Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘সংবেদনশীলতা’র প্রশিক্ষণ শুরু চিকিৎসক ও নার্সদের!

‘সংবেদনশীলতা’র প্রশিক্ষণ শুরু চিকিৎসক ও নার্সদের!
  • ২৭ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সংবেদনশীলতা সহজাত। মানুষ মানুষের পাশে দাঁড়াবে। সাধ্যমতো প্রতিকারের চেষ্টা করবে। সেটাই স্বাভাবিক। বিশেষত স্বাস্থ্যক্ষেত্রে ‘সংবেদনশীলতা’ এবং ‘সংবেদনশীলতার অভাব’—এই দুই শব্দের তাৎপর্য অপরিসীম। প্রিয়জন হারানো সন্তান-সন্ততি, স্বামী-স্ত্রী, পিতা-মাতা অথবা আশঙ্কাজনক রোগীকে হাসপাতালে আনা প্রিয়জন বা ক্রমে অবস্থা খারাপ হতে থাকা বাড়ির কাছের মানুষ—প্রতিটি ক্ষেত্রে পরিস্থিতির সেরা ‘ওষুধ’ হতে পারে সংবেদনশীল হওয়া। আর সেটাই এখন দুর্লভ বস্তু! পরিস্থিতি বিচার করে তাই ‘সংবেদনশীল’ হওয়ার প্রশিক্ষণ শুরু করল স্বাস্থ্যদপ্তর। চলতি মাসে ১৪ জেলা হাসপাতালের ৫৬ চিকিৎসক ও নার্সদের এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হল। পরবর্তী প্রশিক্ষণ মে মাসে। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের মনোরোগ বিভাগের প্রধান ডাঃ গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায় ও ইনস্টিটিউট অব সাইকিয়াট্রি’র ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ডঃ দোয়েল ঘোষ এই প্রশিক্ষণ দেন।

Advertisement

অন্তত পাঁচ থেকে ছ’টি পরিস্থিতি তুলে ধরে কীভাবে প্রতিকূল অবস্থা ম্যানেজ করতে হবে, তার বিস্তারিত প্রশিক্ষন হয়েছে প্রথম দফায়। যেমন—১) আউটডোরে তুমুল ভিড়। তিনজনের জায়গায় এসেছেন দু’জন ডাক্তার। লম্বা লাইন। রোগীদের গলদঘর্ম অবস্থা। অশান্তি শুরু হয়েছে। রাগ বাড়ছে চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের উপর ২) মৃত রোগীকে ইমার্জেন্সিতে এনেছেন একদল বাড়ির লোকজন। আশা করে আছেন, শেষ একটা চেষ্টা হয়ত করবেন চিকিৎসক। হয়ত মিরাকেল কিছু একটা হতে পারে ৩) সদ্য রোগী মারা গিয়েছেন। খবর বাড়ির লোককে জানাতে হবে। প্রচুর লোকজন হাসপাতালে ভিড় করেছেন। উত্তেজনা, হইচই দেখে এসেছে পুলিস। তারা দু’জন বাড়ির লোককে ভিতরে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে। তখন কীভাবে কথা বলবেন তাঁদের সঙ্গে ৪) ফার্মাসিতে লম্বা লাইন। ঘন্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়েও সব ওষুধ মিলছে না। বাইরে থেকে কিনতে বলা হচ্ছে। ফলে রাগ বাড়ছে। প্রশিক্ষণে বলা হয়েছে, এইসব ক্ষেত্রে মেজাজ সামলান। চেম্বারের ভিড় বা বাড়ির অশান্তির রেশ কর্মক্ষেত্রে যেন না পড়ে। না হলে সমস্যা বাড়বে। আর বাড়িতে মেজাজ দেখালে কি ফল ভালো হয়? দ্বিতীয়ত, সংবেদনশীল হন। আপনার প্রিয়জন না হতেই পারে, কিন্তু যাঁকে মরণাপন্ন অবস্থা ইমার্জেন্সিতে আনা হয়েছে, তিনি কারও না কারও ভাই-বোন, বাবা অথবা মা। সেই আবেগের মর্যাদা দিন। তৃতীয়ত, রোগীর প্রতি ‘আহা, উহু’ করে লাভ নেই। বরং তাঁর বা পরিবারের প্রতি কমপ্যাশনেট বা সংবেদনশীল হন। হৃদয়ের সঙ্গে দরকার ঠান্ডা মাথায় প্রয়োজনীয় প্রতিকার। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ