


নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: বাগুইআটি কাণ্ডের তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেল পুলিস। ভোলা হালদার খুনে অভিযুক্ত স্ত্রী উপাসনাকে এখনও গ্রেপ্তার করতে না পারলেও তার ইতিহাস খুঁজতে গিয়ে বিস্মিত তদন্তকারীরা। জানা গিয়েছে, শুধু দ্বিতীয়পক্ষের স্বামীকে খুন নয়। এর আগে প্রাক্তন স্বামীর রহস্যমৃত্যুতেও অভিযুক্ত ছিল ভোলার স্ত্রী উপাসনা! সেবারও এফআইআর হওয়ার পর সে পালিয়ে গিয়েছিল। ভিন রাজ্যে চলে গিয়েছিল।
পুলিস উপাসনার এক পুরুষবন্ধুকে গ্রেপ্তার করেছে। ভোলাকে খুনে ধারালো অস্ত্রটি সে সরবরাহ করেছিল পুলিস জানতে পেরেছে। ধৃতের নাম শুভ রাজবংশী। তাকে শুক্রবার বারাসত জেলা আদালতে পেশ করা হয়েছিল। তদন্তের স্বার্থে পুলিস তাকে রিমান্ডে নিতে চেয়ে আবেদন করেছিল। আদালত তার ১০ দিনের পুলিসি হেফাজত মঞ্জুর করেছে।
বাগুইআটির জগৎপুর চড়কতলায় ভাড়া থাকতেন ভোলা হালদার এবং তাঁর স্ত্রী উপাসনা। দু’জনেই দ্বিতীয়বার বিয়ে করেছিলেন। বুধবার দুপুরে বাথরুম থেকে ভোলার রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার হয়। অভিযোগ, কাটারি দিয়ে কুপিয়ে উপাসনা ভোলাকে খুন করে পালিয়ে যায়। বাড়ি মালিক বাগুইআটি থানায় অভিযোগও দায়ের করেন। ওই ঘটনার পর পুলিস শুভকে আটক করেছিল। তাকে জেরা করে পুলিস জানতে পারে, সে অস্ত্র দিয়েছিল। তারপরই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। উপাসনার সঙ্গে তার প্রণয়ঘটিত সম্পর্ক চলছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিস।
পুরনো কেস হিস্ট্রিতে দেখা গিয়েছে, উত্তর ২৪ পরগনার গোবরডাঙায় উপাসনার প্রথমপক্ষের স্বামীর রহস্যমৃত্যু হয়েছিল। ওই ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে উপাসনার নামে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে ৩০৬ (আইপিসি) ধারায় আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার মামলা রুজু করেছিল পুলিস। সেই মামলার এখনও কিনারা হয়নি। তারই মধ্যে সে ভোলাকে দ্বিতীয়বার বিয়ে করেছিল। পুলিস জানিয়েছে, উপাসনার খোঁজ চলছে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গিয়েছে, বুধবার ভাড়াবাড়ি থেকে বেরিয়ে সে উল্টোডাঙা যাওয়ার একটি বাসে উঠেছে। উল্টোডাঙা থেকে তার গতিবিধির খোঁজ করা হচ্ছে।