Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রায়নায় মৃত চাষির অ্যাকাউন্ট থেকে কৃষক বন্ধু প্রকল্পের টাকা হাতিয়ে নেওয়ায় চাঞ্চল্য

রায়নায় এক মৃত চাষির অ্যাকাউন্ট থেকে কৃষকবন্ধু প্রকল্পের টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ওই চাষির আত্মীয় শেখ জহিরুল এবিষয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

রায়নায় মৃত চাষির অ্যাকাউন্ট থেকে কৃষক বন্ধু প্রকল্পের টাকা হাতিয়ে নেওয়ায় চাঞ্চল্য
  • ২ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: রায়নায় এক মৃত চাষির অ্যাকাউন্ট থেকে কৃষকবন্ধু প্রকল্পের টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ওই চাষির আত্মীয় শেখ জহিরুল এবিষয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি জানান, তাঁর দাদুর অ্যাকাউন্টে কৃষকবন্ধুর ১৪হাজার টাকা জমা পড়েছিল। দাদু মারা যাওয়ায় সেই টাকা সরকারকে ফেরত দেওয়ার জন্য আবেদন করা হয়। তখনই তাঁরা জানতে পারেন, অ্যাকাউন্ট থেকে ১৪হাজার টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। পরিবারের কেউ টাকা তোলেনি। বিষয়টি ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছিল। সমাধান না হওয়ায় থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে এলাকারই কেউ যুক্ত বলে তিনি সন্দেহ করছেন।

Advertisement

পুলিস জানিয়েছে, সরকারি প্রকল্পের উপভোক্তা মারা গেলে বিষয়টি দপ্তরে চিঠি দিয়ে জানাতে হয়। ওই পরিবার প্রথমে সেটা না করায় অ্যাকাউন্টে টাকা জমা পড়ে। সেটি কে বা কারা তুলে নিয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মৃত কৃষকের পরিবারের দাবি, তাঁরা কাউকে ওটিপি শেয়ার করেননি। প্রতারকদের ফোনও আসেনি। তা সত্ত্বেও কীভাবে অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলে নেওয়া হল, সেটা তাঁরা বুঝতে পারছেন না। এবিষয়ে পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, সাইবার প্রতারকরা ফোন করার পাশাপাশি অনেক সময় লিঙ্ক পাঠিয়েও প্রতারণা করে। কেউ যাতে অচেনা ব্যক্তিকে নিজেদের ব্যাঙ্ক-সংক্রান্ত তথ্য না জানান, সেবিষয়ে লাগাতার সচেতনতা প্রচার চলছে।
এর আগেও প্রতারকরা সরকারি প্রকল্পের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। গতবছর পূর্ব বর্ধমান জেলার বিভিন্ন স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে ট্যাবের টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছিল। পূর্ব মেদিনীপুর, নদীয়া জেলারও বহু পড়ুয়ার অ্যাকাউন্ট থেকে এভাবে টাকা সরানো হয়। উত্তর দিনাজপুর ও বিহার থেকে এই প্রতারণার জাল বিছানো হয়েছিল। পরে পুলিস সাইবার প্রতারকদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি মোটা অঙ্কের টাকা উদ্ধার করে। সরকারি প্রকল্পের টাকা যাতে এভাবে প্রতারকরা হাতিয়ে নিতে না পারে, সেজন্য রাজ্য সরকার একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
শেখ জহিরুলের দাবি, তাঁর পরিবারের আরও এক সদস্যের টাকা একইভাবে অ্যাকাউন্ট থেকে উধাও হয়েছে। তাঁর অ্যাকাউন্টেও কৃষকবন্ধু প্রকল্পের টাকা জমা পড়েছিল। তাই এঘটনায় এলাকারই কেউ যুক্ত থাকতে পারে। পুলিস জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ