সংবাদদাতা, কালনা: ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর দোকান ও বাড়িতে হামলা হয়েছিল। মারধরের ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সেই তৃণমূল কর্মীর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার হল স্থানীয় ক্লাব ঘরে। নাদনঘাট থানার দোলগোবিন্দপুর এলাকার ওই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পরিবারের দাবি, তাঁকে মেরে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। মৃতের নাম অসিত দেবনাথ(৪৫)। পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কালনা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে পাঠিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জানা গিয়েছে, নাদনঘাট থানার পূর্বস্থলী-১ ব্লকের দোলগোবিন্দপুর এলাকার বাসিন্দা অসিতবাবুর ডেকরেটরের ব্যবসা রয়েছে। তিনি সক্রিয় তৃণমূলকর্মী ছিলেন। ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাঁর বাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ। তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। প্রতিদিনই তাঁকে নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা নাগাদ কয়েকজন তাঁকে স্থানীয় একটি ক্লাবে ডেকে নিয়ে যান বলে পরিবারের দাবি। ঘণ্টা খানেক পরেই পরিবারের লোকজন জানতে পারেন ক্লাব ঘরে তাঁর দেহ ঝুলছে। তাঁকে উদ্ধার করে শ্রীরামপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে শ্রীরামপুর গ্রামীণ হাসপাতালে যান এলাকার পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী স্বপন দেবনাথ। তাঁকে দেখে কান্নায় ভেঙে পরেন পরিবারের লোকজন। তৃণমূল করার অপরাধে তাঁকে প্রাণ দিতে হল বলে অভিযোগ তোলেন। মৃতের ভাই অসীম দেবনাথ বলেন, দাদা তৃণমূল করত। ডেকরেটরের ব্যবসা থাকায় সকলের সঙ্গেই ভালো সম্পর্ক ছিল। ভোটের ফলাফল ঘোষণা হতেই দাদাকে বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা মারধর ও বাড়ি দোকানে হামলা চালায়। পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা নাগাদ দাদাকে কয়েকজন ডেকে নিয়ে যায় স্থানীয় ক্লাবে। ঘণ্টা খানেক পরেই খবর পাই দাদার দেহ ক্লাব ঘরে ঝুলছে। আমাদের অনুমান, তৃণমূল করার অপরাধে দাদাকে মেরে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। স্বপনবাবু বলেন, ভোটের ফলাফল ঘোষণা হতেই এলাকায় নৈরাজ্য তৈরি হয়েছে। তৃণমূল কর্মী সমর্থকদের উপর হামলা। বাড়ি দোকান ভাঙচুর করা হচ্ছে। নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। অসিত আমাদের দলের সক্রিয়কর্মী ছিল। ফল ঘোষণার পর থেকেই ওকে মারধর, বাড়িতে হামলা চালানো হয়। এদিন ওকে ডেকে নিয়ে গিয়ে ক্লাবে মেরে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। এলাকায় শান্তি বজায় থাক এটাই চাই। বিজেপির কিষান মোর্চার রাজ্য সভাপতি রাজীব ভৌমিক বলেন, যে কোনো মৃত্যু দুঃখজনক। বিজেপি উচ্ছৃঙ্খলা বরদাস্থ করে না। রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন কোনো অশান্তির ঘটনায় কড়া হাতে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে। কাউকে রেয়াত করা হবে না। সন্ত্রাস খুন তৃণমূলীদের কালচার। ফল ঘোষণার পর অনেক তৃণমূল কর্মী কপালে গেরুয়া টিপ লাগিয়ে আমাদের দলকে কালিমালিপ্ত করতে অশান্তি করছে। আমাদের কোনোকর্মী ঘটনার সঙ্গে যুক্ত নয়। আমি চাই পুলিশ পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করুক। শোকার্ত পরিবারের সঙ্গে তৃণমূল নেতা স্বপন দেবনাথ। নিজস্ব চিত্র