছে নবান্ন। রাজ্য পঞ্চায়েত দপ্তরের তত্ত্বাবধানে তৈরি হচ্ছে এই নয়া নীতি। তার খসড়া তৈরির হয়ে গিয়েছে এবং মূল্যায়ন করছে অর্থদপ্তর। মূল্যায়নের কাজটিও প্রায় শেষের পর্যায়ে। কিন্তু রাজ্যে নয়া বিল্ডিং রুলস তৈরির প্রয়োজন পড়ছে কেন? প্রশাসনিক মহলের বক্তব্য, রাজ্যে বর্তমানে সুনির্দিষ্ট কোনো বিল্ডিং রুলস নেই। বিক্ষিপ্ত কিছু নিয়ম আছে। সেসবের ভিত্তিতেই চলছে বিল্ডিং প্ল্যানের অনুমোদন প্রদান। ফলে গ্রামাঞ্চলেও বেআইনি নির্মাণের মারাত্মক আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। আঁচ পেয়েই সুনির্দিষ্ট বিল্ডিং রুলস তৈরির নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেইমতো কাজ শুরু করে পঞ্চায়েত দপ্তর।

রাজ্যের প্রতিটি পুর এলাকায় বহুদিন ধরেই সূর্যাস্ত থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত নির্মাণ কাজের উপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এই সময়কালে নিতান্তই কাজ করতে হলে বিশেষ অনুমতি নেওয়া জরুরি। গ্রামাঞ্চলের জন্য বিল্ডিং রুলস তৈরি করতে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের সঙ্গেও কথা বলে পঞ্চায়েত দপ্তর। সেইসময়ই রাতের অন্ধকারে নির্মাণ কাজে রাশ টানতে পুর এলাকার মতো গ্রামীণ এলাকাতেও একই নিয়ম চালু করার সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্য। ফলে গ্রামীণ এলাকাতেও সূর্যাস্তের পরে নির্মাণ কাজ করতে গেলে নিতে হবে বিশেষ অনুমোদন। আর তা দেওয়া হবে দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের নিয়ম মেনেই। কারণ, সূর্যাস্তের পরে কাজ হলে দূষণের মাত্রা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পায়। মূলত শব্দদূষণের কবলে পড়তে হয় নির্মাণ এলাকার আশপাশের বাসিন্দাদের।

রাজ্যের এক প্রশাসনিক কর্তা জানান, সূর্যাস্তের পরবর্তী কাজে পরিবেশগত সমস্যা আছে। আবার, বেআইনি নির্মাণ ঠেকাতেও এর একটি বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, রাতের অন্ধকারে সকলের নজর এড়িয়ে কোনো বহুতলে অনুমোদন ছাড়াই একটা অংশ নির্মাণ করে ফেলা হয়েছে। আর অবৈধ নির্মাণ একবার হয়ে গেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাগ্রহণ যথেষ্ট সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। এই পরিস্থিতিতে নয়া নিয়ম চালু হলে বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধেও রাশ টানা যাবে বলে আশাবাদী মত প্রশাসনিক মহল।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ